kalerkantho

সোমবার । ১১ মাঘ ১৪২৭। ২৫ জানুয়ারি ২০২১। ১১ জমাদিউস সানি ১৪৪২

বীর মুক্তিযোদ্ধার ঘোষণা

'আমাকে অপমান করা পুলিশ কর্মকর্তার বিচার না হলে বিষপানে আত্মহত্যা করব'

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি   

২৩ নভেম্বর, ২০২০ ২০:০৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'আমাকে অপমান করা পুলিশ কর্মকর্তার বিচার না হলে বিষপানে আত্মহত্যা করব'

অপমান করা পুলিশ কর্মকর্তার বিচার করা না হলে বিষপান করে আত্মহত্যা করার ঘোষণা দিয়েছেন আশাশুনির দুই মুক্তিযোদ্ধা। আজ সোমবার দুপুরে সাতক্ষীরার আশাশুনি প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দেন খাজরা ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা (গেজেট নম্বর-২০৪৩) সতীশ চন্দ্র মণ্ডল ও আফসার আলী গাজী।

লিখিত বক্তব্যে দীনেশ মণ্ডল বলেন, গত রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি নিজ বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলযোগে আশাশুনি সদরে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে আশাশুনি থানার এসআই জুয়েল মোটরসাইকেলের গতি রোধ করে। পরে সঙ্গীয় কনস্টেবল সোহাগ মোটরসাইকেল নিয়ে রাস্তার পাশে যেতে বলে। তিনি কারণ জানতে চাইলে এসআই জুয়েল ও কনস্টেবল সোহাগ গালমন্দ করে মোটরসাইকেলে হর্ন ও এলইডি লাইট লাগানো কেন তা জানতে চায়। তখন একজন মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিয়ে তাকে ভদ্রভাবে কথা বলতে বলি। তার মতো আমার ছেলেও পুলিশে চাকরি করে বলে জানাই। এ কথা শুনে এসআই জুয়েল গালি দিয়ে বলে, ওই পরিচয় বাদ দে। পরিধেয় পোশাকে মুক্তিযোদ্ধার মনোগ্রাম লাগানো দেখে গালি দিয়ে বলে, ওইটা লাগাইছো কেন? ওসব খুলে ফেল। এরপর সে প্লাস দিয়ে গাড়ির লাইট কেটে নেয়। পরে হর্ন কাটতে গেলে তিনি বাধা দেন। পুলিশ কর্মকর্তা বলে দুটি হর্ন রাখা যাবে না। এ সময় তিনি বাধা দিয়ে বলেন, মোটরসাইকেল কম্পানি এসব লাইট, হর্ন লাগিয়েছে।

বিষয়টি সাতক্ষীরা এসপি সাহেবের কাছে নালিশ করা হবে জানালে এসআই জুয়েল লোকজনের সামনে প্যান্টের চেন খুলে অশ্লীল গালি দিয়ে ওঠে। আমার আগে আফসার আলী নামে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার সাথেও এই পুলিশ সদস্য একই রকম ব্যবহার করে অপমানিত করেছে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি পুলিশের এই আচরণে তিনিসহ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার চরম অপমানিত বোধ করেছেন বলে জানান। বিষয়টি সরজমিন তদন্তপূর্বক যদি সঠিক বিচার না পাই তবে তিনি সবার সামনে বিষপানে আত্মহত্যা করবেন বলে ঘোষনা দেন।

আশাশুনি থানার এসআই জুয়েল জানান, এটি তার বিরুদ্ধে সজানো ঘটনা। নিয়মবহির্ভূতভাবে ওই বীর মুক্তিযোদ্ধা সতীশ চন্দ্র মণ্ডল মোটরসাইকেলে উচ্চশব্দের দুটি ট্রাফিক হর্ন ও চোখ ধাঁধানো হেডলাইট ছাড়াও অতিরিক্ত এলইডি লাইট ব্যবহার করেন। আইন মেনে মোটরসাইকেল ব্যবহার করতে বলায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে গালমন্দ করেন। কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধাকে তিনি অপমান করেননি।

আশাশুনি থানার ওসি (চলতি দায়িত্বে) মাহফুজুর রহমান বলেন, বিষয়টি তাকে কেউ জানায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুমতি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সহকারী জেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল করিম সরদার (নম্বর ৪৩৬), আব্দুস সাত্তার গাজী (নম্বর ৪১২), জি এম আব্দুল গণি (মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রশিক্ষক নম্বর ৪১০), আকবর আলী মাস্টার (নম্বর ৫৪৬), সিরাজুল ইসলাম (নম্বর ৪২০) ও কার্ত্তিক চন্দ্র মণ্ডল (নম্বর ৫৪৯)।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা