kalerkantho

বুধবার । ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৫ নভেম্বর ২০২০। ৯ রবিউস সানি ১৪৪২

রুখিয়ার পরিবারের পাশে শুভসংঘ

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, রংপুর   

২৬ অক্টোবর, ২০২০ ১৬:৫১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রুখিয়ার পরিবারের পাশে শুভসংঘ

রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের মিশনপল্লীর ক্ষুদ্র নৃজাতিগোষ্ঠীর দরিদ্র দিনেশ রাউৎ এর মেধাবী কন্যা রুখিয়া রাউৎ। রংপুর কারমাইকেল কলেজের ইতিহাস শেষ বর্ষের এই মেধাবী শিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। সন্তান হারিয়ে দরিদ্র বাবা-মা'র দিন কাটছে ঘাতকদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির অপেক্ষায়। এমন পরিস্থিতিতে কাজ ও খাদ্যের অভাবে চরম দুর্দশায় বাড়িতে বসেই দিনাতিপাত করছেন রুখিয়ার বাবা। দরিদ্র ওই পরিবারের মেয়ে রুখিয়া রাউৎ হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর থেকে তাকে নিয়ে কালের কণ্ঠের প্রিন্ট ও অনলাইন সংস্করণ বহু প্রতিবেদন প্রকাশ করে। 

এবারে কালের কণ্ঠ শুভসংঘ মানবিক সহায়তা নিয়ে রুখিয়া রাউৎ এর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে। আজ সোমবার সকালে বদরগঞ্জ উপজেলা শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে রামনাথপুর ইউনিয়নের খোর্দবাগবাড় মিশনপল্লীতে গিয়ে শুভসংঘের বন্ধুরা রুখিয়ার পরিবারকে সমবেদনা জানান। তাঁর মা-বাবা, ছোট ভাই ও তার স্ত্রীর জন্য নতুন জামা কাপড় কিনে দেন। একই সঙ্গে নগদ অর্থ, এক মণ চাল, মসুর ডাল দুই কেজি, চিনি দুই কেজি, লবণ দুই কেজি, তেল দুই লটার, চিড়া চার কেজি, নুডুলসসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয় পরিবারটিকে। এ সময় রুখিয়া রাউৎকে নিয়ে কালের কণ্ঠের অবসর পাতায় 'বইগুলোও বুঝি কাঁদে' শিরোনামে প্রকাশিত একটি সংবাদচিত্র প্রিন্ট আকারে স্মৃতিস্বরূপ তাঁর মা-বাবার হাতে তুলে দেন শুভসংঘের বন্ধুরা। 

রুখিয়ার পরিবারের হাতে মানবিক সহায়তা ও খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন কালের কণ্ঠ শুভসংঘ বদরগঞ্জ উপজেলা শাখার উপদেষ্টা সীমান্ত সাথী, সভাপতি নাহিদুল ইসলাম পলাশ, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান বাবু ও সদস্য ময়দুল ইসলাম। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, শুভংকর পোদ্দার, মোস্তাফিজার রহমান, আজমাইন আলম জয়, সাহেব আলীসহ শুভসংঘের অন্যান্য বন্ধুরা। মানবিক সহায়তা পেয়ে রুখিয়ার পরিবারসহ আদীবাসীপল্লীর নারী পুরুষ কালের কণ্ঠ শুভসংঘের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময় মুঠোফোনে কালের কণ্ঠ শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান রুখিয়ার বাবা দিনেশ রাউৎকে সমবেদনা জানান। দিনেশ রাউৎ শুভসংঘের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এর আগে বাড়িতে দেখা যায়- এতদিনেও রুখিয়ার মা সুমতি রাউৎ বুকের ধন হারানোর যন্ত্রণায় ছটফট করছেন। মেয়ের ছবি বুকে আঁকড়ে ধরে আর্তনাদ করতে দেখা যায় তাকে। বাবা দিনেশ রাউৎ কাঁদতে কাঁ;দতে শুকিয়ে ফেলেছেন চোখের জল। সন্তান হারানোর চাপা কষ্টে দিশেহারা গোটা পরিবার। রুখিয়ার ট্রেবিলের ওপর স্তূপ করে রাখা বইপত্র হাতড়িয়ে দিন কাটছে মা সুমতির। বাবা দিনেশ মেয়ের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না।

উল্লেখ্য, রংপুর কারমাইকেল কলেজের ইতিহাস বিভাগের অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির (আদীবাসী) তরুণী রুখিয়া রাউৎ। সে ছিল গোটা মিশনপল্লীর আলোর প্রদীপ। গত ৫ অক্টোবর রংপুরে বান্ধবীদের সঙ্গে দেখা করার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন তিনি। পরের দিন অজ্ঞাত হিসেবে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার হয়। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা