kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৬ নভেম্বর ২০২০। ১০ রবিউস সানি ১৪৪২

মুরগির বর্জ্যে কৃষকের সর্বনাশ

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

৩০ অক্টোবর, ২০২০ ১৮:৫১ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মুরগির বর্জ্যে কৃষকের সর্বনাশ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার লখিন্দর ইউনিয়নের আকন্দেরবাইদ এলাকায় গড়ে ওঠা সিপি বাংলাদেশ লিমিটেড পোল্ট্রি খামারের মুরগির বিষ্ঠা ও বর্জ্যে কৃষকদের ৫০ একর জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা গণস্বাক্ষর করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছে।

জানা যায়, ২০১১ সালে উপজেলার সাগরদীঘি ইউনিয়নের শোলাকুড়া গ্রামে সিপি বাংলাদেশ লিমিটেড নামে একটি কম্পানি প্রথম পোল্ট্রি খামার স্থাপন করে। তার পর থেকে প্রতিবছরই এর সংখ্যা বাড়তে থাকে। বর্তমানে উপজেলার সাগরদীঘি ও লখিন্দর ইউনিয়ন ও পার্শ্ববর্তী ভালুকা উপজেলায় সিপি কম্পানির ১৫টি শেট রয়েছে।

এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগ ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লখিন্দর ইউনিয়নের আকন্দেরবাইদ এলাকায় কৃষিজমি ঘেঁষে স্থাপন করা হয়েছে সিপি কম্পানির পোল্ট্রি মুরগির খামারের ১৫ নম্বর শেট। বাণিজ্যিকভাবে গড়ে ওঠা খামারটির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো ব্যবস্থা নেই। ড্রেন ও পাইপ দিয়ে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে কৃষকদের ফসলি জমিতে। এ কারণে প্রতিবছরই মুরগির খামারের বিষ্ঠা ও বর্জ্যে ধানসহ বিভিন্ন ফসল পুড়ে নষ্ট হয়ে যায়। তাদের দাবি, গত ৫ বছর যাবৎ এ ঘটনা ঘটছে। এ বছরও তাদের ৫০ একর জমির আমন ধানের গোড়া পঁচে ধানের শীষ পুড়ে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক লস্কর আলী জানান, খামার কর্তৃপক্ষকে প্রতিবারই ফসল ক্ষতির বিষয়টি জানানো হয় কিন্তু কোনো কাজে আসে না। উল্টো একটি দালাল চক্রের মাধ্যমে তাদের মামলার ভয় দেখানো হয়।

কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, মালিকপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ক্ষতিপূরণ দাবি করেন স্থানীয় প্রশাসনের কাছে।

সিপি ভালুকা ১৫ নম্বর সেটের ম্যানেজার রাইসুল ইসলাম গত বছর কৃষকের ফসল ক্ষতি হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও এ বছরের ক্ষতির বিষয়টি অস্বীকার করেন।

টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মুজাহিদুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে আমরা এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে প্রধান করে এ ব্যাপারে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা