kalerkantho

সোমবার । ১১ মাঘ ১৪২৭। ২৫ জানুয়ারি ২০২১। ১১ জমাদিউস সানি ১৪৪২

প্রকাশ্যে সড়কের গাছ কেটে নিচ্ছে চোর চক্র

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি   

২৩ নভেম্বর, ২০২০ ১৭:০৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রকাশ্যে সড়কের গাছ কেটে নিচ্ছে চোর চক্র

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা সদর থেকে ছাতিয়ান গ্রাম সড়কে লাগানো গাছগুলো দিনদুপুরে কেটে নিয়ে যাচ্ছে চোরেরা। গাছগুলো বন বিভাগের তালিকাভুক্ত না হওয়ায় তারা পদক্ষেপ নিতে পারছে না। ফলে চোর চক্র সুযোগ পেলেই সাবাড় করছে সড়কঘেঁষা এসব গাছ। সর্বশেষ শুক্রবার জুমার নামাজের সময় কাটা তিনটি গাছের মধ্যে একটি গাছ উদ্ধার করেছে পুলিশ। চোর চক্রটি বাকি দুটি গাছ স্থানীয় স মিলে বিক্রি করে দিয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। এর আগে এ কৌশলেই চক্রটি প্রায় ২০-২৫টি গাছ সাবাড় করেছে বলেও জানান তাঁরা। গাছগুলো রক্ষায় এ পর্যন্ত কাউকে এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি। একে অপরের ওপর গাছগুলো দেখভালের দায়িত্ব দেখিয়ে দিয়ে দায় সারছেন কর্তা ব্যক্তিরা।

বন বিভাগের আদমদীঘি উপজেলার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সামছুল আলম জানান, অনুমান করা হচ্ছে আদমদীঘি-ছাতিয়ান গ্রাম তিন কিলোমিটার সড়কের পাশে গাছগুলো আশির দশকে লাগানো হয়েছে। তবে বাগানটি তাদের আওতায় নয়। আর এ কারণে তারা চুরি ঠেকাতে বা চোরদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। তিনি বলেন, যেহেতু বাগানটি তাঁদের আওতায় নয়, সেহেতু এটি এলজিইডি অফিসের তত্ত্বাবধানে থাকার কথা।

উপজেলা প্রকৌশলী সাজেদুর রহমান বলেন, গাছগুলো বন বিভাগের আওতায় হলে আমাদের সঙ্গে চুক্তি থাকে। আর গাছগুলো যদি বন বিভাগের না হয়, তাহলে নিয়মানুযায়ী গাছগুলো এলজিইডি দপ্তরের হয়। তা ছাড়া গাছের নীতিমালা অনুযায়ী যে রাস্তাগুলো এলডিইডির অ্যাকোয়ার করা থাকবে, শুধু সেসব গাছই এলজিইডির হবে। অন্যথায় অ্যাকোয়ার না থাকলে সেটি আমরা দাবি করতে পারি না। তবে এ রাস্তার গাছগুলো সম্ভবত উপজেলা পরিষদের হতে পারে, সে ক্ষেত্রে গাছগুলো এসিল্যান্ডের তত্ত্বাবধানে থাকবে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবা হক জানান, সরকারি জায়গার গাছগুলো এসিল্যান্ড অফিসের তত্ত্বাবধানে। তবে গাছ চুরির বিষয়টি তাঁদের জানা নেই। চোরদের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের দুই পাশে বড়-ছোট গাছগুলোর দুটি সারি। গাছের সারিতে তিনটি কাটা গাছের গোড়া দেখা যায়। এতে অনুমান করা যায়, প্রকাশ্যেই কাটা হয়েছে গাছগুলো। এ সময় স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত শুক্রবার জুমার নামাজের সময় মানুষের আনাগোনা কম থাকার সুযোগে সংঘবদ্ধ চোরচক্রের চার-পাঁচজন সদস্য দুপুরেই প্রকাশে তিনটি মেহগনি গাছ কেটে ফেলেছে। এ সময় তারা আরো চারটি গাছ কাটার জন্য গাছের ডাল কেটে প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিষয়টি স্থানীয় সচেতন মহল জানতে পেরে থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে গাছ কাটার সরঞ্জাম রেখে চক্রটি পালিয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে এসব সরঞ্জাম ও একটি কাটা গাছ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। তবে পরের দিন শনিবার সকালে ওই চোরচক্রটির খড় দিয়ে ঢেকে রাখা গাছগুলো ভ্যানে করে খাড়িরব্রিজ এলাকায় একটি 'স' মিলে বিক্রি করে দেন। থানার ওসি জালাল উদ্দীন জানান, গাছ চোরচক্র ও চক্রের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সীমা শারমিন জানান, বিষয়টি তার জানা ছিল না। অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দণ্ড দেওয়া হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা