kalerkantho

মঙ্গলবার । ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৪ নভেম্বর ২০২০। ৮ রবিউস সানি ১৪৪২

দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে সুন্দরবনের সব পর্যটনকেন্দ্র

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

৩০ অক্টোবর, ২০২০ ১৩:১৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে সুন্দরবনের সব পর্যটনকেন্দ্র

ফাইল ছবি।

স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্তে রবিবার (১ নভেম্বর) থেকে সুন্দরবনের সব পর্যটন স্পট দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে। এরই মধ্যে বন অধিদপ্তর একটি গেজেটও প্রণয়ন করেছে। গেজেট সম্পন্নের পর গত মঙ্গলবার বন বিভাগের প্রধান কার্যালয় (ঢাকা) থেকে বনের সব পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়ার বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বন বিভাগের খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, মোংলাসহ সব দপ্তরে।

বন বিভাগের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমির হোসাইন চৌধুরী মঙ্গলবার রাতে এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনেই পর্যটকদের বনে ভ্রমণ করতে হবে। এ জন্য বন বিভাগের বিভিন্ন কার্যালয়ে নিদের্শনা পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া করোনাকালে একসঙ্গে বেশি লোক নিয়ে ভ্রমণ করা যাবে না। মানতে হবে সামাজিক ও শারীরিক দূরত্বও। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই পর্যটন ব্যবসায়ীদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে হবে।

চলতি বছরের ১৯ মার্চ করোনাভাইরাসের প্রাদুভার্বের কারণে সুন্দরবনে পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এর পর থেকে বেকার হয়ে পড়ে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত পর্যটন ব্যবসায়ী, মালিক ও শ্রমিক-কর্মচারীরা। তাঁরা সুন্দরবন পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচিও পালন করে আসছিলেন।

অবশেষে দীর্ঘ প্রায় সাত মাসেরও অধিক সময় পর বন বিভাগ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে আগামী ১ নভেম্বর থেকে সুন্দরবন ভ্রমণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গে পর্যটনকেন্দ্রগুলোর বিভিন্ন স্থাপনার উন্নয়ন, সংস্কার ও মেরামতে কাজ শুরুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কারণ বিগত ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে বনের প্রধান আকর্ষণী স্থান করমজলসহ বিভিন্ন কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের খবরের পর প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন ট্যুরিজম ব্যবসায়ীরা। তাঁরা তাঁদের নৌযানগুলোকে মেরামতসহ নানা কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

করোনাকালে বেশ ক্ষতি হয়েছে বন বিভাগ ও ট্যুরিজম ব্যবসায়ীদের। বন্ধ থাকায় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে সবারই। এ বিষয়ে করমজল পর্যটনকেন্দ্র ও বন্য প্রাণী প্রজননকেন্দ্রের ইনচার্জ মো. আজাদ কবির বলেন, বন্ধের সাত মাসে কম হলেও অন্তত প্রায় ১০ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হতো এখান থেকে। ঠিক অন্য কেন্দ্রগুলো থেকেও সমপরিমাণ রাজস্ব আদায় হতো, করোনা দুযোর্গের কারণে সেই ক্ষতিটা তো বন বিভাগের হয়েই গেছে।

ট্যুরিজম ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান মিজান বলেন, আমাদের তো সবই শেষ। নৌযান অলস পড়ে থেকে সেগুলোতে নানা ধরনের ত্রুটি দেখা দিয়েছে। বসিয়ে বসিয়ে বেতন দিতে হয়েছে কর্মচারীদের। ধার-দেনা করে পুঁজি খাটিয়ে যে ব্যবসা শুরু করেছিলাম, তা এখন যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ে পরিণত হয়েছে। তার পরও যেহেতু অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, আমরা সব বিধি-নিষেধ মেনেই ট্যুরিজম ব্যবসা পরিচালনা করব।

এদিকে শর্ত সাপেক্ষে সুন্দরবনের পর্যটনকেন্দ্রগুলো দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হলেও শর্ত যথাযথভাবে পালন হচ্ছে কি না তা দেখভালে কঠোর নজরদারি করা হবে বলে জানান প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমির হোসাইন চৌধুরী।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা