kalerkantho

রবিবার। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৬ ডিসেম্বর ২০২০। ২০ রবিউস সানি ১৪৪২

নড়াইলে ফিরেছে সোনার ছেলে সাদাত

পুরস্কারের টাকা যাবে সাইবার বুলিং ঠেকাতে

সাইফুল ইসলাম তুহিন, নড়াইল    

২২ নভেম্বর, ২০২০ ০৩:১৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পুরস্কারের টাকা যাবে সাইবার বুলিং ঠেকাতে

ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত সাদাত মা-বাবার সঙ্গে। ছবি : কালের কণ্ঠ

নড়াইলবাসীর জন্য গতকাল শনিবারের সকালটা একটু অন্য রকম ছিল। আগে থেকেই জানা ছিল আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার বিজয়ী সোনার ছেলে সাদাত রহমান নড়াইলে ফিরবে। নড়াইলের অতি পরিচিত প্রিয় মুখ কিশোর সাদাত। কিন্তু গতকাল তার নড়াইলে ফেরাটা সবার কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করেছে। তাই নতুন করে আবার তাকে দেখতে উত্সুক মানুষ ভিড় জমিয়েছে নড়াইল প্রেস ক্লাবের ভেতরে-বাইরে।

‘সাইবার বুলিং’ থেকে শিশুদের রক্ষায় কাজ করে এ বছর আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার পেয়েছে বাংলাদেশের কিশোর ১৭ বছর বয়সী সাদাত রহমান। নেদারল্যান্ডসের হেগে গত ১৩ নভেম্বর এক অনুষ্ঠানে নড়াইলের কিশোর সাদাতের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। শান্তিতে নোবেল বিজয়ী মালালা ইউসুফজাই অনলাইনে অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে সাদাতকে এই পুরস্কার দেন। সেই থেকে সাদাত শুধু আর নড়াইলের কৃতী সন্তান নয়, হয়ে ওঠে পুরো দেশের অতি গর্বের একজন।

শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং নাজুক অবস্থায় থাকা শিশুদের সুরক্ষায় কাজের জন্য প্রতিবছর এই পুরস্কার দেয় ‘কিডস রাইটস’ নামের একটি সংগঠন।

পুরস্কার গ্রহণের পর গত ১৬ নভেম্বর ঢাকায় ফেরে সাদাত। আর গতকাল মা-বাবার সঙ্গে ঢাকা থেকে সকাল ১০টায় এসে পৌঁছে যশোর এয়ারপোর্টে। সেখানে আগে থেকেই সাদাতকে বরণ করে নিতে অপেক্ষায় ছিল তার প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নড়াইল আব্দুল হাই সিটি কলেজের শিক্ষক এবং সাদাতের ‘সাইবার টিনস’-এর সদস্যরা। যশোর এয়ারপোর্টে বরণ করে নেওয়ার পর সাদাতের বাবা সাখাওয়াত হোসেন, মা মলিনা খাতুন, সিটি কলেজের অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান মল্লিক, সহকারী অধ্যাপক মলয় কান্তি নন্দী এবং নড়াইল ভলান্টিয়ার্স ও সাইবার টিনসের সদস্যরা সড়ক পথে তাকে নিয়ে সকাল সাড়ে ১১টায় আসে নড়াইল প্রেস ক্লাবে। সাদাত সেখানে পৌঁছলে এক আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি হয়।

নড়াইল প্রেস ক্লাবে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সাদাত বলে, ‘আমাদের শহর নড়াইল হবে তারুণ্যনির্ভর। এই শহরের তরুণরাই করবে সব শুভ কাজের সূচনা। কিশোর-কিশোরীরা যাতে ইন্টারনেটে নিরাপদ থাকতে পারে তার জন্য অনেক কাজ করতে হবে।’

সাদাত আরো বলে, “বিশ্বে যত দিন সাইবার বুলিং বন্ধ না হবে তত দিন পর্যন্ত তা প্রতিরোধে কাজ চালিয়ে যাব। আমি যে এক লাখ ইউরো পুরস্কার পেয়েছি, এ অর্থ ব্যয় করা হবে সাইবার বুলিং বন্ধে, ‘সাইবার টিনস’-এর কাজে।”

সাদাতের বাবা সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমার সন্তান সাদাতের প্রতি দেশবাসীর ভালোবাসা দেখে আমি অভিভূত। বাংলাদেশ ডিজিটাল দেশ হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছে। সাদাত তার বাস্তব প্রমাণ। অন্য তরুণরাও সাদাতের মতো এগিয়ে এলে দেশে আর সাইবার বুলিং থাকবে না।’

সাদাতের মা মলিনা খাতুন ছেলের এই অর্জনে আনন্দে আত্মহারা। তিনি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার চেয়ে সাদাতের এসবের প্রতি বেশি ঝোঁক। পড়ালেখার জন্য আমি ওকে অনেক বকেছি। কিন্তু এখন দেশের জন্য ও যে সুনাম বয়ে এনেছে মা হিসেবে আমি গর্বিত।’

এক ফাঁকে সাদাত সাইবার টিনসের কাজ এবং পুরস্কার অর্জন করায় বাংলাদেশ পুলিশ ও নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিমউদ্দিন পিপিএমকে ধন্যবাদ জানাতে ভোলেনি। সাদাত বলে, ‘আমাদের অনেক কাজ পুলিশের সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব ছিল না। নড়াইলের জেলা প্রশাসক আনজুমান আরাসহ প্রশাসনের সর্বস্তরের কর্মকর্তা এবং মিডিয়ার প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাই।’

সাদাতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘কিডস রাইটস ফাউন্ডেশন’ তার পড়ালেখার ব্যয়ভার গ্রহণ করেছে। ওয়ালটন কম্পানি তার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পাঁচ লাখ টাকা সহায়তা দিয়েছে। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) ভাইস চ্যান্সেলর মেজর জেনারেল আতাউল হাকিম সরোয়ার হাসান ভবিষ্যতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা