kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

'এ জীবন থাকার চেয়ে মরে যাওয়া ভালো'

বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি   

২৮ অক্টোবর, ২০২০ ১৮:০৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'এ জীবন থাকার চেয়ে মরে যাওয়া ভালো'

প্রতিবন্ধী পরিবার

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে সীমান্তবর্তী গ্রামে স্বামীসহ একই পরিবারের চার প্রতিবন্ধী নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে মনিকা হাঁসদা নামের এক আদিবাসীর পরিবার। থাকেন ভাঙা ঘরে। অন্যের বাড়িতে ঝিঁ আর মাঠের জমিতে কাজ করে যা আয় হয় তা দিয়েই চলে মনিকার সংসার।

মনিকা হাঁসদা (৫৮) বিরামপুর উপজেলার বিনাইল ইউনিয়নের রানীনগর আদিবাসী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ছাড়া পরিবারের লোক চারজন। পরিবারের ছোট ছেলে স্যামসন (১৬), তার বড় সালমন সরেন (২০), মেয়ে এলেনোরা (২৭) এবং স্বামী মানুয়েল সরেন (৬৩)। বাবাসহ সন্তানরা বামন।  মানুয়েল সরেনের নিজের হাত ও পা বিকল হয়েছে। কানে শুনতে পান না। মেয়ে এলেনোরা স্থায়ীভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন না। ঠিকমতো কথাও বলতে পারেন না। সালমন সরেন একটু কথা ভালো বলতে পারলেও উচ্চতার কারণে কোথাও কাজ করতে পারেন না। একই অবস্থা স্যামসন সরেনেরও।

সরেজমিনে মনিকা হাসঁদার বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, একটি মাত্র মাটির নড়বড়ে ভাঙা ঘর। ঘরের পশ্চিম পাশের একাংশে দেয়াল অতিবৃষ্টিতে ভেঙে গেছে। টিন দিয়ে দেয়াল আটকানো হলেও মাটির মেঝেতে একটি চটের বস্তার ওপর ছেঁড়া কাঁথায় ঘুমানোর জায়গা। বাঁশের কঞ্চি দিয়ে দরজা লাগানো থাকলেও সেটিও একটি দড়ি দিয়ে বাঁধা।

জানতে চাইলে মনিকা হাসঁদা কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রতিবন্ধী স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি। থাকার জায়গা নেই। খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছি। মানুষের বাড়িতে এবং মাঠে কাজ করে যে আয় হয় তা দিয়ে সংসার চলে না। মেয়েটার চিকিৎসা করাতে পারি না। এত কষ্টের পরও সরকারি কোনো সহযোগিতা পাই না। এ জীবন থাকার চেয়ে মরে যাওয়া ভালো।

মনিকা হাঁসদা বলেন, প্রায় ২০ বছর আগে মনিকার থাকার জন্য ঘরটি করে দেয় কারিতাস নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এখন তারা আর খোঁজ নিচ্ছে না।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ওই পরিবারের ছোট ছেলেকে সম্প্রতি প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। পরিবারের অন্যদের তথ্য যাচাই করে সরকারি সহায়তার আওতায় আনা হবে।

বিরামপুর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. রাজুল ইসলাম বলেন, একই পরিবারের চার সদস্য প্রতিবন্ধীর আওতায় এলে অবশ্যই তাদের ভাতা কার্ডের ব্যবস্থা করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিমল কুমার সরকার বলেন, আসলেই এটি অমানবিক। তাদের বিষয়গুলো যাচাই করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা