kalerkantho

সোমবার । ১১ মাঘ ১৪২৭। ২৫ জানুয়ারি ২০২১। ১১ জমাদিউস সানি ১৪৪২

বিবিসি’র সেরা ১০০ নারীর তালিকায় কক্সবাজারের রিমু

আমি প্রধানমন্ত্রীর মতো সমাজ পরিবর্তনে কাজ করতে চাই

তোফায়েল আহমদ, কক্সবাজার   

২৪ নভেম্বর, ২০২০ ২৩:১৭ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



আমি প্রধানমন্ত্রীর মতো সমাজ পরিবর্তনে কাজ করতে চাই

বাস্তবে অদম্য সাহসী একজন তরুণী তিনি। কিন্তু নিজে মনে করেন, তিনি ১৮ পার করে এখন একজন নারী। মাত্র ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিবিসি’র ১০০ নারী তালিকায় স্থান করে নেওয়া কক্সবাজারের একটি অজপাড়াগাঁয়ের কৃষক কন্যা রিমা সুলতানা রিমু। তিনি নিজেকে দুর্দান্ত সাহসী নারী বলে মনে করেন। নিজ দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতো একজন সাহসী এবং কর্মঠ নারী হওয়ায় গর্ববোধও করেন রিমা সুলতানা রিমু। 

রিমু প্রধানমন্ত্রীর মতো কঠোর পরিশ্রমী হয়ে সমাজ পরিবর্তনে কাজ করতে আগ্রহী। মঙ্গলবার দৈনিক কালের কণ্ঠ’র তরফে কক্সবাজারের রামু উপজেলা সদরে জাগো নারী উন্নয়ন সংস্থা নামের একটি এনজিও অফিসে সাহসী নারী রিমা সুলতানা রিমুর সাক্ষাৎকারটি নেওয়া হয়।
আপনার নাম কি : আমার নাম রিমা সুলতানা রিমু। 

প্রশ্ন : আপনার বাড়ি কোথায়?
উত্তর : কক্সবাজারের রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের পশ্চিম সিকদার পাড়া গ্রামে। 

প্রশ্ন : বিবিসি’র ১০০ নারী তালিকায় বাংলাদেশের যে দুজন নারী স্থান পেয়েছেন, তন্মধ্যে আপনিও একজন, এটা কখন শুনলেন?
উত্তর : এই তো আজ (মঙ্গলবার) সকালে শুনেই দৌঁড়ে মাকে ঝাপটিয়ে ধরেছি। এরপর বাড়ি থেকে ছুটে এসেছি, আমি যার অনুপ্রেরণায় আজ এমন স্থান পেয়েছি সেই এনজিও- জাগো নারী উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী শিউলি শর্মা ম্যাম’র কাছে। 

প্রশ্ন : বিবিসি’র বাছাই করা ১০০ নারীর মধ্যে স্থান করে নিয়ে এত বড় অর্জনে আপনার অনুভুতি কি?
উত্তর : অনুভুতি বলতে বুঝি, কেবল আমার যাত্রাই হলো শুরু।

প্রশ্ন : এ রকম অর্জন নিয়ে নারীদের নিয়ে আপনার কি ভাবনা রয়েছে?
উত্তর : আমি দাবি করি নিজে একজন সাহসী নারী। প্রত্যেক নারীদের সাহসী করে তুলতে আমাদের কাজ করা দরকার। আমি মনে করি নারীরা সাহসী হলেই তাদের এগিয়ে যাওয়া সহজ হবে। সাহস না থাকায় নারীরা অনেক কিছুতেই রয়েছে পিছিয়ে। নারীরা সাহস করে কিছু না বলায় অনেক সমস্যারও সমাধান হয় না। গ্রামে নারীরা অনেক কষ্টে রয়েছে। তাদের কষ্ট আমাকে পীড়া দেয়। আবার দেখেছি অনেক প্রতিভাবান নারীর হাতের ভালো কাজ রয়েছে। অনেকেরই রয়েছে অনেক কিছু উদ্ভাবন। কিন্তু এসবের কেউ খোঁজ নেয় না। আমি এসবে কাজ করতে আগ্রহী। আমি চাই বাংলার একজন নারীও পেছনে পড়ে না থাকুক।

প্রশ্ন : সমাজকে পরিবর্তন করার কাজ করতে গিয়ে আপনি ১০০ নারীর একজন হিসাবে আজ স্বীকৃতি পেয়েছেন। আপনি একজন নারী হিসাবে এটা কিভাবে কাজে লাগাতে চান? 

উত্তর : আমি এদেশের একজন নাগরিক হয়ে নিজেকে গর্বিত মনে করি। কেননা আমাদের প্রধানমন্ত্রী একজন নারী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমনই একজন নারী যিনি অনেক গুণে গুণান্বিত। বিশেষ করে একজন পরিশ্রমী নারী হিসাবে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিটি কার্যকলাপ আমার দৃষ্টি কেড়ে নেয়। আমি উনার (প্রধানমন্ত্রী) মতো পরিশ্রমী একজন নারী হয়ে সমাজ পরিবর্তনের কাজে নিয়োজিত হতে চাই।

প্রশ্ন : কিভাবে আসলেন আজকের এতটুকু স্থানে?
উত্তর :  আমি যখন ছোট ছিলাম তখন নিজেকে বেশ অসহায় মনে হতো। যখন আমার বেড়ে উঠা শুরু হলো তখন অনেক বাধা-বিপত্তি এসেছে। কিন্তু স্কুল পার হওয়ার সময় থেকেই আমার মানসিক অবস্থা পরিবর্তন হতে থাকে। সিদ্ধান্ত নিলাম লড়তে হবে। তাও সেই লড়া একা হোক বা সম্মিলিত হোক। আমার মা খালেদা বেগম, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক খালেদা ম্যাডাম ও জাগো নারী উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী শিউলি ম্যাডাম সাহস যোগালেন। তাদের সাহসকে পুঁজি করে আমিও সাহসী হলাম।

প্রশ্ন : কিভাবে শুরু হলো পথ চলা?
উত্তর : কক্সবাজার জেলায় নারী প্রধান একটি এনজিও হচ্ছে-জাগো নারী উন্নয়ন সংস্থা। রামু উপজেলা সদরে এটির প্রধান অফিস। আমার বাড়ি থেকেও বেশি দূরে নয়। এনজিওটিতে স্বেচ্ছায় কাজ করতে এসে প্রথম দর্শনে এনজিও চেয়ারম্যান এবং নির্বাহী শিউলি শর্মা ম্যাম তেমন পাত্তাই দিতে চাননি। পরে তিনি একটি দলভিত্তিক কাজ দিয়ে পরীক্ষা নিলেন। তাতেই কাজ হয়ে গেল। তিনি আমাকে দায়িত্ব দিলেন, ‘গার্লস এ্যাম্বেসেডার ফর পিচ’ নামের একটি প্রকল্পে। গ্লোবাল নেটওয়ার্ক অফ উইমেন পিচ বিল্ডার্স (জিএনডাব্লিউপি)-এর অর্থ সহায়তায় সমাজ পরিবর্তনে কাজ করা হয় প্রকল্পের আওতায়। আমি হয়ে গেলাম শান্তির দূত। কক্সবাজারভিত্তিক ইয়াং উইমেন লিডার্স ফর পিস একজন সদস্য হিসাবে রয়েছি আমি।

প্রশ্ন : কি কাজ করে এত দূর আসলেন? 
উত্তর : জাগো নারী উন্নয়ন সংস্থা-এনজিওটিতে মূলত আমি কোনো মাসিক বেতনভুক কর্মচারী নই। আমার মতো আরো অনেক নারী রয়েছে। আমরা দল বেঁধে পাড়া-মহল্লা, রোহিঙ্গা শিবিরসহ এনজিওটির নির্ধারিত অফিসে যাই। সেখানে বয়স্ক নারীদের লেখাপড়া থেকে শুরু করে সমাজের ভালো কাজগুলো নিয়ে তাদের সঙ্গে শেয়ার করি। তাদের বাল্যবিয়ে রোধ করার প্রয়োজন কেন সেই সব বিষয়গুলো উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দিই। নারীর সহিংসতা নিয়ে আমরা কাজ করি। নারীরা নানা কাজে কেন পিছিয়ে থাকে সেইসব ব্যাপারেও তাদের সচেতনতা সৃষ্টির কাজ করি। এই যে, কভিড-১৯ এর একটা বড় ধাক্কা গেল এবং আরেকটা ধাক্কা শুরু হতে চলেছে, সেই কভিড-১৯ নিয়েও আমি আমার স্বেচ্ছাসেবক দল নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। শুধু তাই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে ধর্ষণবিরোধী র‌্যালি থেকে শুরু করে ধর্ষণ বিষয়ে সচেতনতা নিয়েও আমাদের কাজ অব্যাহত রয়েছে।

প্রশ্ন : আপনার বাবা ও মা কি করেন?
উত্তর : আমার বাবা আবদুর রহিম একজন কৃষক এবং মা খালেদা বেগম গৃহিণী।

প্রশ্ন : আপনারা কয় ভাই-বোন?
উত্তর : আমরা দুই ভাই এবং দুই বোনের পরিবার।

প্রশ্ন : পড়ালেখা নিয়ে বলুন।
উত্তর : আমার বড় ভাই তৌহিদ আজিজ ইন্টার পাস করেছে। আমিও ইন্টার পাস করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। নিজে এনওিতে স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে কাজ করার পাশাপাশি টিউশনি করি। তাছাড়াও রামু উপজেলা সদরে গ্লোবাল ইংলিশ লার্নিং সেন্টার নামের একটি স্পোকেন ইংলিশ প্রতিষ্ঠানের কো-অর্ডিনেটর হিসাবে কাজ করছি। আমার ছোট বোন সানজিদা মুশতারি ইমান এবং কামরুল হাসান জিহাদ স্কুলে পড়ালেখা করে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা