kalerkantho

মঙ্গলবার । ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৪ নভেম্বর ২০২০। ৮ রবিউস সানি ১৪৪২

তেঁতুলিয়ার ভজনপুরে দিনব্যাপী বিএমডি চেকআপ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক   

২৬ অক্টোবর, ২০২০ ০০:৫৬ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



তেঁতুলিয়ার ভজনপুরে দিনব্যাপী বিএমডি চেকআপ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

পঞ্চগড় জেলার ভজনপুরের স্থানীয় কাউর গজ গ্রামের ২৫ বছর বয়সী হাসানের কোমর ও ডান হাতে প্রচণ্ড ব্যথা। হাটু, কোমড় ও পায়ে তীব্র ব্যথা ভজনপুর গিতালগঞ্জের ৬০ বছর বয়সী মকবুল হোসেনেরও। অর্থাভাবে পরীক্ষা-নীরিক্ষা করার সামর্থ্য ছিল না তাদের। 

রোগের কারণ না জেনে ব্যথার ওষুধ খেয়েই চলেছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) স্থানীয় বেগম খালেদা জিয়া গার্লস স্কুলে অনুষ্ঠিত বিনামূল্যে বোন স্ক্রিনিং ক্যাম্পে এসে অত্যাধুনিক আলট্রাসাউন্ড পদ্ধতিতে বিনামূল্যে বোন মিনারেল ডেনসিটি (বিএমডি) পরীক্ষায় ধরা পড়ে মকবুল হোসেনের অস্টিওপোরোসিস (হাড় ক্ষয়) এবং হাসানের অস্টিওপেনিয়া (হাড়ের খনিজ ঘনত্ব হ্রাস যা হাড়ক্ষয়ের পূর্ব ধাপ) হয়েছে। তাদের আশা, এই রিপোর্ট নিয়ে চিকিৎসকের নিকট গিয়ে চিকিৎসা নিলে হয়তো ভালো থাকবেন। দিনব্যাপী এই হেলথ ক্যাম্পে ১৬০ জনের বোন মিনারেল ডেনসিটি (বিএমডি) পরীক্ষাটি করা হয়। স্থানীয় তারুণ্যদীপ্ত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'জাগ্রত তেঁতুলিয়া'র আয়োজনে এই স্ক্রিনিং ক্যাম্পটি অনুষ্ঠিত হয় নিউজিল্যান্ড ডেইরি প্রোডাক্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের সৌজন্যে। সহযোগীতায় কালের কণ্ঠ শুভসংঘ। ছয় দিনব্যাপী হেলথ্ ক্যাম্পের ধারাবাহিকতায় এটা ছিল দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম।

তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জাগ্রত তেঁতুলিয়ার উপদেষ্টা রেজাউল করিম শাহিনের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পঞ্চগড় মকবুলার রহমান সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. দেলওয়ার হোসেন প্রধান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম। বিএমডি স্ক্রিনিং বিষয়ে আলোকপাত করেন নিউজিল্যান্ড ডেইরি প্রোডাক্টস্ লিমিটেড ও এসআইবিএল হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনিস্ট রেবেকা সুলতানা রুমা। 

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জাগ্রত তেঁতুলিয়ার অন্যতম সংগঠক অ্যাডভোকেট আহসান হাবিব সরকার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নিউজিল্যান্ড ডেইরির ব্রান্ড প্রমোটর শুভ্র ই গমেজ, বিএমডি অপারেটর আফসানা নদী, ভজনপুরের তরুণ সমাজ সেবক হামিদুল হাসান লাবু, সাংবাদিক ডিজার হোসেন বাদশা, মোহাম্মদ রনি মিয়াজী, রাব্বি ইমন, সাইদুল ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ হাবুসহ স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

মকবুলার রহমান সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. দেলওয়ার হোসেন বিএমডি স্ক্রিনিং ক্যাম্প আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, মানবতার সেবায় এ ধরনের আয়োজন সেরা আয়োজন। আমি বরাবরই এ ধরনের কাজে সম্পৃক্ত থাকতে বেশ উৎসাহ বোধ করি বলেই আপনাদের ডাকে ছুটে এসেছি। তিনি আয়োজন সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতে আরো হেলথ ক্যাম্পের আয়োজন কামনা করেন।

তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জাগ্রত তেঁতুলিয়ার উপদেষ্টা রেজাউল করিম শাহীন বলেন, স্বাস্থ্যসেবার দিক দিয়ে যথেষ্ট পিছিয়ে আছি বলেই আমাদের এলাকায় এ ধরনের আয়োজন বেশ দরকার। শিগগিরই আমরা এলাকার মানুষের জন্য বিশেষজ্ঞ টেলিমেডিসিন সেবা চালু করতে যাচ্ছি যাতে ভিডিও কলের মাধ্যমে রোগীর সঙ্গে ঢাকার চিকিৎসক কথা বলে প্রেসক্রিপশন দিতে পারেন। এটা চালু হলে আমাদের এলাকার রোগীদের কষ্ট করে ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসক দেখানোর তেমন প্রয়োজন হবে না। জাগ্রত তেঁতুলিয়া, শুভসংঘের সমাজসেবামূলক নানা কাজে আমার সহযোগীতা অব্যহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।

বেগম খালেদা জিয়া গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এই ধরনের আয়োজনের জন্য আমাদের স্কুলের দাড় বরাবরই উন্মুক্ত।

নিউজিল্যান্ড ডেইরি প্রোডাক্টস ও এসআইবিএল হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল ডায়েটিশিয়ান রেবেকা সুলতানা রুমা বলেন, এটি একটি বিএমডি স্ক্রিনিং ক্যাম্প। এই পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যাবে কারো বাত ব্যথা বা হাড় ক্ষয় আছে কি না। এসব ক্যাম্পে আমরা পুষ্টি পরামর্শ দিচ্ছি তবে কোনো চিকিৎসা দিচ্ছি না। কেননা রোগী শনাক্ত হলেই পরবর্তী ধাপে আসবে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসার বিষয়টি যা সংক্ষিপ্ত পরিসরে এসব হেলথ ক্যাম্পে সম্ভব নয়।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জাগ্রত তেঁতুলিয়ার প্রতিষ্ঠাতা, কালের কণ্ঠ'র সহ সম্পাদক আতাউর রহমান কাবুল বলেন, যেকোনো রোগ প্রতিকারের আগে প্রতিরোধ জরুরি। আর প্রতিরোধের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্ক্রিনিং বা আগে ভাগে চেকআপ করানো। দুঃখজনক বিষয় হলো, আমরা রোগে না ভুগলে আগেভাগে স্ক্রিনিংয়ে তেমন সচেতন নই। তাই প্রকৃত রোগ শনাক্ত করে মানুষকে সচেতন করতে আমাদের এলাকায় সেই কাজটিই করার চেষ্টা করছি যা অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরো বলেন, ছয় দিনব্যাপী এই হেলথ ক্যাম্পের মাধ্যমে তেঁতুলিয়া-পঞ্চগড় এলাকার প্রায় দেড় হাজার মানুষকে বিএমডি স্ক্রিনিংয়ের আওতায় আনা সম্ভব হবে। এসব ক্যাম্পের মাধ্যমে যেসব হাড় ক্ষয় বা বাত ব্যথার রোগী শনাক্ত হবে, পরবর্তীতে তাদেরকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখানোর কাজটিও আমাদের উদ্যোগেই করাবো। এজন্য আমরা প্রকৃত ও জটিল রোগীদের নাম, ফোন নম্বর, রিপোর্টসহ নানা তথ্য সংরক্ষণ করছি। 

উল্লেখ্য, আগামী ২৭ ও ২৮ অক্টোবর তেঁতুলিয়ার কাজী শাহাবুদ্দিন গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গণে এবং ২৯ অক্টোবর তেঁতুলিয়ার খয়খাট পাড়া নূরানীয়া ও হাফেজিয়া মাদরাসা মাঠে পরবর্তী হেলথ স্ক্রিনিং ক্যাম্পগুলো অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টায় কার্যক্রম শুরু হয়ে দিনব্যাপী চলবে এসব হেলথ ক্যাম্প। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা