kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

হালকা শীতে কাঞ্চনজঙ্ঘার হাতছানি

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

২৯ অক্টোবর, ২০২০ ১৬:১২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হালকা শীতে কাঞ্চনজঙ্ঘার হাতছানি

হেমন্তের শুরুতেই হালকা শীতের চমৎকার আবহাওয়ায় উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে হাতছানি দিচ্ছে হিমালয়ের দ্বিতীয় উচ্চতম ও পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম পর্বত শৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা। শ্বেতশুভ্র কাঞ্চনজঙ্ঘা মাথা উঁচিয়ে নয়ানাভিরাম সৌন্দর্য ছড়িয়ে যেন প্রকৃতিপ্রেমীদের ডাকছে। বৃহস্পতিবার এই মৌসুমে প্রথমবার ভালোভাবে দেখা মেলে কাঞ্চনজঙ্ঘার। যাদের পারপোর্ট ভিসা করে বিদেশে গিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সামর্থ্য ও সুযোগ মেলে না তাদের জন্য আদর্শ জায়গা পঞ্চগড়।

কেবল মেঘমুক্ত ও কুয়াশামুক্ত গাঢ় নীল আকাশ থাকলেই দেখা দেয় হিমালয়ের এই পর্বতশৃঙ্গ। কোনো বাইনোকুলারের প্রয়োজন পড়ে না, খালি চোখেই নয়নভরে উপভোগ করা যায় এর সৌন্দর্য। আর এ কারণেই পঞ্চগড়কে বলা হয়ে থাকে হিমালয়কন্যা।

মাউন্ট এভারেস্ট ও কে-২ এর পরেই কাঞ্চনজঙ্ঘার অবস্থান। পর্বতচূড়াটির কিছু অংশ ভারতের সিকিম ও কিছু অংশ নেপালে অবস্থিত। পর্বত চূড়াটির সৌন্দর্য নিয়ে অনেক কবিই কবিতাও লিখেছেন। বেগম রোকেয়া লিখেছেন 'কি শান্তির কোলে নীরবে ঘুমাও রাশি/তুষার অম্বরে ঢাকি মোহন মুরতিখানি'। কবি সুদীপ দাস লিখেছেন 'তোমার রূপের অপরিসীম উজ্জ্বলতা/আকাশের ললাটের তিলকসম অঙ্গরাগ আর প্রকৃতির উচ্ছ্বলতা/শৈলপ্রান্তের রজতশুভ্র হেমকান্তি তুষারবৃত/আলিঙ্গন মত্ত মেঘমালা তার বক্ষঃস্থলে আশ্রিত'।

মনোমুগ্ধকর এই পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে সামর্থ্যবানরা ছোটেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলা শহরের টাইগার হিল। দার্জিলিং-এর টাইগার হিলই কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়া দেখার সবচেয়ে আদর্শ জায়গা। আবার কেউ কেউ যান সান্দাকপু বা ফালুট। আবার কেউ কেউ সরাসরি নেপালে গিয়ে পর্যবেক্ষণ করে থাকেন। কিন্তু ঘরোয়া পরিবেশে নিজের মতো করে দেখার সুযোগ কেবল পঞ্চগড় থেকেই মিলছে।

পঞ্চগড়ের প্রায় সব এলাকার ফাঁকা জায়গা থেকেই দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা। তবে সবচেয়ে ভালো দেখা যায় তেঁতুলিয়ার জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর পাশ দিয়ে বয়ে চলা মহানন্দা নদীর তীরে দাঁড়িয়ে। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর এই সময়টুকুতেই মেঘমুক্ত ও কুয়াশামুক্ত আবহাওয়ায় আকাশের বুকে ভেসে উঠে কাঞ্চনজঙ্ঘা। সেই সাথে দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি অঞ্চলও কালো পাহাড়ের মতো ভেসে ওঠে।

উত্তরে চোখ গেলেই দেখবেন খোলা মাঠের ফাঁক দিয়ে চোখের সামনে দাঁড়িয়ে আছে শ্বেতশুভ্র কাঞ্চনজঙ্ঘা। সূর্যের আলোর সাথে সাথে কখনো শুভ্র, কখনো গোলাপি, আবার কখনো লাল রঙ নিয়ে হাজির হয় বরফে আচ্ছাদিত এই পর্বত চূড়া। তাই শীতের কাঞ্চনজঙ্ঘার বিস্ময়কর এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে শীত এলেই পঞ্চগড়ে ছুটে আসেন প্রকৃতিপ্রেমীরা আর প্রাণভরে উপভোগ করেন পর্বতচূড়ার সৌন্দর্য।

কাঞ্চনজঙ্ঘা উপভোগ করার করার মোক্ষম সময় হলো ভোর ও বিকেলবেলা। ভোরে আলো ফুটতেই তা গিয়ে পড়ে ঠিক কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়ায় গিয়ে। এদিকে চারপাশে তখনে আবছা অন্ধকার থাকলেও চকচক করে চূড়াটি। ভোরের আলোয় এবং বিকেলে পর্বত চূড়াটি পোড়ামাটির রঙ নেয়। বেলা বাড়ার সাথে সাথে কিছু ঝাপসা হয়ে আসে। তখন রঙ হয় সাদা। দূর থেকে মনে হয় এ যেন আকাশের গায়ে এক খণ্ড বরফ। পর্বতচূড়াটির নিচ দিয়েই কালো রঙে দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি এলাকা দেখা যায়। সন্ধ্যায় দার্জিলিংয়ের জ্বলে ওঠা বাতিগুলোও এখানে দাঁড়িয়ে দেখা যায়। এ দৃশ্য উপভোগ করতে তেঁতুলিয়া উপজেলা প্রশাসন একটি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করেছে।

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকা থেকে খালি চোখেই কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতচূড়া দেখা যাচ্ছে। প্রতিবছর শীতের এ সময়টিতেই পরিষ্কার মেঘমুক্ত আবহাওয়ায় এটি দেখা যায়। এ জন্য হাজারো পর্যটক আসেন পঞ্চগড় থেকে পর্বতচূড়াটির সৌন্দর্য উপভোগ করতে। এ ছাড়া সমতলের সবুজ চা বাগানসহ অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখেন তারা। আমরা পঞ্চগড়ের পর্যটনকে আরো সমৃদ্ধ করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এরই মধ্যে তেঁতুলিয়ায় বেরং কমপ্লেক্স নির্মাণ ও একটি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা