kalerkantho

মঙ্গলবার । ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৪ নভেম্বর ২০২০। ৮ রবিউস সানি ১৪৪২

মধ্যরাতে শেবাচিম হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তালা

পুলিশের হয়রানি বন্ধসহ সমস্যার সমাধান না হলে আজ দুপুর ১২টা থেকে কর্মবিরতির ঘোষণা

বরিশাল অফিস   

৩০ অক্টোবর, ২০২০ ০৮:১৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মধ্যরাতে শেবাচিম হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তালা

ছবি: আন্দোলনরত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলছেন হাসপাতালের পরিচালক।

বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) জরুরি বিভাগসহ সব গেটে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও কর্মবিরতি পালন করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মাসুদ খানের বিচার দাবি, কমিশন বাণিজ্য বন্ধ, ইন্টার্নদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও হয়রানি বন্ধের দাবিতে এ বিক্ষোভ মিছিল ও কর্মবিরতি পালন করা হয়।

এর সময়ে তাঁরা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ডাক দেন। পূর্বঘোষণা ছাড়াই বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১১টা ৫০ মিনিট থেকে জরুরি বিভাগের গেটসহ সব গেট বন্ধ করে কর্মবিরতি পালন করায় বিভিন্ন স্থান থেকে আসা রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। দেড় ঘণ্টার অধিক সময় মুমূর্ষু রোগীসহ হাসপাতালে আসা সাধারণ রোগীদের হাসপাতালের বাইরে ও ভেতরে অপেক্ষা করতে হয়।

পরে রাত দেড়টার দিকে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালাক ডা. মো. বাকির হোসেন ও শেবাচিম কলেজের পরিচালক অধ্যাপক ডা. এস এম সরোয়ার ও উপপরিচালাক ডা. আব্দুর রাজ্জাক হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠক করে সমস্যা সমাধনের আশ্বাস দেওয়ায় তাঁরা কাজে যোগদান করেন। আজ শুক্রবার দুপুর ১২টার মধ্যে সমস্যার দৃশ্যমান সমাধান না হলে ১২টার পর থেকে ফের অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়।

হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সজল পাণ্ডে অভিযোগ করে বলেন, শেবাচিম হাসপাতালে যে কমিশন বাণিজ্য চলছে, সেটা আমরা বন্ধ করার দাবি জানিয়ে আসছি। মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার মাসুদ খান ইন্টার্ন ডক্টরদের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে কমিশন নিয়ে থাকেন। এর প্রতিবাদ করায় ইন্টার্ন ডক্টরদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানি করছেন। তিনি সিনিয়র চিকিৎসকদের কক্ষে তালা দেওয়া, জুনিয়র চিকিৎসক ও নারী চিকিৎসক এবং কর্মচারীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করে থাকেন।

বিষয়টি লিখিত আকারে হাসপাতালের পরিচালক বরাবর দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। বরং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানাভাবে ইন্টার্নদের হেয় করা হচ্ছে এবং মিথ্যাচার চালানো হচ্ছে। যার প্রতিবাদ জানিয়ে রাত ১১টা ৫০ মিনিটে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি গিয়েছিল ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

পরে কলেজের অধ্যক্ষ এবং হাসপাতালের পরিচালক ও উপপরিচালক রাত ১টার দিকে হাসপাতালে এসে আমাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তাঁদের সম্মানার্থে সময়িককালের জন্য কর্মবিরতি স্থগিত করা হয়েছে। আজ শুক্রবার দুপুর ১২টার মধ্যে থানা পুলিশের হয়রানি বন্ধসহ অভিযোগগুলোর দৃশ্যমান কোনো সমাধান না হলে ইন্টার্নি চিকিৎসকরা ফের অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতিসহ কঠোর আন্দালনে যাবেন।

হাসপাতাল পরিচালক ডা. বাকির হোসেন জানান, বিষয়টি শোনার সঙ্গে সঙ্গে কলেজের অধ্যক্ষ ও হাসপাতালের উপপরিচালককে নিয়ে হাসপাতালে এসে ইন্টার্নি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা হয়রানি বন্ধসহ যেসব সমস্যার কথা বলছে, সেগুলো সমাধান করা হবে।

শেবাচিম হাসপাতাল সূত্র জানায়, ডাগায়নস্টিক সেন্টারের কমিশন ভাগাভাগি নিয়ে গত ২০ অক্টোবর মেডিক্যালের মেডিসিন বিভাগের ইউনিট-৩-এর সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মাসুদ খানকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ২১ অক্টোবর কয়েকজন ইন্টার্ন চিকিৎসকের নাম উল্লেখ করে হাসপাতালের পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ডা. মাসুদ। পাশাপাশি তিনি কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ২২ অক্টোবর ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ডা. মাসুদের বিরুদ্ধে ডায়াগনস্টিকের কমিশন আদায়, নারী সহকর্মীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ, সিনিয়দের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ এবং ইন্টার্নদের ভাতা আটকে রাখার অভিযোগ জানিয়ে পরিচালকের কাছে স্মারকলিপি দেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ দুটি তদন্তের জন্য ওই দিনই তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। কমিটিকে পরবর্তী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা