kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

পাঁচ মাসের শিশু চুরি

‘আমার কলিজা কই’

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর   

২৯ অক্টোবর, ২০২০ ০২:৫০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাঁচ মাস বয়সী মেয়েকে পাশের কক্ষের ভাড়াটিয়া এক যুবতীর কোলে দিয়ে গোসল করতে গিয়েছিলেন মা লাইজু বেগম। মিনিট বিশেক পর ফিরে দেখেন মেয়েকে নিয়ে উধাও ওই যুবতী। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাদের হদিস মেলেনি। মেয়েকে না পেয়ে লাইজু বেগম এখন পাগলপ্রায়। বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। সংজ্ঞা ফিরতেই বলছেন, ‘আমার সোনা কই! ওই যে কান্না শোনা যায় আমার সোনার!’

গত মঙ্গলবার গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ধনুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্বজনদের অভিযোগ, শিশুটিকে নিয়ে পালানোর সময় ওই যুবতী বাড়ির মালিকের সাত বছর বয়সী এক মেয়ের গলার সোনার চেইনও চুরি করে নেন। যুবতীর নাম সোনালী আক্তার (২৫)। তিনি টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার বাসিন্দা বলে পরিচয় দিয়ে স্বামীকে নিয়ে বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন। তাঁর স্বামীর নাম কিংবা ঠিকানা জানাতে পারেনি কেউ।

লাইজু বেগম হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার যাত্রাপাশা দীঘিরপাড় গ্রামের হাসান মিয়ার স্ত্রী। তাঁর চুরি যাওয়া মেয়ের নাম রিভা মনি। তাঁরা ধনুয়া গ্রামের আবদুল আজিজের (আজিত) বাড়ির ভাড়াটিয়া। চার বছর বয়সী আরো একটি মেয়ে আছে তাঁদের। একই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন সোনালীও।

এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার রাতে শ্রীপুর থানায় মামলা করেছেন লাইজু।

লাইজুর স্বামী হাসান মিয়া জানান, দুই বছর ধরে ওই বাড়িতে ভাড়া থেকে পাশের আরএকে সিরামিক কারখানায় চাকরি করেন তিনি। প্রায় দেড় মাস আগে তাঁর পাশের কক্ষটি ভাড়া নেন সোনালী। সোনালীর স্বামী রিকশাচালক বলে জানিয়েছিলেন।

হাসান মিয়া আরো জানান, মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে সোনালী তাঁর মেয়েকে কোলে নিয়ে আদর করছিলেন। মেয়ে সোনালীর কোলে থাকায় এ সময় তার মা গোসল করতে যান। ২০ মিনিট পর ফিরে শিশুসহ সোনালীকে খুঁজে পাননি তিনি। ওইটুকু সময়ের মধ্যেই বাড়ির মালিকের সাত বছর বয়সী মেয়ের গলা থেকে সোনার চেইনও চুরি করে নেন সোনালী।

কান্নায় ভেঙে পড়ে হাসান মিয়া জানান, মেয়েকে না পেয়ে তাঁর স্ত্রী এখন পাগলপ্রায়। বারবারই মূর্ছা যাচ্ছেন। সংজ্ঞা ফিরতেই ফিডারের বোতল নিয়ে এদিক-সেদিক ছুটছেন। বলছেন, ‘আমার সোনার খিদা লাগছে। আমার সোনা কাঁদছে।’ সোনালী শিশুপাচার চক্রের সদস্য হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন হাসান মিয়া।

শ্রীপুর থানার ওসি খোন্দকার ইমাম হোসেন বলেন, ‘সোনালী আক্তারের স্বামীর নাম, এমনকি ঠিকানা কেউ জানাতে পারেনি। তাঁর মোবাইল নম্বরও কারো জানা নেই। পুলিশ অনেক গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি দেখছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা