kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

রোগীর টাকা খায় কে...?

সিরাজগঞ্জ ও কাজীপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি   

২৭ অক্টোবর, ২০২০ ১৭:০৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রোগীর টাকা খায় কে...?

ফাইল ছবি

পেটের সমস্যা নিয়ে কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসেছিলেন উপজেলা সদরের আসাদুল ইসলাম। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ শেষে উপজেলা কমপ্লেক্সের চিকিৎসক তাকে হাসপাতালের ল্যাবরেটরি থেকে রক্তের দুইটি নমুনা পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি হাসপাতালের নির্ধারিত কাউন্টারে ১৪০ টাকা ফি জমা দিয়ে তার রক্তের নমুনা পরীক্ষা করান। তিনি ১৪০ টাকা জমা দিলেও হাসপাতালের রেজিস্ট্রারে উল্লেখ করা হয়েছে মাত্র ৬০ টাকা। 

ওই দিনে আশা নামের অন্য এক রোগী তিনটি পরীক্ষা করানো হয়েছে। এ জন্য ওই রোগী ১২০ টাকা জমা দিয়েছেন। অথচ সরকারি খাতায় ওই রোগীর পরীক্ষার কোনো নামই জমা দেখানো হয়নি।

আসাদুল ও আশার মতো অসংখ্য রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাবদ সংগৃহীত অর্থের বড় একটি অংশ এভাবেই আত্মসাৎ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রোগীদের কাছ থেকে সরকারি ধার্যকৃত অর্থের উল্লেখ করে রশিদ কাটা হলেও সরকারি রেজিস্ট্রারে দেখানো হয় অনেক কম। কোনো কোনো ক্ষেত্রে রোগীদের টাকার রশিদ দিয়ে টাকা সংগ্রহ করা হলেও সে টাকা রেজিস্ট্রার খাতায় লেখা হচ্ছে না। এভাবে প্রতি মাসে আত্মসাত করা হচ্ছে হাজার হাজার টাকা। অনেকেই অভিযোগ করছেন এই দুর্নীতির সঙ্গে কর্মকর্তার জড়িত। 

দীর্ঘদিন যাবৎ কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্র এবং উপকরণ চালু না থাকলেও প্যাথলজি বিভাগ চালু রয়েছে। সেখানে বেশ কিছু নমুনার পরীক্ষা করা হয়। আর এতেই চলছে শুভঙ্করর ফাঁকি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যাবের দায়িত্বে আছেন এমটি ল্যাব ইকবাল হাসান। প্রতিদিন গড়ে ২০-২৫ জন রোগি ওই ল্যাবে বিভিন্ন পরীক্ষা করান। এ জন্য  হাসপাতালের কাউন্টারে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা জমা দিয়ে রশিদ নেন তারা। রশিদ লেখার কাজটি করেন ওই হাসপাতালর এমএলএসএস চান মিয়া।

৩০ জুলাই শাকিল নামের এক রোগি তিনটি পরীক্ষার জন্য ২৫০ টাকা জমা দিলেও সরকারি খাতায় দেখানো হয়েছে মাত্র ২০ টাকা। এমনি করে গত ১০ আগস্ট নাসিম, ১২ আগস্ট রাজ ভানুর নিকট থেকেও পরীক্ষার নাম যে টাকা নেওয়া হয়েছে সরকারি খাতায় তার অনেক কম জমা দেখানো হয়েছে।

এ বিষয়ে  হাসপাতালের এমটি ল্যাব ইকবাল হাসান সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগটি  অস্বীকার করেন।

কাজিপুর উপজলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. মোমেনা পারভীন পারুল জানান, হাসপাতালে নানা অভিযোগের তদন্ত করতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বর্তমান অবস্থায়  হাসপাতালের সরকারি অর্থ আত্মসাতের কোনো সুযোগ নেই। তারপরেও যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে তবে তার তদন্ত করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা