kalerkantho

সোমবার । ১১ মাঘ ১৪২৭। ২৫ জানুয়ারি ২০২১। ১১ জমাদিউস সানি ১৪৪২

চাটমোহরে গাছিদের ব্যস্ততা শুরু

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি   

২৩ নভেম্বর, ২০২০ ১১:৩৩ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



চাটমোহরে গাছিদের ব্যস্ততা শুরু

রস সংগ্রহের জন্য খেজুর গাছ প্রস্তুত করছেন একজন গাছি। ছবি: কালের কণ্ঠ

 

শীতের মৌসুম শুরু হলেও শীতের আগমন এখনো পরিপূর্ণভাবে হয়ে ওঠেনি। এর মধ্যেই খেজুরের রস সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন পাবনার চাটমোহর উপজেলার গ্রাম-গঞ্জের গাছিরা। রস সংগ্রহের প্রথম ধাপে এখন তাঁরা খেজুরগাছগুলো প্রস্তুত করতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিশ্রম করছেন।

শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে কদর বেড়ে যায় খেজুরের রসের। গাছ থেকে রস সংগ্রহ, গুড় তৈরি, আর রস ও গুড়ের নানা শীতকালীন পিঠা তৈরির ধুম পড়ে আবহমান গ্রামবাংলায়। সারা বছর অবহেলিত খেজুরগাছগুলোকে ঝোড়ে (পরিষ্কার) নতুন রূপ দেন গাছিরা।

চাটমোহর উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের কুবিরদিয়ার গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ৩৫ বছর বয়সী কালাম হোসেন রস সংগ্রহের জন্য গাছ প্রস্তুত করছেন। ব্যস্ততার মধ্যে কিছুক্ষণ কথা হয় তাঁর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘শীত শুরুর আগেই আমরা নিজের ও বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে খেজুরগাছ লিজ নিয়ে থাকি, এবারও নিয়েছি। রস সংগ্রহের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে গাছ ঝোড়ার কাজ শেষ করেছি। ইতোমধ্যে রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরির কাজও শুরু হয়েছে। এ বছর শীত একটু দেরিতে পড়ায় দেরিতেই রস সংগ্রহের কাজ শুরু করতে হয়েছে।’

স্থানীয়রা জানান, খেজুরের গুড় এই এলাকার একটি ঐতিহ্য। রস থেকে গুড় তৈরি একটি শিল্প। এই শিল্পের সঙ্গে চাটমোহর উপজেলার কয়েক শ পরিবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। শীত এলেই চাটমোহরের প্রায় প্রতিটি পরিবারকে খেজুরের রস থেকে গুড় তৈরি করতে দেখা যেত। আগের দিনে নতুন খেজুরের গুড় আর নতুন ধানের চাল দিয়ে শুরু হতো নবান্ন উৎসব। তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় এবং খেজুর গুড়ের নামে ভেজাল গুড় তৈরি হওয়ায় ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পটি হারিয়ে যেতে বসেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বেশি মুনাফা লাভের আশায় তৈরি করছে ভেজাল খেজুরের গুড়। তবে ভেজাল প্রতিরোধ ও গুড়শিল্প রক্ষায় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে খেজুরের গুড় পুনরায় ফিরে পাবে তার হারানো ঐতিহ্য।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা