kalerkantho

রবিবার। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৬ ডিসেম্বর ২০২০। ২০ রবিউস সানি ১৪৪২

পরিচয় মিলল ড্রামভর্তি সেই নারীর লাশের, শনাক্ত হয়নি হত্যাকারী

বরিশাল অফিস   

২২ নভেম্বর, ২০২০ ০০:৪৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পরিচয় মিলল ড্রামভর্তি সেই নারীর লাশের, শনাক্ত হয়নি হত্যাকারী

বরিশালের গৌরনদীর ভুরঘাটা বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীবাহী বাসে ড্রামের ভেতর থেকে পাওয়া নারীর লাশের পরিচয় মিলেছে। মৃত সাবিনা বেগম (৩০) বরিশালের মুলাদী উপজেলার নাজিরপুরের বাসিন্দা সাহেব আলীর মেয়ে এবং গৌরনদী উপজেলার দিয়াসুরে কুয়েত প্রবাসী শহিদুল ইসলামের স্ত্রী। সে দুই শিশু সন্তান নিয়ে ঢাকায় বসবাস করতেন। 

লাশ উদ্ধারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিহতর পরিচয় মিলাতে পারলেও হত্যারহস্য উম্মেচন এবং হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। তবে গৌরনদী থানার ওসি আফজাল হোসেন দাবি করেছেন সাবিনা বেগম হত্যাকাণ্ডের রহস্য অনেকটা উদঘটন হয়েছে। আসামি আটক না হওয়া করা পর্যন্ত এই মুহূর্তে কোনো কিছু প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না।

সাবিনা বেগমের পরিবারের বরাত দিয়ে গৌরনদী পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকালে সাবিনা বেগম তার দুই সন্তান নিয়ে ঢাকা থেকে গৌরনদীর দিয়াসুরে শ্বশুর বাড়িতে আসেন। সেখানে শ্বাশুড়ির কাছে সন্তানদের রেখে তিনি বরিশালে যান। এর পর শুক্রবার রাত ১১টার দিকে গৌরনদীর ভুরঘাটা বাসস্ট্যান্ডে একটি প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর থেকে তার লাশ উদ্ধার করে। 

এ ঘটনায় বরিশাল-ভুরঘাটা রুটের আরসি পরিবহনের স্টাফদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে পুলিশকে তারা জানান, বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে আরসি পরিবহনের একটি বাস গৌরনদীর ভুরঘাটা বাসস্ট্যান্ডের উদ্দেশ্যে যাত্রী নিয়ে রওয়ানা হয়। পথিমধ্যে নগরীর গড়িয়ারপার থেকে এক ব্যক্তি একটি ড্রাম বাসটিতে উঠিয়ে দেয় এবং কাঁচের মালামাল রয়েছে বলে জানায়।

পাশাপাশি ওই ব্যক্তি বাসের হেলপারকে জানায় যে, তার লোক ভুরঘাটা থেকে ড্রামটি নিয়ে যাবে। তবে বাস পৌঁছানোর পর অনেক সময় পার হয়ে গেলেও ড্রামটি কেউ নিতে না আসলে হেলপার নিজেই বাস থেকে ড্রামটি নামায় এবং স্থানীয়দের সহায়তায় ড্রাম খুলে দেখতে পায় নারীর লাশ। 

এই ঘটনায় শনিবার সকালে পুলিশ বাদী হয়ে এই ঘটনায় অজ্ঞাত আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। এদিকে সকালে নারীর মরদেহ ময়নাতদন্ত করার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।

গৌরনদী থানা পুলিশের ওসি আফজাল হোসেন জানান, ঘটনাটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। নিহতর লাশের সুরতহাল রিপোর্টশেষে ময়না তদন্তের জন্য লাশ শুক্রবার সকালে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ওই নারীর মাথার পেছনের দিকে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। 

ধারণা করা হচ্ছে ওই নারীকে হত্যা করে লাশ গুম করতে ড্রামে ঢুকিয়ে নিরাপদ কোনো স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। হত্যাকারীদের শনাক্ত করাসহ এই খুনের নেপথ্য কারণ খুঁজতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে। আশা করা যাচ্ছে দুই এক দিনের মধ্যেই আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।  

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা