kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৩ ডিসেম্বর ২০২০। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪২

সভায় অনুপস্থিত নেতারাও আসামি!

নবীনগরে পুলিশের মামলায় যুবদলের আসামি হলেন যাঁরা

গৌরাঙ্গ দেবনাথ অপু, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)   

২৬ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নবীনগরে পুলিশের মামলায় যুবদলের আসামি হলেন যাঁরা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় যুবদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় থানায় দায়ের হওয়া মামলায় সভায় উপস্থিত ছিলেন না, এমন অনেক অনুপস্থিত নেতাদেরও আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে গ্রেপ্তার আতংকের পাশাপাশি চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

গত শুক্রবার রাতে নবীনগর থানার সেকেন্ড অফিসার এস আই জসীম উদ্দিন বাদী হয়ে যুবদলের ২৪ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ৭০/৮০ জন নেতাকর্মীকে আসামি করে মামলাটি করেন। পুলিশ ইতিমধ্যে এজাহারভুক্ত শাহীন ও শামীম নামের দুই যুবদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ মামলাটির এজাহারে যাদেরকে আসামি করেছে তাঁরা হলেন- (ক্রমানুসারে মামলায় যেভাবে লেখা হয়েছে)।

উপজেলা যুবদলের আহবায়ক মফিজুর রহমান মুকুল, যুগ্ম আহবায়ক আশরাফ হোসেন রাজু, যুগ্ম আহবায়ক আসাদুল হক দুলাল, যুবদল নেতা ইকবাল হোসেন রাজু ওরফে ইকবাল মোল্লা, পৌর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব মিয়া, যুবদল নেতা ইমাম হোসেন অনিক, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক  হযরত আলী, সাবেক সভাপতি রুবেল, সাবেক কলেজ শাখা ছাত্রদলের সদস্য আপেল, কলেজ শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজু আহম্মেদ, পৌর যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি গোলাম মাওলা ভূইয়া, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাশেদুল হক কাজী সুমন, যুবদল নেতা মোমেন মৃধা, লাউর ফতেপুর ইউপির সাবেক ছাত্রদল সভাপতি বিল্লাল হোসেন, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক আবু কাহার রানা, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি  জামাল আহম্মদ, যুবদল নেতা শুক্কুর খান, লাউর ফতেপুর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শাহীন আহম্মেদ, যুবদল নেতা আমীর হোসেন বাবুল, আবুল হোসেন, হাসান মিয়া, গোলাম কিবরিয়া শিবলী, পৌর যুবদলের সভাপতি আলী আজ্জম, সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল বারী ও লাউর ফতেপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শামীম সরকার।

এছাড়া এ মামলায় অজ্ঞাতনামা ৭০/৮০ জনকেও আসামি করা হয়েছে। তবে আলোচিত এ মামলায় ওইদিন সভায় উপস্থিত ছিলেন না, এমন অনেক অনুপস্থিত নেতাকর্মীদেরকেও আসামি করা হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যুবদল নেতারা।

এ বিষয়ে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মফিজুর রহমান মুকুল রবিবার সকালে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'ওইদিন পুলিশ বিনা উস্কানিতে আমাদেরকে বেধড়ক পিটিয়েছে। এতে কেন্দ্রীয় ও জেলা যুবদলের নেতারাও মারাত্মকভাবে রক্তাক্ত হয়েছেন। আর সভায় উপস্থিত ছিলেন না, এমন অনেক যুবদল নেতাকে আসামি করেছেন। নবীনগরে এমন সহিংস রাজনীতি কখনই ছিল না।'

নবীনগর সার্কেলের দায়িত্বে থাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মকবুল হোসেন আজ সকালে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'সরকারি গাড়ি ভাঙচুর ও তিন পুলিশ আহত হওয়ার ঘটনায় এই মামলা হয়েছে। তবে তদন্তে অনুপস্থিত কিংবা নিরপরাধ কেউ মামলায় থাকলে সে বিষয়ে যথাসময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার পুলিশের অনুমতি ব্যতীত উপজেলা যুবদলের একটি সাংগঠনিক সভা চলাকালে পুলিশ ও যুবদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় যুবদলের কেন্দ্রীয় ও জেলার নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় নেতারা আহত হন। পাশাপাশি পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরসহ তিন পুলিশও আহত হন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা