kalerkantho

শনিবার । ৯ মাঘ ১৪২৭। ২৩ জানুয়ারি ২০২১। ৯ জমাদিউস সানি ১৪৪২

দেয়াল ধসে আশ্রয়হীন দুই বিধবার পাশে পুলিশ সুপার

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি   

২৬ নভেম্বর, ২০২০ ২১:২৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেয়াল ধসে আশ্রয়হীন দুই বিধবার পাশে পুলিশ সুপার

দিনমজুর রাজা মিয়া মারা যান ১১ বছর আগে। সেই থেকে স্বামী হারা দুই বিধবা। জীর্ণদশার মাটির ঘরে এক সাথে বসবাস। রাতেও ভালো ছিল ঘরটি। কিন্তু সকালে হঠাৎ ধসে পড়ে বসত ঘরের এক পাশের মাটির দেয়াল। আরেকটি দেয়াল ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় সেটিও ধসে পড়বে যেকোনো সময়। অসহায় গরিব এ পরিবারটি আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। ঘর মেরামতের আর্থিক সামর্থ না থাকায় উন্মুক্ত অবস্থায় রাত্রীযাপন করতে হবে তিন ছেলে দুই মেয়েকে নিয়ে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৬ নভেম্বর) সকালে ঘটনাটি ঘটেছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ পৌর এলাকার বড়গাছ গ্রামে।

অসহায় সেই পরিবারের দুদর্শার কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়লে অসহায় পরিবারের কথা মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার ফারুক আহমদ পিপিএম (বার) এ নজরে আসে। নজরে আসার সাথে কমলগঞ্জ থানার ওসি আরিফুর রহমানকে মুঠো ফোনে পরিবারটি পাশে তার পক্ষ থেকে দাঁড়ানোর কথা জানান। সাথে সাথে পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে ওসি অসহায় দুই বিধবার পাশে খাদ্য সামগ্রী নিয়ে হাজির হন। পাশাপাশি প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে ঘর মেরামতের জন্য টিন ও নগদ অর্থের ব্যবস্থা করা হয় হবে বলে আশ্বাস দেন।

মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ এর পক্ষ থেকে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেন কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আরিফুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক সালাহ উদ্দীনশুভসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের বড়গাছ গ্রামের রাজা মিয়া মারা যান ২০০৯ সালে। তিনি মৃত্যুর আগে দুটি বিয়ে করেন। দুই বিধবা স্ত্রী ও তিন সন্তান রেখে যান তিনি। মৃত রাজা মিয়ার বড় বউ জাহানারা বেগম সেলাই মেশিনের কাজ করে ও ছোট বউ হালিমা বেগম গৃহিণী। তাদের সব সন্তানরা এখনও বেকার। সেলাই মেশিনে এলাকার মানুষের কাপড় তৈরি করে যে টাকা উপার্জন করে তাতেই কোনো রকম সংসার চলছে তাদের। স্বামীর রেখে যাওয়া মাটির দেয়ালের জরাজীর্ণ ঘরটিতেই বসবাস করে আসছিলেন অসহায় এই পরিবারটি। 

অনেক সময় জীবন চালাতে পাড়া-প্রতিবেশিদের কাছেও হাত পেতে নিতে হয় সাহায্য। দরিদ্র পরিবারটির মাথা গোঁজার একমাত্র ঘরটিও এই শীতের সময়ে ধসে পড়ে। বাড়িটি ধসে পড়ায় আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন তারা।

শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, জেলা পুলিশ সুপার জনাব ফারুক আহমেদ অত্যন্ত বিচক্ষণ ও বড় মনের মানুষ। তিনি এ জেলায় যোগদানের পর অনেক মানবিক কাজ করেছেন।

তিনি বলেন, জনগণের জানমাল রক্ষায় মৌলিবাজার জেলা পুলিশকে একটি সত্তিকারের সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তিনি। পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদের মূল লক্ষ্য মানুষ যেন পুলিশ থেকে তার প্রকৃত সেবা পায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা