kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ মাঘ ১৪২৭। ২৬ জানুয়ারি ২০২১। ১২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

ব্যাংক কর্মকর্তাদের ভুড়িভোজ করিয়েও ঋণ পাচ্ছেন না দিলোয়ারা!

আলম ফরাজী, ময়মনসিংহ (আঞ্চলিক)   

২৬ নভেম্বর, ২০২০ ১৮:৪৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্যাংক কর্মকর্তাদের ভুড়িভোজ করিয়েও ঋণ পাচ্ছেন না দিলোয়ারা!

নতুন ঋণ পাওয়ার আশায় স্থানীয় কৃষিব্যাংকের পুরাতন ঋণ ধার-দেনা করে পরিশোধ করেন মোছাম্মৎ দেলোয়ারা বেগম। এরপরও ব্যাংকে গিয়ে বারবার ধর্ণা দিয়েও ঋণ যখন মিলছিল না তখন ব্যাংকের ব্যবস্থাপকসহ পাঁচ কর্মকর্তাকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ভুড়িভোজ করালেও ঋণ মিলছে না দিলোয়ারার। এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার বাংলাদেশ কৃষিব্যাংক মোয়াজ্জেমপুর শাখায়।

দিলোয়ারা আক্তার হচ্ছেন উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের উত্তরপালাহার গ্রামের মৃত কাজিম উদ্দিনের স্ত্রী। তিনি জানান, ২০১৬ সালে গরুর খামারের জন্য তিনি ওই ব্যাংকে আবেদন করে ৬০ হাজার টাকা ঋণ পান। এ অবস্থায় গত চার বছরে ব্যাংক তাঁর কাছে ৯০ হাজার টাকা পায়। এর মধ্যে নতুন ঋণ পাওয়ার আশায় তিনি ব্যাংকে গিয়ে বকেয়া সাকূল্য টাকা সুদে আসলে পরিশোধ করেন। পরে ব্যাংক ব্যবস্থাপক ও সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) তাকে নতুনভাবে আবেদন করতে বললে তিনি গত দুই মাস আগে ২ লাখ টাকা চাহিদা দিয়ে ফিসারি ঋণ চেয়ে আবেদন করেন। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট আইও তানভির আহম্মেদ সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করলেও দীর্ঘ দিনেও ঋণ দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

দিলোয়ারা আরো জানান, ঋণ না দেওয়ায় তিনি তার মেয়ের জামাইকে দিয়ে ব্যাংক ব্যবস্থাপক আব্দুল বারীকে তার বাড়িতে এসে ডালভাত খাওয়ার দাওয়াত দেন। দাওয়াত গ্রহণ করে ব্যাংক ব্যবস্থাপক বারী গত মঙ্গলবার দুপুরে আইও তানবির ও ক্যাশিয়ারসহ পাঁছজন তার বাড়িতে যান। সেখানে তাদেরকে গরু ও মুরগির মাংস ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের মাছ দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৬ হাজার টাকা।  খাওয়ার পর ব্যাংক ব্যবস্থাপক তাকে দ্রুত ঋণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে চলে যান।

ব্যাংকের আইও তানভির আহম্মেদ বলেন, আমার কাছ থেকে ঋণ পাইতে ওই নারীর কোনো বাধা নেই। ব্যাংক ব্যবস্থাপক বললেই ব্যবস্থা গ্রহণ করব। ভুড়িভোজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যাংকের ভালো একজন গ্রাহক হলেন দিলোয়ারা আক্তারের মেয়ের জামাই শাহিন। ব্যাংকের সাথেই উনার শ্বশুড় বাড়ি। ওই দিন আরো অনেকের সাথেই আমরা দাওয়াত খেয়েছি। তবে এখন বুঝছি ওই দাওয়াত খাওয়া ঠিক হয়নি।

এ বিষয়ে ব্যাংক ব্যবস্থাপক ওই ঋণ প্রার্থীর বাড়িতে গিয়ে ভুড়িভোজ করার কথা স্বীকার করে বলেন, দাওয়াতে যাওয়ার সময় আমি কিছু মিষ্টিও নিয়ে গেছি। তবে এটা আমার ভুল হয়ে গেছে। ঋণ দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ঋণ দিতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছিল। এ সময় খোঁজ নিয়ে দেখা যায় ওই ঋণপ্রার্থীর এক ছেলের নামে ৪২ হাজার টাকা ঋণ বকেয়া রয়েছে। ছেলে মারা যাওয়ায় ঋণ পরিশোধ করার দায়িত্ব ঋণ প্রার্থী দিলোয়ার ওপর বর্তায়। ওই ঋণ পরিশোধ করলেই প্রয়োজনীয় ঋণ দেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা