kalerkantho

বুধবার । ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৫ নভেম্বর ২০২০। ৯ রবিউস সানি ১৪৪২

ফসলের চেয়েও দ্বিগুণ লাভ

জলঢাকায় মাল্টা বাগান করে সচ্ছলতার দিশারি আশরাফুল

জলঢাকা(নীলফামারী) প্রতিনিধি   

২৬ অক্টোবর, ২০২০ ১০:১৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জলঢাকায় মাল্টা বাগান করে সচ্ছলতার দিশারি আশরাফুল

ছবি: মাল্টা বাগানে সফল কৃষক আশরাফুল ইসলাম।

সাধারণ ফসলের চেয়ে দ্বিগুণ লাভ। তাই মাল্টা বাগান করে এখন এলাকায় সচ্ছলতার দিশারি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন আশরাফুল ইসলাম। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকার নানা পেশার মানুষ দেখতে আসছেন তাঁর মাল্টা বাগান।

আশরাফুল ইসলামের বাড়ি নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার খুটামারা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের হরিশচন্দ্রপাট গ্রামে। তিনি ওই এলাকার মৃত অলিম উদ্দিনের সন্তান।

আশরাফুল ইসলাম বলেন, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রায় তিন বছর আগে আমাকে ৬০টি বারি১ জাতের মাল্টাগাছের চারা দেওয়া হয়। তারপর আমি চারাগুলো ১৬ শতক জমিতে লাগাই। সেখান থেকে ১২টি চারা নষ্ট হয়। এখন ৪৮টি গাছ আছে। আমি কৃষি অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় শ্রমিক নিয়ে গাছগুলো নিয়মিত পরিচর্যা করি। দ্বিতীয় বছরে আমি গাছগুলো হতে ফল পাই। সেখান থেকে কিছু ফল পাইকারদের কাছে বিক্রি করি। এবার তৃতীয় বছরে ৪৮টি গাছেই ফল ধরেছে। প্রতিটি গাছে প্রায় আড়াই মণ বা ১০০ কেজি করে ফল পেয়েছি। ৪৮টি গাছে প্রায় ১২০ মণ বা চার হাজার ৮০০ কেজির অধিক ফল পেয়েছি। এসব ফল বাজারজাত করার পর যে টাকা পেয়েছি তা কখনো কল্পনা করতে পারিনি।

এলাকার বেকার যুবকদের সহায়তার কথা জানিয়ে আশরাফুল বলেন, আমার এলাকায় অনেকেরই অনেক জমি ফাঁকা পড়ে থাকে। আমাকে দেখে শিক্ষিত বেকার যুবকরা সেই জমিগুলোতে মাল্টা বাগান করতে পারে। হয়তো বা ওরা আমার চেয়ে বেশি লাভবান হবে। অসচ্ছল পরিবার হলে আমি বিশ্বাস করি, সেই পরিবারগুলোতে অবশ্যই সচ্ছলতা আসবে।

বাগান সম্প্রসারণের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, মাল্টা এমন একটি ফল, সারা বছর গাছেই সংরক্ষণ করা যায়। এসব ফল বাজারের চাহিদামতো যেকোনো সময় গাছ থেকে সংগ্রহ করে বিক্রি করা যায়। এখানে লাভের মুখ দেখার পর আমি আরো দুই বিঘা জমিতে ২৫০টি মাল্টাগাছের চারা লাগিয়েছি। মাল্টা বাগান করে অন্যান্য ফসলের চেয়ে আমি দ্বিগুণ লাভবান হয়েছি। আমি মাল্টা বাগান করে যেমন লাভবান হয়েছি, তেমনি এ অঞ্চলের মানুষের শরীরে ভিটামিনের চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখছি।

আশরাফুলের স্ত্রী মনি আক্তার বলেন, এই বাগানের মাল্টা ফল সম্পূর্ণ ফরমালিনমুক্ত ও টাটকা। এ ছাড়া অন্যান্য ফসলের চেয়ে মাল্টা বাগান করলে অনেক লাভবান হওয়া সম্ভব। বারি১ মাল্টা চেনার উপায় হলো, এর পেছনে পয়সার মতো একটি দাগ আছে। এই জাতের ফলটি খুবই স্বাদের এবং মিষ্টি। এবার বাগান থেকে প্রতি মণ মাল্টা ৫২০০ টাকা করে বিক্রি করছি। যা কেজি দর ১৩০ টাকা। এসব ফল বাজারে পাইকাররা ১৮০-২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন।

ছবি : আশরাফুলের মাল্টা বাগান।

ওই বাগানে নিয়মিত শ্রমিক দুলাল চন্দ্র ও ক্ষীতিশ চন্দ্র বলেন, প্রায় প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকার মানুষ বাগানটিতে আসে। তারা রিকশাভ্যান কিংবা মোটরগাড়ীতে আসে। অনেকে ফলগুলো স্পর্শ করে। অনেকে স্বাদ নেয় গাছের তাজা ফল খেয়ে। কেউ বা গাছের কাছে গিয়ে ফল হাতে ছবি তোলে। যাওয়ার সময় অনেকে বাগানের তাজা মাল্টা ফল কেজি দরে কিনে নেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহ্ মোহাম্মদ মাহফুজুল হক বলেন, ‘উপজেলাটিতে পরীক্ষামূলক কিছু মাল্টা বাগান করা হয়েছে। সবগুলোতে মোটামুটি কৃষকরা সফল হয়েছে। এই এলাকার মাটি অম্লযুক্ত, যা মাল্টা চাষের জন্য উপযোগী। আকার, রং ও মিষ্টতার কারণে বারি১ মাল্টা চাষাবাদের জন্য ভালো। অন্য কোনো ফসল বা ফল আবাদ করে এত দ্রুত লাভবান হওয়া সম্ভব নয়। যা মাল্টা বাগান করে সম্ভব। যেহেতু দু-তিন বছরে গাছে ফল আসে।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুব হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মাল্টা চাষ অর্থনীতিতে যেমন অবদান রাখছে, তেমনি কৃষকরাও লাভবান হচ্ছে। মাল্টা, কমলায় যে ভিটামিনগুলো আছে তা মানব শরীরের সুস্থতার জন্য অপরিহার্য। এসব ফল বাইরে থেকে আনার ফলে দাম বেশি থাকায় প্রান্তিক লোকজন কিনতে পারে না। আমাদের এলাকার মাটি মাল্টা ফলের জন্য উপযুক্ত । প্রত্যেকে বাড়ির আঙিনায় কিংবা বাড়ির কাছে দু-চারটি করে এই ফলের চারা লাগাতে পারেন।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা