kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

বসলো ৩৫তম স্প্যান

ডিসেম্বরের মধ্যে দৃশ্যমান হবে পদ্মা সেতুর পুরো অবকাঠামো

মো. মাসুদ খান, মুন্সীগঞ্জ   

৩১ অক্টোবর, ২০২০ ২৩:৩৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ডিসেম্বরের মধ্যে দৃশ্যমান হবে পদ্মা সেতুর পুরো অবকাঠামো

পিয়ারের ওপর পদ্মা সেতুর ৩৫তম স্প্যান সফলভাবে বসানো হয়েছে। ৩৪তম স্প্যান বসানোর সাত দিনের মাথায় গতকাল শনিবার দুপুরে ৮ ও ৯ নম্বর পিয়ারের ওপর এটি বসানো হয়। এতে দৃশ্যমান হয়েছে সেতুর পাঁচ কিলোমিটারের বেশি। আর মাত্র প্রায় এক কিলোমিটারে ছয়টি স্প্যান বসে গেলে পদ্মা সেতুর পুরো অবকাঠামো দৃশ্যমান হবে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই এ কাজ সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। সংশোধিত সময় অনুযায়ী ২০২১ সালের ৩০ জুনের মধ্যে পদ্মা সেতুর কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের কালের কণ্ঠকে জানান, গতকাল দুপুর ২টা ৪৩ মিনিটে ৩৫তম স্প্যানটি পিয়ারের ওপর সফলভাবে বসিয়েছেন প্রকৌশলী ও শ্রমিকরা। এর আগে গতকাল সকাল ৯টা ২৫ মিনিটের দিকে মুন্সগীঞ্জের লৌহজংয়ের কুমারভোগের কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডের স্টিল ট্রাস জেটি থেকে স্প্যানটি নিয়ে যাওয়া হয় নির্দিষ্ট পিয়ারের কাছে। এরপর স্প্যানটি ২টা ৪৩ মিনিটে পিয়ারের ওপর সফলভাবে বসানো হয়।

পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী ৩৫তম স্প্যানটি গত শুক্রবার বসানোর কথা ছিল। পদ্মা নদীতে নাব্যতা সংকটের কারণে ওই দিন স্প্যানটি বসানো সম্ভব হয়নি।

নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, এ পর্যন্ত পদ্মা সেতুতে ৩৫টি স্প্যান বসানো হয়েছে। এতে সেতুটির পাঁচ হাজার ২৫০ মিটার দৃশ্যমান হয়েছে। বাকি রয়েছে ছয়টি স্প্যান বসানোর কাজ। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সব স্প্যান বসানোর কাজ শেষ করা হবে। সে অনুযায়ী আগামী ৪ নভেম্বর পিয়ার ২ ও ৩ নম্বরে ৩৬তম স্প্যান, ১১ নভেম্বর পিয়ার ৯ ও ১০ নম্বরে ৩৭তম স্প্যান, ১৬ নভেম্বর পিয়ার ১ ও ২ নম্বরে ৩৮তম স্প্যান, ২৩ নভেম্বর পিয়ার ১০ ও ১১ নম্বরে ৩৯তম স্প্যান, ২ ডিসেম্বর পিয়ার ১১ ও ১২ নম্বরে ৪০তম স্প্যান এবং ১০ ডিসেম্বর সর্বশেষ ৪১ নম্বর স্প্যান বসবে ১২ ও ১৩ নম্বর পিয়ারের ওপর। 

তিনি আরো জানান, সংশোধিত সময় অনুযায়ী ২০২১ সালের জুনের মধ্যে পদ্মা সেতুর কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। মোট ৪১টি স্প্যানের মধ্যে গতকাল পর্যন্ত ৩৫টি স্প্যান বসে গেছে। বাকি রয়েছে ছয়টি স্প্যান বসানোর কাজ। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সেগুলো বসানোর কাজও শেষ করা হবে। 

অন্যদিকে রোডওয়ে স্ল্যাব ও রেলওয়ে স্ল্যাব বসানোর কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে। এ পর্যন্ত মোট দুই হাজার ৯১৭টি রোডওয়ে স্ল্যাবের মধ্যে বসানো হয়েছে এক হাজার ১৬৬টি। দুই হাজার ৯৬৯টি রেলওয়ে স্ল্যাবের মধ্যে বসানো হয়েছে এক হাজার ৬৪৬টি। মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তে ভায়াডাক্টের মোট ৪৮৪টি সুপারগার্ডারের মধ্যে ২৫৮টি বসানো হয়েছে।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। মূল সেতু নির্মাণে কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কম্পানি (এমবিইসি) এবং নদীশাসনের কাজ করছে সিনো হাইড্রো করপোরেশন।

৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এই সেতুর মূল কাঠামো।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা