kalerkantho

রবিবার । ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৫ ডিসেম্বর ২০২১। ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৩

মাকে বিদায় দিতে এসে চলে গেলেন দুই মেয়েও

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

১১ নভেম্বর, ২০২০ ১৫:৩২ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মাকে বিদায় দিতে এসে চলে গেলেন দুই মেয়েও

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার চন্দনবাড়ি ইউনিয়নের খলিফাপুর এলাকার পঞ্চমী বালা ৯০ বছর বয়সে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টায় মারা যান। পঞ্চমীর দুই ছেলে ও ছয় মেয়ে। মায়ের মৃত্যুর খবরে মাকে শেষ বিদায় জানাতে ছুটে আসেন মেয়েরা। দুপুরে তার শেষকৃত অনুষ্ঠিত হয়। মাকে শেষবারের মতো বিদায় জানিয়ে বিকেলে মেয়েরা বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

ঠিক সেই সময়েই ঘটে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। পঞ্চমীর ছোট মেয়ে চৈতি রানী (৩০) মায়ের শোকে অচেতন হয়ে পড়েন। পঞ্চমীর বড় মেয়ে স্বরজনী বালা (৫০)-সহ পরিবারের লোকজন তাকে দ্রুত মাইক্রোবাসে করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে অসুস্থ পড়েন স্বরজনী বালাও। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই দুজনেরই দেহ নিস্তেজ হয়ে পড়ে। হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই বোনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

ধারণা করা হচ্ছে, মায়ের মৃত্যুর শোকে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে। পরে তাদের স্বামীরা তাদের লাশ নিয়ে বাড়ি ফেরেন। মাকে পরলোকে বিদায় জানাতে এসে দুই বোনের মৃত্যুতে ওই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আছে। পরিবারটির সদস্যরা শোকে পাথর হয়ে গেছেন।

পঞ্চমী বালার নাতি কামিনী কুমার রায় বলেন, আমার ঠাকুর মাকে শেষবারের মতো দেখতে আসেন আমার পিসিরা। মরদেহ দাহসহ সকল কাজ সম্পন্ন করার পর তারা সবাই যে যার মতো স্বামী-সন্তান নিয়ে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমন সময় আমার ছোট পিসির বুকে ব্যথা অনুভব হয়। মুহূর্তেই অচেতন হয়ে পড়েন তিনি। পরে আমার বড় পিসিসহ আমাদের পরিবারের লোকজন তাকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে আমার বড় পিসিও অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার পর তাদের দুজনকেই মৃত ঘোষণা করে কর্তব্যরত চিকিৎসক। আসলে আমার পিসিরা ঠাকুর মাকে অনেক ভালোবাসতেন, তাই তার মৃত্যুতে শোকে সারাদিন কান্নাকাটি করেছেন। একসঙ্গে ঠাকুরমা ও পিসিদের মৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারছি না।  



সাতদিনের সেরা