kalerkantho

সোমবার। ৪ মাঘ ১৪২৭। ১৮ জানুয়ারি ২০২১। ৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

কমলগঞ্জের মণিপুরী পল্লীতে মহারাসলীলা উৎসব, চলছে প্রস্তুতি

মো. মোস্তাফিজুর রহমান, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার)   

২৭ নভেম্বর, ২০২০ ১৬:২৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কমলগঞ্জের মণিপুরী পল্লীতে মহারাসলীলা উৎসব, চলছে প্রস্তুতি

মণিপুরী সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব মহারাসলীলা। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ও আদমপুরের মণিপুরী অধ্যুষিত গ্রামের ঘরে ঘরে এখন রাস উৎসবের রং ফুটছে। মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে রং ও সাদা কাগজে মোড়ানোর কাজ। চলছে শেষ প্রস্তুতি। শিল্পীদের দেওয়া হচ্ছে তালিম। মণিপুরী পল্লীর বাড়ির উঠোনে ছেলে-মেয়েরা নাচছে। নাচের প্রশিক্ষণ চলছে। প্রশিক্ষক দেখিয়ে দিচ্ছেন নাচের ভঙ্গি। কোনো জায়গায় চলছে রাসনৃত্যের মহড়া। কোনো জায়গায় রাখালনৃত্যের। এগুলো এখন শেষ সময়ের প্রস্তুতি। নৃত্যকে নিখুঁত করার ঘষামাজার শেষ পর্যায়ে।

এবারের রাস উৎসব হবে আগামী ৩০ নভেম্বর। করোনাকালীন সময়ে শুধুমাত্র ধর্মীয় নিয়ম-রীতি ছাড়া বাকি মেলা ও অনুষ্ঠান হবে না। ওই দিন দুপুরে উৎসবস্থল মাধবপুরের শিববাজার উন্মুক্ত মঞ্চ প্রাঙ্গণে হবে ১৭৮তম গোষ্ঠলীলা বা রাখালনৃত্য। রাতে জোড় মণ্ডপে রাসের মূল প্রাণ মহারাসলীলা।

মণিপুরী সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় মহোৎসব 'রাসমেলা'। রাসোৎসবকে ঘিরে মাধবপুর ও আদমপুরের মণ্ডপগুলো সাজানো হয়েছে সাদা কাগজের নকশার নিপুণ কারুকাজে। করা হয়েছে আলোকসজ্জাও। সেখানে মণিপুরী শিশু নৃত্যশিল্পীদের সুনিপুণ নৃত্যাভিনয় রাতভর মুগ্ধ করে রাখবে লাখো ভক্ত ও দর্শনার্থীকে। মণিপুরী পল্লীর এ উৎসবে দেশের বিভিন্ন স্থানসহ ভারত থেকেও মণিপুরী সম্প্রদায়ের লোকজনসহ জাতি-ধর্ম-নির্বিশেষে অনেকেই ছুটে আসেন মহারাসলীলা অনুষ্ঠান উপভোগের জন্য। কিন্তু এবার একটু অন্য রকম আমেজে মহারাস উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। করোনায় নেই কোনো মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শুধু মূল মণ্ডপগুলোতে ধর্মীয় আচার-রীতি মেনে রাসলীলা পরিবেশন করা হবে। মাধবপুরের রাস উৎসবের আয়োজক হচ্ছে মণিপুরী মহারাসলীলা সেবা সংঘ। মণিপুরী বিষ্ণুপ্রিয়া সম্প্রদায়। উৎসবস্থল মাধবপুরের শিববাজার উন্মুক্ত মঞ্চ প্রাঙ্গণে হবে গোষ্ঠলীলা বা রাখালনৃত্য। রাতে জোড় মণ্ডপে রাসের মূল প্রাণ মহারাসলীলা। অন্যদিকে কমলগঞ্জের আদমপুরে মণিপুরী মৈতৈ সম্প্রদায় আয়োজন করছে পৃথক রাসোৎসব। এবার হবে ৩৮তম রাস উৎসব।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, রাস উৎসবকে সফল করতে প্রায় মাসখানেক ধরে ছয়টি বাড়িতে রাসনৃত্য এবং রাখালনৃত্যের প্রশিক্ষণ ও মহড়া চলছে। তিনটিতে রাসনৃত্য ও তিনটিতে রাখালনৃত্য। মাধবপুরে তিনটি জোড় মণ্ডপের আওতায় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একেকটি মণ্ডপে আছেন একজন পুরোহিত। সেই পুরোহিতের পরামর্শে একজন প্রশিক্ষক ধর্মীয় বিধি-বিধান মেনে গোপী বা শিল্পীদের প্রশিক্ষণ দেন। গোপীবেশী শিল্পীদের বয়স ১৬ থেকে ২২ বছর। শুধু রাধার বয়স পাঁচ থেকে ছয় বছর। নৃত্যের প্রতিটি দলে ন্যূনতম ১২ জন অংশ নিয়ে থাকে। একইভাবে রাখাল নৃত্যেরও প্রতিটি দলে ২০ থেকে ২২ জন ১৪ থেকে ১৫ বছর বয়সী বালক অংশ নিয়ে থাকে। 

মণিপুরী মহারাসলীলা সেবা সংঘের সভাপতি যোগেশ্বর চ্যাটার্জি বলেন, রাস উৎসবকে ঘিরে ইতিমধ্যে সব প্রস্তুতি চলছে। ঘরে ঘরে চলছে রাখাল ও গোস্টলীলার মহরত। সরকারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমাদের মূল ধর্মীয় অনুষ্ঠান হবে। তবে এবার মেলা বাতিল করা হয়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুয়ায়ী অতিরিক্ত অনুষ্ঠান না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে আয়োজকদের। মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা