kalerkantho

বুধবার । ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৫ নভেম্বর ২০২০। ৯ রবিউস সানি ১৪৪২

৫ জনকে ঢাকায় প্রেরণ

জেলেদের হামলায় ২০ নৌ-পুলিশ আহত

চাঁদপুর প্রতিনিধি   

২৫ অক্টোবর, ২০২০ ১৬:০৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জেলেদের হামলায় ২০ নৌ-পুলিশ আহত

চাঁদপুরে ইলিশ সংরক্ষণে অভিযান চালাতে গিয়ে জেলেদের হামলায় নৌপুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। রবিবার বেলা ১১টায় চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনার দুর্গমচর রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের লক্ষ্মীরচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের বেশ কয়েকজনকে প্রথমে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য নৌপথে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, রবিবার ভোর রাত থেকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার আকাশপথে এবং নৌপথে নৌপুলিশ চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদীর বেশ কয়েকটি এলাকায় অভিযান শুরু করে। কয়েক ঘণ্টার অভিযান শেষে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার ঢাকায় ফিরে গেলেও নদীতে অভিযান অব্যাহত রাখে নৌপুলিশ। বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের লক্ষ্মীরচরের একটি খালে বেশকিছু জেলে নৌকা দেখে সেখানে নৌপুলিশের বহরটি অভিযান চালাতে যায়। এ সময় সংঘবদ্ধ জেলে ও তাদের পরিবারের সদস্যরা দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নৌ পুলিশের ওপর হামলা করে। এতে অন্তত ২০ জন পুলিশ আহত হন। এ সময় শর্টগানের গুলি ছুড়ে নিজেদের রক্ষা করে পিছু হটেন নৌ পুলিশের সদস্যরা। 

হামলায় গুরুতর আহতরা হচ্ছেন- নৌপুলিশ হেড কোয়ার্টারে কর্মরত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) ফরিদা পারভিন, সহকারী পুলিশ সুপার মো. হেলালউদ্দিন, উপপরিদর্শক মো. ইলিয়াস মাতাব্বর, নায়েক মো. শাহজালাল, ইকবাল হোসেন, মুজাহিদুল ইসলাম, মো. মামুন, ফেরদৌস শেখ, নিলয় দেব, কনস্টেবল প্রসেনজিত দাস, আল আমিন, মো. কাউসার এবং মো. মোনায়েম। এ ছাড়া নৌপুলিশ, চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার ফরিদ আহমেদসহ আরো ছয় জন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হন।

ঘটনার শিকার নৌপুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. হেলালউদ্দিন জানান, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই মাথায় আঘাত করে তাকে মাটিতে ফেলে দেয় জেলেরা। এ সময় সহকর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে তাকে উদ্ধার করেন।

নৌপুলিশ হেড কোয়ার্টারে কর্মরত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) ফরিদা পারভিন জানান, তারা তাদের বহনকারী লঞ্চ ও স্পিডবোট থেকে তীরে নামা মাত্র কয়েক শ জেলে ও তাদের পরিবারের সদস্যরা চারদিক ঘেরাও করে হামলা করে। এ সময় জেলে ও তাদের পরিবারের সদস্যরা দেশি অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করে। হামলার শিকার পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি সামাল দিতে শর্টাগনের ফাঁকা গুলি ছুড়ে আহত অবস্থায় ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

আহতদের দুপুরে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরমধ্যে গুরুতর আহত পাঁচ জনকে  উন্নত চিকিৎসার জন্য নৌপথে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. সুজাউদৌলা রুবেল জানান, আহতদের বেশির ভাগেই মাথায় ও শরীরের বিভিন্নস্থানে জখম হয়েছে। তবে সবাই অনেকটা আশঙ্কামুক্ত। 

এ ঘটনায় কত জন জেলে আটক কিংবা আহত এবং শর্টগানের কতো রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে তা নিশ্চিত করতে জানাতে পারেননি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কেউ। অন্যদিকে রবিবার ভোর রাত থেকে শুরু হওয়া অভিযানে প্রায় শতাধিক মাছ ধরা নৌকা ডুবিয়ে দেয় নৌপুলিশ। আর এই ঘটনার পর বেপরোয়া জেলেরা ক্ষিপ্ত হয়ে সংঘটিতভাবে নৌপুলিশের ওপর এই হামলা চালায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা