kalerkantho

সোমবার। ৪ মাঘ ১৪২৭। ১৮ জানুয়ারি ২০২১। ৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

অবৈধ সনদে নার্সের চাকরি, সানোয়ারার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু

আবদুল কাদির, পার্বতীপুর(দিনাজপুর)   

২৭ নভেম্বর, ২০২০ ১৬:৩৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অবৈধ সনদে নার্সের চাকরি, সানোয়ারার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু

'সনদ জালিয়াতি করে নার্সের চাকরি, ফাঁস করলেন সাবেক স্বামী'  কালের কণ্ঠ  অনলাইনে এ প্রতিবেদনটি গত ৩১ আগস্ট প্রকাশিত হওয়ার পর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু হয়েছে। গত ১৬ নভেম্বর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ঢাকার পরিচালক (প্রশাসন) ডা. শেখ মোহাম্মদ হাসান ইমাম মহাপরিচালক নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরকে লেখা ও স্বাক্ষরিত পত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। পত্রে মো. সানোয়ারা আকতার ,নার্স এম আবদুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, দিনাজপুরের বিরুদ্ধে সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরি করে অর্থ আত্মসাতের কথা বলা হয়েছে। 

এ দিকে ভুক্তভোগী তাজরিয়ান বাবু (৩৪) বলেছেন, স্বাস্থ্য বিভাগের অনিয়ম, দুর্নীতি শুরু হয়েছে অনেক আগে থেকে। পচনের বিস্তৃতি ঘটেছে অনেক জায়গায়, শাখা-প্রশাখায়।

এই ভুক্তভোগীর নাম তাজরিয়ান বাবু (৩৪)। বাবার নাম আব্দুস সামাদ, মা মো. মাহমুদা বেগম। বাড়ি দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের সরকার পাড়া গ্রামে।  কালের কণ্ঠকে বলেছেন, আমি বিয়ে করেছিলাম দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার রণগাঁ গ্রামের শামসুদ্দিন আহমেদ ও রেজিয়া খাতুনের ১ম কণ্যা মোছাঃ সানোয়ারা আক্তারকে (৩২)। ২০১২ সালে আমাদের বিয়ে হয় রেজিষ্ট্রি করে। এর আগে ২০১০ সালে মোবাইল ফোনে আমাদের পরিচয় হয়।  একই বছরে আমরা দুজনে দিনাজপুর ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে হাজির হয়ে অ্যাফিডেভিট করি। সে সময় সানোয়ারা আক্তার কুড়িগ্রাম সরকারি নার্সিং ইনস্টিটিউটে তিন বছর মেয়াদি নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কোর্স করছিলেন। বাংলাদেশ নার্সিং কাউন্সিল প্রদত্ত তাঁর স্টুডেন্ট রেজিঃ নম্বর ছিল ৩৫২৪৮।

২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সিনিয়র নার্স পদে সানোয়ারা আক্তারের চাকরি হয়। এর আগে তাজরিয়ান বাবু জানতে পারেন, তাঁর স্ত্রী সনদ জালিয়াতি করে কুড়িগ্রাম সরকারি নার্সিং ইনস্টিটিউটে ভর্তি হয়েছিলেন। 

সানোয়ারা আক্তারের এসএসসি ও এইচএসসি পাসের সনদ থেকে জানা যায়, সে দিনাজপুরের রানীগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০০২-২০০৩ সেশনের পরীক্ষার্থী ছিল। পাস করেছে ২০০৫ সালে (রাজশাহী বোর্ড)। তার প্রাপ্ত গ্রেড পয়েন্ট ছিল জিপিএ ২.৭৫, রোল নম্বর-৩৫৯৩৭৮, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৮৩৫৫৮৬/২০০২-০৩। এরপর ২০০৮ সালে সে রাজশাহী বোর্ডের অধীনে দিনাজপুরের চাঁদগঞ্জ কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ ৩.১০ পেয়ে পাস করে। তার রোল নম্বর ছিল ৮৫০৪৩৩। এইচএসসি পাসের পর সানোয়ারা আক্তার কুড়িগ্রাম গভ. নার্সিং ইনস্টিটিউটে ভর্তির চেষ্টা করেন। ওই সময় ঘোষিত সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী তিন বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তির জন্য প্রয়োজন ছিল এসএসসি ও এইচএসসি মিলে ৭.৫০ পয়েন্ট। 
কিন্তু তার এই পয়েন্ট ছিল না। তাঁর ছিল এসএসসি ২.৭৫+এইচএসসি ৩.১০=৫.৮৫। এ সময় সে একটি সিন্ডিকেটের শরণাপন্ন হয়। তার এসএসসি পাশের   সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে কম্পিউটারে টেম্পারিং করে ২.৭৫ এর স্থলে ৪.৭৫ করা হয়। এতে তার নার্সিং কোর্সে ভর্তি হতে আর কোন বাঁধা থাকেনা। ২০০৫ সালের রাজশাহী বোর্ডের ওয়েব সাইট ক্লিক করলেই প্রকৃত রেজাল্ট পাওয়া যাবে। 

অভিযোগকারী তাজরিয়ান বাবু বলেন,গত ২৪ আগষ্ট আমি একটি অভিযোগপত্র কুড়িগ্রাম গভঃ নার্সিং ইন্সটিটিউটে জমা দিয়েছি। এসময় আমাকে ইন্সটিটিউট কর্তৃপক্ষ বলেছেন, সনদ জালিয়াতির ব্যপারটি বাংলাদশ নার্সি কাউন্সিল দেখবে। অন্য কারো দেখার এক্তিয়ার নেই বলে ইন্সটিটিউট থেকে তাকে জানানো হয়েছে।

তাজরিয়ান বাবু  তার অভিযোগপত্র সচিব,স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর,চেয়ারম্যান ,দুর্নীতি দমন কমিশন, রেজিষ্ট্রার, বাংলাদেশ নার্সিং কাউন্সিল,বিভাগীয় কমিশনার, রংপুর,জেলা প্রশাসক দিনাজপুর,উপপরিচালক,সমন্বিত জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন, দিনাজপুর,সিভিল সার্জন ,দিনাজপুর ও অধ্যক্ষ, দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকে পাঠিয়েছেন।   

তাজরিয়ান বাবু বলেন, আমি সানোয়ারাকে সদুপদেশ দিয়ে বলেছিলাম, তোমার এসএসসি ও এইচএসসি পাশের যোগ্যতায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অথবা অন্য যেকোনো চাকরি হয়ে যাবে। কিন্তু সে আমার কোনো কথা রাখেনি। আমাকে ডিভোর্স দিয়ে আর কোলের শিশু ছেলেকে ফেলে রেখে চলে গেছে। যাবার আগে সে আমাকে বলেছে, আমি একা নই,  দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সনদ জালিয়াতি করে নার্স পদে আরো ১২ জন চাকরি করছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা