kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৬ নভেম্বর ২০২০। ১০ রবিউস সানি ১৪৪২

আলুশূন্য বরিশালের খুচরা ও পাইকারি বাজার

বরিশাল অফিস   

২৬ অক্টোবর, ২০২০ ০৪:২২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আলুশূন্য বরিশালের খুচরা ও পাইকারি বাজার

সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে ক্রয় ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের ভয়ে আলু বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন বরিশালের পাইকারি ও খুচরা দোকানদার। ফলে তিন দিন ধরে বরিশালের পাইকারি ও খুচরা দোকানগুলো আলুশূন্য হয়ে পড়েছে। 

পাইকারি আলু বিক্রেতাদের দাবি, অতিরিক্ত দামে আলু কিনে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করতে গেলে লোকসানের মুখে পড়তে হবে। আর খুচরা দোকানিদের দাবি, অতিরিক্ত মূল্যে আলু কিনলেও আড়ত থেকে দেওয়া ক্রয় চালানে সরকার নির্ধারিত মূল্য লেখা থাকে। তাই ভ্রাম্যামাণ আদালতের অভিযানে খুচরা বিক্রেতাদের জেল-জরিমানা হওয়ার ভয়ে আলু বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সরকার খুচরা বাজারে সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা আর পাইকারি বাজারে ৩০ টাকা দামে আলু বিক্রির জন্য নির্ধারণ করেছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আড়তদাররা কেজিপ্রতি ৩২ থেকে ৩৪ টাকায় আলু সংগ্রহ করে পরিবহন খরচ শেষে কেজিপ্রতি আলুর দাম দাঁড়ায় ৩৬ থেকে ৩৭ টাকায়। আড়তদারদের সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে যা  ৬ থেকে ৭ টাকা বেশি। বেশি দামে কিনে সরকার নির্ধারিত মূল্যে আলু বিক্রি করতে গেলে লাখ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হবে। এ অবস্থায় পাইকারি বিক্রেতারা আড়তে আলু বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে।

অপর দিকে খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি বাজার থেকে ৪০ টাকা দরে আলু কেনা হলেও আড়তের দেওয়া চালানে ৩০ টাকা উল্লেখ থাকে। চালানে উল্লিখিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত দামে ভোক্তা পর্যায়ে আলু বিক্রির করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জেল-জরিমানার শিকার হতে হবে। জেল-জরিমানার হাত থেকে রেহাই পেতে তিন দিন ধরে খুচরা বিক্রেতারা দোকানে আলু বিক্রি বন্ধ রেখেছেন।

নগরীর বাজার রোডস্থ বড় বাজারের মুদি দোকানি মো. কাওসার হোসেন বলেন, সরকার খুচরা বাজারে আলু বিক্রির জন্য ৩৫ টাকা নির্ধারণ করছে। আড়ত থেকে প্রতি কেজি আলু পাইকারি কিনতে হয় কমপক্ষে ৪০ টাকা দামে। কিন্তু আড়তের দেওয়া ক্রয় চালানে উল্লেখ থাকে ৩০ টাকা। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের সময় চালানে উল্লিখিত দামের চেয়ে বেশি দামে আলু বিক্রি করলে জেল-জরিমানা গুনতে হয় খুচরা ব্যসায়ীদের। তাই বরিশালের খুচরা ব্যবসায়ীরা আলু বিক্রি বন্ধ রেখেছেন। বাজার স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত খুচরা ব্যবসায়ীরা আলু বিক্রি বন্ধ রাখবেন।

পেঁয়াজপট্টি আড়তদার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দুলাল মোল্লা জানান, প্রতিদিন হাজার হাজার কেজি আলু দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রয় করেন বরিশালের পাইকারি আড়তদাররা। তবে বেশি দামে আলু কিনে সরকার নির্ধারিত মূল্যে তা বিক্রি সম্ভব হচ্ছে না। যে কারণে আলু ক্রয় বন্ধ রয়েছে।

বরিশাল জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান বলেন, আমরা ধারণা করছি, মজুদদাররা আলু মজুদ করে রাখছে অতিরিক্ত মুনাফার জন্য। আশা করছি, দুই থেকে চার দিনের মধ্যে এর সমাধান হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা