kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ মাঘ ১৪২৭। ২৮ জানুয়ারি ২০২১। ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

তাজরীন ট্রাজেডির আট বছর : সকল শ্রমিক হত্যা ও নির্যাতনের বিচার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)   

২৪ নভেম্বর, ২০২০ ১৯:৩৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তাজরীন ট্রাজেডির আট বছর : সকল শ্রমিক হত্যা ও নির্যাতনের বিচার দাবি

ঢাকার উপকণ্ঠ আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তাজরীন ফ্যাশনে অগ্নিকাণ্ডের আট বছর পূর্তিতে নিহত শ্রমিকদের স্বজন, আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা এবং বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা নানা কর্মসূচি ও দাবিতে দিনটি পালন করেছেন। মঙ্গলবার সকাল থেকে কারখানা ভবনের গেটে অস্থায়ী বেদিতে ফুল দিয়ে আগুনে পুড়ে মৃত শ্রমিকদের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন তারা। শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের পর বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন পৃথক পৃথক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের আয়োজন করে। তাজরীনের মালিক দেলোয়ার হোসেনের শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেয় কয়েকটি শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

শ্রদ্ধা জ্ঞাপন শেষে পথসভায় গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার বলেন, আট বছর আগে ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় তাজরীন গার্মেন্টে আগুন লাগে। এই কারখানা নির্মাণের কাঠামোগত ত্রুটির কারণে, নির্গমনের সিঁড়ি ও অন্যান্য ব্যবস্থা না থাকার কারণে শতাধিক শ্রমিক আগুনে পুড়ে অঙ্গার হয়ে গিয়েছিলেন। অসংখ্য শ্রমিকের নির্মম মৃত্যু চেয়ে দেখা ছাড়া কারোই কিছু করার ছিল না সেদিন। এই মৃত্যু নিছক কোনো দুর্ঘটনা নয়, এটি একটি কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড। 

তিনি আরো বলেন, আজ পর্যন্ত যতগুলো পোশাক কারখানায় দুর্ঘটনার নামে শ্রমিক হত্যার ঘটনা ঘটেছে তার কোনোটিতেই বিচার সম্পন্ন হয় নাই। মামলা হয়, তদন্ত হয়, কোর্টে বিচারের নামে দীর্ঘসূত্রিতা হয়, কিন্তু আজ পর্যন্ত একটি ঘটনারও বিচার হয় নাই। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। মালিক, বিজিএমইএ বা সরকারের কলকারখানা অধিদপ্তরের অবহেলার যথাযথ তদন্ত ও বিচার হতে হবে। যতদিন পর্যন্ত ন্যায় বিচার সম্পন্ন না হবে, দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা না হবে, শ্রমিকের পক্ষে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা না হবে ততদিন বলা যাবে এ শিল্পের অগ্রগতি হয়েছে। তাজরীন, রানা প্লাজা, স্পেকট্রাম, গারীব অ্যান্ড গারীব, কেটিএস কিংবা টম্পাকোর মতো সকল শিল্প দুর্ঘটনার নামে কাঠমোগত শ্রমিক হত্যার বিচার হতে হবে, এর বিকল্প নাই।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর রাতে তাজরীন ফ্যাশনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১১১ জন অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। প্রয়োজনীয় টাকা-পয়সা ও সুচিকিৎসার অভাবে ধুঁকে ধুঁকে ২০১৪ সালের ১৩ আগস্ট আমেনা নামের একজন আহত শ্রমিক চিৎিসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। এর আগে একই বছর ২১ মার্চ দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে সুচিকিৎসার অভাবে মারা যান আরো এক আহত শ্রমিক সুমাইয়া খাতুন। অগ্নিকাণ্ডের সময় গার্মেন্টটিতে প্রায় হাজারখানেক শ্রমিক কর্মরত ছিল। কারখানায় অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র থাকলেও ঘটনার দিন একটিও ব্যবহার করা হয়নি। আগুনের সতর্কসংকেত বাজার পরও কারখানার মধ্যম পর্যায়ের ব্যবস্থাপকেরা শ্রমিকদের কারখানা ত্যাগে বাধা দিয়েছিলেন। এ ছাড়া আগুন লাগার তথ্য গোপন করে শত শত শ্রমিককে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা