kalerkantho

রবিবার। ৩ মাঘ ১৪২৭। ১৭ জানুয়ারি ২০২১। ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

বোয়ালমারীতে স্কুলশিক্ষক কামরুল হত্যাকাণ্ডের ৭ বছর

মৃত্যুর আগে সন্তানের হত্যাকারীদের বিচার দেখতে চান বৃদ্ধা মা

বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি    

২৭ নভেম্বর, ২০২০ ১৩:২৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মৃত্যুর আগে সন্তানের হত্যাকারীদের বিচার দেখতে চান বৃদ্ধা মা

৭ বছর আগে খুন হয়ে যাওয়া স্কুলশিক্ষক কামরুল ইসলাম

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার স্কুলশিক্ষক কামরুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের পর সাত বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার কাজ শেষ হয়নি আজ পর্যন্ত। এ কারণে হতাশায় ভুগছে নিহতের পরিবার। বিচার বিভাগের প্রতি তাদের আবেদন দ্রুততম সময়ে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার শেষ করে প্রকৃত দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার।

পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ২৫ নভেম্বর বিকেলে শিক্ষক কামরুল ইসলাম বাইসাইকেলযোগে বোয়ালমারী বাজারে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে চতুল চিতাঘাটা এলাকায় পৌঁছলে একদল দূর্বৃত্ত অতর্কিতে হামলা চালিয়ে প্রকাশ্যে বেধড়ক মারপিট করে তাকে মারাত্মক জখম করে। জখম অবস্থায় কামরুলকে উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। রাতেই তাকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করলে পথিমধ্যে তিনি মারা যাযন। এ ঘটনায় পরেদিন ২৬ নভেম্বর বোয়ালমারী থানায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে আরো চার-পাঁচ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার বাদী নিহতের ভাই এসএম খায়রুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় পুলিশ ২০১৪ সালের ২০ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করলে বিচার কাজ শুরু হয়। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সাত বছর পার হলেও বিচারকাজ শেষ হয়নি এখন পর্যন্ত। তিনি বলেন, আসামিরা জামিন নিয়ে এলাকায় বীরদর্পে ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি নিহতের পরিবারের ওপর সামাজিকভাবে চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি দ্রুত বিচার কাজ শেষ করার দাবি জানান বিচার বিভাগের প্রতি।

নিহতের বৃদ্ধা মা লাইলি বেগম জানান, পুত্র শোক সইতে না পেরে এক বছরের মধ্যে মারা গেছেন বাবা হাজী আবুল হাসেম মাস্টার। মৃত্যুর আগে সন্তান হত্যাকারীদের বিচার দেখে যেতে চান শোকে কাতর এই মা। তিনি দোষিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

নিহতের স্ত্রী তানজিলা খানম জানান, স্বামীর হত্যাকারীদের চোখের সামনে দিয়ে বীরের মত ঘুরে বেড়ানো ও কটু কথা সইতে না পেরে স্বামীর বাড়ি ছেড়েছি। আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় উকিল নিয়োগ দেয়াও সম্ভব হয়নি, বর্তমানে সরকারের অতিরিক্ত কৌসুলী এম এ সালাম মামলাটি পরিচালনা করছেন।

এ ব্যাপারে ফরিদপুর জজকোর্টের অতিরিক্ত সরকারি কৌসুলী এম এ সালাম আশ্বস্ত করে জানান, মামলায় স্বাক্ষ্যগ্রহণ শেষে প্রত্যাশিত সময়ের মধ্যেই রায় ঘোষণা হতে পারে বলে আমি আশা রাখছি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা