kalerkantho

মঙ্গলবার। ৫ মাঘ ১৪২৭। ১৯ জানুয়ারি ২০২১। ৫ জমাদিউস সানি ১৪৪২

চাঁদপুরে মুক্তিযুদ্ধের জাদুঘর নির্মাণের দাবিতে স্মারকলিপি

চাঁদপুর প্রতিনিধি   

২৩ নভেম্বর, ২০২০ ২৩:২১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চাঁদপুরে মুক্তিযুদ্ধের জাদুঘর নির্মাণের দাবিতে স্মারকলিপি

পাকিস্তানি শত্রু বাহিনীর ডুবিয়ে দেওয়া অস্ত্র ও গোলা বারুদবাহী জাহাজে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি জাদুঘর চাঁদপুরে স্থাপনের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন একদল মুক্তিযোদ্ধা। সোমবার জেলা প্রশাসকের হাতে এই স্মারকলিপি তুলে দেন তারা। ঢাকাস্থ চাঁদপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ ও জেলার বিভিন্ন ইউনিটের নেতারা পৃথকভাবে দুটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।  

৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাদের অস্ত্র বোঝাই জাহাজ এমভি ইকরাম চাঁদপুরের ডাকাতিয়া নদীপাড়ের লন্ডনঘাট এলাকায় নোঙ্গর করে। কিন্তু সেই জাহাজে থাকা অস্ত্র ও গোলা বারুদ খালাস করার আগেই তার সংবাদ পৌঁছে যায় মুক্তিযোদ্ধা নৌ কমান্ডোদের কাছে। এমন সংবাদ পেয়ে দেরি না করে তাতে মাইন বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তা পানির নিচে তলিয়ে দেন নৌ কমান্ডোরা। ৭১ সালের ৩০ অক্টোবর এই দুঃসাহসিক অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সাবমেরিনার আমান উল্লাহ বীরবিক্রম। অন্যদের মধ্যে অংশ নেন, মমিন উল্লাহ পাটোয়ারী বীরপ্রতীক, শাহজাহান কবির চৌধুরী বীরপ্রতীকসহ আরো কয়েকজন নৌ কমান্ডো।

ডুবন্ত সেই জাহাজটি মুক্তিযুদ্ধের ৩৮ বছর পর তা নদীর তলদেশ থেকে তুলে নারায়ণগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে এই ঘটনার দীর্ঘ এক যুগ পর মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি হিসেবে জাদুঘর তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এমন বিষয় গত ১৮ নভেম্বর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। 

এমন পরিস্থিতিতে এমভি ইকরাম নামে এই জাহাজটি চাঁদপুরে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবিতে নৌ কমান্ডো মমিনউল্লাহ পাটোয়ারীসহ একদল মুক্তিযোদ্ধা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। তাদের দাবি চাঁদপুরেই হোক এমন একটি মুক্তিযুদ্ধের জাদুঘর। যেখানে নদীপাড়ে জাহাজটি সংরক্ষণ করে তাকে মুক্তিযুদ্ধের নানা স্মৃতি উপস্থাপন করা হবে।

তাই এই বিষয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সোমবার দুপুরে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খানের হাতে মমিন উল্লাহ পাটোয়ারীর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা স্মারকলিপি প্রদান করেন। এসময় সংসদ সদস্য মুহম্মদ সফিকুর রহমানসহ অর্ধশত মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে, জেলা প্রশাসক স্মারকলিপি হাতে পেয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্বাস দেন এবং এই বিষয় দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান।

অন্যদিকে, মুবিজবর্ষ চলাকালেই মুক্তিযোদ্ধাদের এমন যৌক্তিক দাবি মেনে নিতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানান, সরকারের সাবেক সচিব, নৌ কমান্ডো মমনি উল্লাহ পাটোয়ারী বীরপ্রতীক। এই বিষয় সংসদ সদস্য মুহম্মদ সফিকুর রহমান বলেন, সংসদ অধিবেশনে এই বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা