kalerkantho

মঙ্গলবার। ৫ মাঘ ১৪২৭। ১৯ জানুয়ারি ২০২১। ৫ জমাদিউস সানি ১৪৪২

নিমগাছী সমাজ ভিত্তিক মৎস্য প্রকল্প

জাল কাগজ দিয়ে ১২ হাজার সদস্যের সাথে প্রতারণা

তাড়াশ-রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি   

২৩ নভেম্বর, ২০২০ ২০:০৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জাল কাগজ দিয়ে ১২ হাজার সদস্যের সাথে প্রতারণা

সিরাজগঞ্জের নিমগাছী সমাজ ভিত্তিক মৎস্য প্রকল্পের ৭৮৩টি পুকুরের জাল কাগজ তৈরি করে সুফলভোগী ১২ হাজার সদস্যদের সাথে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এদিকে ভুক্তভোগী সুফল ভোগীরা এর প্রতিকার চেয়ে খাইবুর রহমান খোকনসহ কতিপয় প্রতারকের বিরুদ্ধে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অবশ্য খাইবুর রহমান খোকন প্রতারণার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, কাগজ পত্রই বলে দেবে পুকুরগুলোর সত্যিকার মালিক কে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, রায়গঞ্জ, পাবনার ভাঙ্গুড়া ও চাটমোহর উপজেলার নিমগাছী সমাজভিত্তিক মৎস্য চাষ প্রকল্পের ৭৮৩টি পুকুর রয়েছে। যা গত ২০১১ সালে মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের সমঝোতা স্বারকের মাধ্যমে মৎস্য অধিদপ্তরের পুকুরগুলো হস্তান্তরিত হয়। আর পুকুর পাড়ের মৎস্য চাষি, বেকার যুবক-যুবতী, মুক্তিযোদ্ধা, অসহায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সমন্বয়ে দল গঠন করে প্রতি বছর সরকারি নির্ধারিত রাজস্ব জমা দিয়ে সুফলভোগীরা মাছ চাষ করে আসছেন। সে মোতাকে ৭৮৩টি পুকুরের মাধ্যমে চারটি উপজেলার প্রায় ১২০০০ সুফলভোগী বাংলা ১৪২৯ সন পর্যন্ত সমাজভিত্তিক নির্দেশনা মোতাবেক মাছচাষ করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবেন এমনই চুক্তি রয়েছে।

এদিকে রায়গঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও নিমগাছি মৎস্যচাষ প্রকল্পের (রাজস্ব) দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বলেন, সম্প্রতি রায়গঞ্জ উপজেলার রায়গঞ্জ গ্রামের খাইবুর রহমান খোকন নামের এক ব্যক্তি ওই পুকুরগুলোর অবৈধভাবে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করেন এবং তার লোকজনের মাধ্যমে পুকুরগুলো দখলের পাঁয়তারা করছেন। এমন কি তিনি ও তার লোকজন এলাকার বিভিন্ন লোকের কাছে থেকে পুকুরের সদস্য ও চাকরি দেওয়ার কথা বলে টাকা আদায় করছেন বলে তিনিও অভিযোগ পেয়েছেন।

অপরদিকে সুফলভোগীদের সভাপতি বাবুলাল রজক বলেন, ওই প্রতারক সরকারি পুকুরগুলোর ভুয়া কাগজপত্র করে এলাকায় বিভ্রান্তির চেষ্টা করছে। এ নিয়ে সুফলভোগীদের বঞ্চিত করার চেষ্টাসহ অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এ জন্য ওই প্রতারকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে অভিযোগ করেছেন।

এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাহেদ আলী জানান, খাইবুর রহমান খোকনসহ কতিপয় প্রতারক আদালতের একটি ভুয়া রায় নিয়ে পুকুরগুলো দখলের চেষ্টা করছেন। যা নিয়ে সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মহোদয় কাগজপত্র যাচাই করেছেন। আর সেগুলো ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়েছে এবং প্রতারকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে।

অপরদিকে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেজবাউল করিম খাইবুর রহমান খোকনের বিরুদ্ধে সুফলভোগীদের অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা