kalerkantho

মঙ্গলবার। ৫ মাঘ ১৪২৭। ১৯ জানুয়ারি ২০২১। ৫ জমাদিউস সানি ১৪৪২

রায়পুরায় শিশু নির্যাতন

'মৃত্যু নিশ্চিত করতে ওরা আমার চোখে আঘাত করে'

রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি   

২৪ নভেম্বর, ২০২০ ১৬:৫০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'মৃত্যু নিশ্চিত করতে ওরা আমার চোখে আঘাত করে'

প্রথমে রায়হান আমার দুই পায়ে জোরে চেপে ধরে। এরপর সোহান দুই হাতে ও আল আমিন গলায় রশি পেঁচিয়ে ধরে। আমি তখন অচেতন হয়ে পড়ি। মৃত্যু নিশ্চিত করতে ওরা আমার চোখে আঘাত করে। কথাগুলো বলছিল নির্যাতনের শিকার শিশু সোহাগ।

সোহাগ আরো বলেছে, জ্ঞান ফিরে এলে দেখি আমার সারা শরীর কচুরিপানায় ঢাকা। শরীর ছিল প্রচণ্ড দুর্বল। হামাগুড়ি দিয়ে কিছুদূরে এসে বাঁচার জন্য চিৎকার দিই। আমার শব্দ শুনে স্থানীয় তিনজন এগিয়ে এসে উদ্ধার করে বাড়ি পৌঁছে দেয়। বর্তমানে সোহাগ নরসিংদী সদর হাসাপাতলে চিকিৎসাধীন।

উদ্ধারকারীদের একজন রাশেদ। বয়স ১০ বছর। গত শুক্রবার রাতে (২০ নভেম্বর) দুই ব্যক্তির সঙ্গে মাছ শিকারে বের হন তিনি। রাশেদ জানান, অন্ধকারে কারো শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। ওই সময় আমাদের দিকে সে হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে আসছিল। পরে আমরা তাকে উদ্ধার করে বাড়ি পৌঁছে দিই।

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চলের শ্রীনগর ইউনিয়নের ভেলুয়ারচর এলাকার সৌদিপ্রবাসী নবীরুল ইসলামের ছেলে সোহাগ মিয়া (৯)। গত শুক্রবার (২০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় শিশু সোহাগকে মাছ ধরার প্রলোভনে বাড়ি থেকে ডেকে উপজেলার ভেলুয়ারচর এলাকার নির্জন চরে আনেন আল আমিন। এরপর একই কথা বলে ওই শিশুকে এক ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়। পরে আল আমিন ও তার দুই সহযোগী রায়হান ও সোহান মিলে ওই শিশুর দুই পা, হাত ও গলায় রশি দিয়ে চেপে ধরে। একপর্যায়ে শিশু সোহাগ অচেতন হয়ে পড়ে। এরপর তারা শিশুটিকে মৃত ভেবে কচুরিপানাচাপা দিয়ে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পরদিন একই ইউনিয়নের ভেলুয়ারচর পূর্বপাড়ার আবুল হোসেনের ছেলে আল আমিন (২৪), শহিদুল্লাহর ছেলে রায়হান মিয়া (২৩), শহিদ উল্লার ছেলে সোহান মিয়াকে (১৮) বিরুদ্ধে  রায়পুরা থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী শিশুর মামা আতাউর রহমান।

এদিকে মামলা তুলে নিতে বাদীপক্ষকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে আসামিরা। এতে ভুক্তভোগী পরিবার ও তার স্বজনরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ ঘটনায়  মামলা তদন্তাধীন, আসমিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন রায়পুরা থানার এসআই দেবদুলাল দে।

বিরোধী কোনো পক্ষের ইন্ধনে তিন প্রতিবেশী যুবক আল আমিন, রায়হান ও সোহান অর্থের বিনিময়ে সোহাগকে হত্যা করতে চেয়েছিল বলে ধারণা করছেন ভুক্তভোগী শিশুর মা রাশেদা বেগম। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান তিনি।

শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান চৌধুরী আযান বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার না হলে তাদের দ্বারা এলাকায় আরো অপরাধ সংঘটিত হবে।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিনুল কাদির বলেন, শিশু নির্যাতনের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামিদের ধরতে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা