kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

নবীনগরে যুবদলের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও গাড়ি ভাঙচুর, গ্রেপ্তার ২

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি   

২৫ অক্টোবর, ২০২০ ০২:২১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নবীনগরে যুবদলের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও গাড়ি ভাঙচুর, গ্রেপ্তার ২

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় যুবদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। নবীনগর থানার সেকেন্ড অফিসার এস আই জসীম উদ্দিন বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে মামলাটি দায়ের করেন। 

মামলায় উপজেলা যুবদলের আহবায়ক মফিজুর রহমান মুকুল ও যুগ্ম আহবায়ক আশরাফ হোসেন রাজুসহ ২৪ জন যুবদল নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৭০/ ৮০ জন নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে শাহীন ও শামীম নামের দুই যুবদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনার পর স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীদের মাঝে গ্রেপ্তার আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক কর্মকান্ডকে চাঙ্গা করার লক্ষে উপজেলা যুবদলের উদ্যোগে গত শুক্রবার বিকেলে পৌর এলাকার আলীয়াবাদ গ্রামে সাবেক বিএনপি নেতা মরহুম মদন মিয়া মেম্বারের বাড়িতে কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে সাংগঠনিক সভা চলছিল। ওই সাংগঠনিক সভায় দ্বিধাবিভক্ত যুবদলের মফিজ ও রাজু গ্রুপের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কিন্তু প্রশাসনের যথাযথ অনুমতি ব্যতীত ওই সাংগঠনিক সভার খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে মারমুখি হয়ে ব্যাপক লাঠিচার্জ শুরু করলে, সভা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এসময় পুলিশের বেধড়ক লাঠিচার্জে কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দসহ অনেকেই আহত হন। পুলিশ ও যুবদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ওই সময় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে।

এক পর্যায়ে যুবদলের কর্মীদের ইট পাটকেল নিক্ষেপে পুলিশের গাড়ির গ্লাস ভেঙে যায় এবং পুলিশের ৩ সদস্য আহত হন। এ সময় পুরো এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার পর ফেসবুকে পুলিশের বেধড়ক পিটুনীতে আহত যুবদল নেতাদের ছবি প্রকাশিত হলে এ নিয়ে বিএনপিসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় উঠে।

এ বিষয়ে নবীনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনিছুর রহমান মঞ্জু পুলিশের মারমুখি আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, 'একটি শান্তিপূর্ণ ঘরোয়া সভায় বিনা উষ্কানিতে পুলিশের এ ধরনের আকস্মিক ঘৃণ্য হামলা নবীনগরের সুদীর্ঘকালের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক ইতিহাস ঐতিহ্য এবং পারস্পরিক সহঅবস্থানের ধারাবাহিকতাকে মারাত্মকভাবে কলংকিত করেছে। এটি নবীনগরের রাজনৈতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন। দোষীদের বিচার দাবি করছি।'

নবীনগর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) রুহুল আমীন আজ দুপুরে মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, 'সভা করার কোনো অনুমতি না থাকার পরও এই করোনাকালে যুবদলের নেতারা বিকেলে সাংগঠনিক সভা করায় পুলিশ বাঁধা দিয়েছে। এ সময় যুবদলের উচ্ছৃংখল কর্মীদের ইট-পাটকেলে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরসহ ৩ পুলিশ আহত হয়েছে। তাই পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে।'

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) মকবুল হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, 'পুলিশের কাজে বাধা ও সরকারি সম্পদ ক্ষতির কারণে দায়ের হওয়া এই মামলায় ইতিমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকীদের গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে পুলিশ।'

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা