kalerkantho

শনিবার। ২ মাঘ ১৪২৭। ১৬ জানুয়ারি ২০২১। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

প্রধানমন্ত্রীর উপহার পাকা ঘর দেওয়ার নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

আত্রাই-রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি    

২৭ নভেম্বর, ২০২০ ১২:২৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রধানমন্ত্রীর উপহার পাকা ঘর দেওয়ার নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

নওগাঁর রাণীনগরে কালীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বাবলুর বিরুদ্ধে 'জমি আছে ঘর নাই' প্রকল্পের অধীনে হতদরিদ্রদের মাঝে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার পাকা ঘর দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর। হতদরিদ্র, গরীব-অসহায়, খেটে-খাওয়া এই মানুষগুলো এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন হেলালকে অবহিত করলে প্রয়োজনীয় তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দেওয়া হয়। ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত চাইলে চেয়ারম্যান ভয়ভীতি ও হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

জানা গেছে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে হতদরিদ্র ও ভূমিহীন মানুষদেরকে পাকা ঘর উপহার দেওয়া হবে। এমন খবরে উপজেলার কালীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের গ্রামীণ জনপদের গরীব অসহায় ও খেটে খাওয়া মানুষগুলো একটি পাকা ঘরের আশায় ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও কতিপয় মেম্বারদের শরণাপন্ন হতে থাকেন। এই অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে চেয়ারম্যান ও মেম্বাররের যোগসাজসে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে ইচ্ছেমতো যে যেভাবে পারেন সবার কাছ থেকে টাকা তুলেছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে বিনাখরচে এই পাকা ঘর দেওয়া হবে। রাণীনগর প্রকল্পের কাজ শুরু হলে যারা টাকা দিয়েছেন তাদের কপালে ঘর জোটেনি। পরে প্রতারিতরা পাওনা টাকা ফেরতের জন্য মেম্বার চেয়ারম্যানদের কাছে ধর্না দিলে উল্টো ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকী দেওয়া হয়েছে। 

এক পর্যায়ে কালিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের রাতোয়াল গ্রামের ১৩ জন ভুক্তভোগী টাকা ফেরতের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন হেলালের সুপারিশ নিয়ে গত ২২ নভেম্বর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে গুঞ্জন চলছে ভুক্তভোগীর সংখ্যা প্রায় ২০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। যে যার মতো করে মেম্বার চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করে টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। 

উপজেলার রাতোয়াল গ্রামের শৈলগাড়িয়াপাড়ার ভুলু মৃধার ছেলে মমতাজ হোসেন জানান, পাকা ঘর দেবে এমন প্রলোভন দিয়ে চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বাবলু রাতোয়াল বাজারে মজিদের চা স্টলে আমার কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা নিয়েছেন। প্রায় ২ বছর পার হলেও এখনও আমাকে ঘর দিতে পারেননি। আমি টাকা ফেরত চাই।

উপজেলার কালিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বাবলু মন্ডল জানান, এই ঘরগুলো আসার পর আমি ৪৫ জনের মতো সুবিধাভোগীদের ছবিসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সুপারিশ করে উপজেলা পরিষদে জমা দেই। আমার বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার যে অভিযোগ সেটা সম্পন্ন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি কারো কাছ থেকে টাকা নেইনি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল মামুন জানান, প্রধানমন্ত্রীর উপহার পাকা ঘর দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যের সুপারিশকৃত একটি লিখিত অভিযোগ গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে আমাকে দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা