kalerkantho

রবিবার । ১০ মাঘ ১৪২৭। ২৪ জানুয়ারি ২০২১। ১০ জমাদিউস সানি ১৪৪২

লোহাগড়ায় শীতের আকর্ষণ নলেন গুড়ের সন্দেশ

ইকবাল হাসান, লোহাগড়া (নড়াইল)    

২৩ নভেম্বর, ২০২০ ১০:৫২ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



লোহাগড়ায় শীতের আকর্ষণ নলেন গুড়ের সন্দেশ

নড়াইলের লোহাগড়ায় প্রায় ৫০ বছর ধরে বিক্রি হচ্ছে নলেন গুড়ের সন্দেশ। প্রতিবছর শীতের শুরুতেই কদর বাড়তে থাকে খেজুরগাছের নলেন রসে তৈরি হয় খাবারটি। এখন এলাকার চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে উপাদেয় এই খাদ্য উপাদানটি যাচ্ছে বিদেশেও।

জানা গেছে, লোহাগড়ার লক্ষ্মীপাশা খেয়াঘাটে সাহা সুইটসসহ অনেকেই তৈরি করে এই নলেন গুড়ের সন্দেশ। বিয়ে, সুন্নতে খাৎনা, নববর্ষ ছাড়াও এমন কোনো অনুষ্ঠান নেই যেখানে স্থানীয়ভাবে এই সন্দেশ সরবরাহ করা হয় না। কেবল এলাকায় নয়, বিদেশেও পৌঁছে যাচ্ছে এই সন্দেশের গুণের কথা।

শীত মৌসুমে গাছিদের কাছ থেকে দোকানদাররা খেজুর গাছের খাঁটি নলেন রস সংগ্রহ করে থাকেন। সেই রস থেকেই নলেন গুড় তৈরি হয়। আর এই গুড় থেকেই তৈরি হয় সন্দেশ। প্রতিকেজি সন্দেশ এলাকায় বিক্রি হয় ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকায়। দোকানটিতে প্রতিদিন গড়ে তিন-চার মণ মিষ্টি বিক্রি হয়ে থাকে। ঢাকা ও আশপাশের জেলার ভোজনবিলাসী মানুষ এ সন্দেশ খেতে আসেন।

এ নিয়ে কথা হয় সাহা সুইটস এর বর্তমান পরিচালক নলেন গুড়ের সন্দেশের কারিগর অভিজিত সাহা অভির সঙ্গে। তিনি জানান, ১৯৭১ সালে তাঁর দাদা সচিন্দ্রনাথ সাহা নলেন গুড়ের সন্দেশ তৈরি করে বিক্রি করতেন। বাজারে প্রচুর চাহিদা ও সুনাম থাকায় দাদার মৃত্যুর পর দাদি নমিতা রাণী সাহা হাল ধরেন এর। নলেন গুড়ের সন্দেশ তৈরি ও বিক্রি তাঁদের পৈত্রিক ঐতিহ্য হিসেবেই এখনো রয়েছে।

অভি বলেন, ভোক্তাদের হাতে ভালোমানের মিষ্টি বা খাঁটি নলেন গুড়ের সন্দেশ তুলে দিতে পারলে নিজেরাও খুব তৃপ্ত হই। সৌদিআরব, দুবাই, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ক্যানাডাসহ বিভিন্ন দেশে এই সন্দেশ লোকমারফত যাচ্ছে। তবে,ভারতেই বেশি চাহিদা এই মিষ্টির।

রাজুপুর গ্রামের বাসিন্দা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা চঞ্চল শেখ বলেন, অন্য জেলা থেকে লোহাগড়ায় কেউ বেড়াতে আসলে তাঁকে অন্তত নলেন গুড়ের সন্দেশ না খেয়ে যেতে দেই না। বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সন্দেশ ছাড়াও রয়েছে নলেন গুড়ের চমচম। কেজি ২০০ থেকে ৪০০ টাকা। এর চাহিদাও  অনেক। বছরের প্রায় ছয় মাস এ সন্দেশ ও চমচম পাওয়া যায়। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা