kalerkantho

শুক্রবার । ৮ মাঘ ১৪২৭। ২২ জানুয়ারি ২০২১। ৮ জমাদিউস সানি ১৪৪২

বিষ্ঠার দুর্গন্ধে দুর্ভোগে ২০ গ্রামের মানুষ

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

২৩ নভেম্বর, ২০২০ ২১:০৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিষ্ঠার দুর্গন্ধে দুর্ভোগে ২০ গ্রামের মানুষ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার পাহাড়িয়া অঞ্চলের সাগরদিঘী ও লক্ষিন্দর ইউনিয়নের গড়ে উঠা পোলট্রি খামারের মুরগির বিষ্ঠা ও বর্জ্যে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে মারাত্মকভাবে। পোলট্রি বর্জ্যরে তীব্র দুর্গন্ধে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে প্রায় ২০ গ্রামের বাসিন্দারা। ভোগান্তিতে আছে স্থানীয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও। প্রতিবছর নষ্ট হচ্ছে শত একর জমির ধানসহ নানা ফসল।

জানা যায়, ২০১১ সালে উপজেলার সাগরদিঘী ইউনিয়নের শোলাকুড়া গ্রামে সিপি বাংলাদেশ লিমিটেড নামে একটি কম্পানি প্রথম পোলট্রি হ্যাচারির খামার স্থাপন করে। তার পর থেকে প্রতিবছরই এর সংখ্যা বাড়তে থাকে। বর্তমানে সাগরদিঘী ও লক্ষিন্দর ইউনিয়নে দশটি বড় বড় কম্পানির পোল্টি খামার রয়েছে। এদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে নারিশ, পিপলস ও প্যারাগন কম্পানি পোলট্রি খামার। এসব পোলট্রি খামারে প্রায় আট থেকে দশ লাখ মুরগি রয়েছে। এ ছাড়া পাহাড়িয়া এলাকার আনাচে কানাচে ব্যাক্তি মালিকানায় প্রায় দুই শতাধিক প্রোল্টি খমার রয়েছে।

এলাকাবসী জানায়, পোল্টি বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় সব খামারের মুরগির বিষ্ঠা মাছের খাদ্য হিসাবে বিক্রি করে খামারের মালিকরা। সময়মতো বিক্রি না হলে খামারেই থেকে যায় এসব বিষ্ঠা। না হয় খামারের পাশেই উন্মুক্ত স্থানে বস্তায় ভরে লোকালয়ে ফেলে রাখা হয়। ফলে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ায় আশপাশের এলাকায়। তাছাড়া মাছের খামারিরা মুরগির বিষ্ঠা ট্রাকে করে নেয়ার সময় রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে। এর ফলে ছিটিয়ে পড়া বিষ্ঠার দুর্গন্ধে পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে এলাকার পথঘাট। দুর্গন্ধের কারণে স্কুল চলাকালীন সময়ে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের রুমাল বা বই দিয়ে নাক চেপে ধরে স্কুল-কলেজে যাওয়া আসা করতে হয়।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার লক্ষিন্দর গ্রামে প্যারাগণ, তালতলা গ্রামের নারিশ এবং সানবান্দা ও শোলাকুড়া গ্রামে পিপলস হ্যাচারি লি. ও সিপি বাংলাদেশে নামের খামারের পাশে বিষ্ঠার ভাগার থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। বিষ্ঠার দুর্গন্ধে অতিষ্ট জনবসতিপূর্ণ এলাকাবাসী। লক্ষিন্দর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল আজিজ বলেন, দুটি ইউনিয়নের প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ পোলট্রি বর্জ্যরে তীব্র দুর্গন্ধে চরম ভোগান্তিতে আছে। খামারিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার।

শোলাকুড়া গ্রামের সাবান মিয়া জানান, রোদ তীব্র হওয়ার সাথে সাথে খামারের দুর্গন্ধ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে, খামারের দুর্গন্ধে বাড়িতে থাকা যায় না। সানবান্ধা গ্রামের সোহরাব বলেন, বিষ্ঠার দুর্গন্ধে ভালোভাবে খাওয়া দাওয়া করা যায় না। দুর্গন্ধে বমি এসে যায় এবং ছোট বাচ্চারা অসুস্থ্য হয়ে পড়ছে।

আকন্দেরবাইদ গ্রামের লোকজন জানান, তাদের কৃষি জমি ঘেঁষে স্থাপন করা হয়েছে সিপি কম্পানির পোলট্রি মুরগির খামারের ১৫ নম্বর শেট। বাণিজ্যিকভাবে গড়ে উঠা খামারটির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো ব্যবস্থা নেই। ড্রেন ও পাইপ দিয়ে বর্জ্য ফেলা হয় ফসলি জমিতে। এতে প্রতি বছরই মুরগির খামারের বিষ্ঠা ও বর্জ্যে ধানসহ বিভিন্ন ফসল পুড়ে নষ্ট হয়ে যায়। তাদের দাবি, গত ৫ বছর যাবৎ এ ঘটনা ঘটছে। এ বছরও তাদের ৫০ একর জমির আমন ধান পচে নষ্ট হয়ে গেছে। এর প্রতিকার চেয়ে গত ২৮ অক্টোবর গ্রামের কৃষকরা স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত আবেদন করেছেন।

উপজেলার স্বাস্থ ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাইফুর রহমান খান জানান, পোলট্রির বিষ্ঠার দুর্গন্ধ স্বাস্থের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর, বিশেষ করে ছোট বাচ্চাদের জন্য বেশি ক্ষতিকর। তাছাড়া শ্বাসকষ্টের মতো বড় ধরনের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই খামার সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দরা সব সময় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকে।

সাগরদিঘী ইউপি চেয়ারম্যান হেকমত সিকদার বলেন, এলাকাবাসী দুর্গন্ধের দুর্ভোগ পোহালেও লাভবান হন খামারিরা। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে কথা বলতে পিপলস হ্যাচারি লি. এর ম্যানেজার আবু নাসেকে ফোন করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।  সিপি ভালুকা ১৫ নম্বর সেটের ম্যানেজার রাইসুল ইসলাম কৃষকের ফসলের ক্ষতি হওয়ার বিষয়ে তদন্ত চলছে বিধায় মন্তব্য করতে রাজি হননি।

টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুজাহিদুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে আমরা এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, তদন্ত করে পরিবেশ দূষণকারী খামার মালিকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা