kalerkantho

সোমবার । ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৩০ নভেম্বর ২০২০। ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২

সুদের টাকা না পেয়ে গৃহবধূর হাত ভেঙে দিলো সুদখোর পিতা-পুত্র

রংপুর প্রতিনিধি   

২৭ অক্টোবর, ২০২০ ০৮:৩৯ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সুদের টাকা না পেয়ে গৃহবধূর হাত ভেঙে দিলো সুদখোর পিতা-পুত্র

ছবি: হামলার শিকার গৃহবধূ জেলেখা বেগম।

রংপুরের পীরগঞ্জে সুদের টাকা না পেয়ে বাড়িতে হামলা করে জেলেখা বেগম (৫০) নামের এক গৃহবধুর হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সুদখোর পিতা-পুত্রের বিরুদ্ধে। এসময় ওই গৃহবধুর স্বামী আব্দুর রহমান ও তার অনার্স পড়ুয়া মেয়েকেও নির্দয়ভাবে পিটিয়েছে তারা। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই গৃহবধু ও তার মেয়েকে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

রবিবার সন্ধ্যায় উপজেলার হাসানপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে সুদখোর পিতা সাজেদুর রহমান ও পুত্র মানিক মিয়া।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হামলার শিকার পরিবার জানা যায়, মিঠিপুর ইউনিয়নের হাসানপুর গ্রামের সাজেদুর রহমান ও তার ছেলে মানিক মিয়া এলাকায় প্রতিষ্ঠিত সুদখোর ব্যবসায়ী। তাদের কাছ থেকে একই গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে জুয়েল মিয়া প্রতিমাসে ১৬ হাজার টাকা সুদে এক লাখ ১০ হাজার টাকা ঋণ নেয়। প্রতি মাসে কিস্তি দিয়ে ঋণের টাকা পরিশোধ করছিলেন জুয়েল মিয়া। কিন্তু এক মাসের ১৬ হাজার টাকা সুদ বকেয়া পড়ায় গত রবিবার সন্ধ্যায় আব্দুর রহমানের বাড়িতে হামলা চালায় সুদখোর পিতা-পুত্র। এসময় আব্দুর রহমানের স্ত্রী জেলেখা বাড়ির সামনে পড়শীদের সাথে কথা বলা অবস্থায় সুদখোর পিতা-পুত্র তাকে নির্দয়ভাবে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে তার একটি হাত ভেঙে দেয়। মাকে বাঁচাতে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেয়ে এগিয়ে আসলে তাকেও লাঠি দিয়ে পেটায় তারা। গুরুতর আহত অবস্থায় মা ও মেয়েকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

আব্দুর রহমান বলেন, তার ছেলে মাসে ১৬ হাজার টাকা সুদে ওই সুদখোর পিতা-পুত্রের কাছ থেকে এক লাখ ১০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিল। কয়েক মাস সুদ দেওয়ার পর আসল টাকা পরিশোধ করা হলেও এক মাসের সুদের টাকার জন্য সুদখোররা বাড়িতে এসে আমার স্ত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেয়েকে প্রকাশ্য দিবালোকে নির্দয়ভাবে পিটিয়ে আহত করে। এতে স্ত্রীর বাম হাত ভেঙে গেছে, পিটিয়ে মেয়ের মাথাও ফাটিয়েছে তারা। আমি এর বিচার চাই।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে পীরগঞ্জ থানার ওসি সরেস চন্দ্র বলেন, বিষয়টি শুনেছি। তবে এখনো কেউ অভিযোগ করেনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা