kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

মৃত্যুর পরও কি তিনি দেখে গেলেন এই পৃথিবীর নিষ্ঠুরতা!

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

২৪ অক্টোবর, ২০২০ ১৯:৪৩ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মৃত্যুর পরও কি তিনি দেখে গেলেন এই পৃথিবীর নিষ্ঠুরতা!

আনুমানিক ৫০ বছর বয়সী মানুষটি কারো না কারো সন্তান। হয়তো তাঁরা পৃথিবীতে বেঁচে নেই। হয়তো তাঁর সন্তান কিংবা স্বজন থেকেও নেই। আর তাই যেন মৃত্যুর পরও তিনি দেখে গেলেন এই অবাক পৃথিবীর কঠোরতম নিষ্ঠুরতা!

প্রথমে অসুস্থ অবস্থায় রেলওয়ে স্টেশনে পড়েছিলেন তিন দিন। মৃত্যুর পর আরো তিন দিন থাকতে হয়েছে হাসপাতালের লাশঘরে। অবশেষে 'কাগুজে জটিলতা' কাটিয়ে কাটা-ছেঁড়া শরীরে কবরে তাঁর ঠাঁই হওয়ার যখন প্রক্রিয়া চলছে, তখন তিনি পচা-গলা।

১৮ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন থেকে অসুস্থ অবস্থায় ওই বৃদ্ধকে উদ্ধার করা হয়। এর আগে তিন দিন ধরে সেখানে পড়েছিলেন তিনি। ২১ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে মারা যান তিনি। এরপর থেকে কাগুজে জটিলতায় হাসপাতাল মর্গে ওই বৃদ্ধের লাশ পড়ে থাকে। রবিবার দুপুরে তাঁর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে লাশ দাফনের প্রক্রিয়া নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, মূলত কর্তৃপক্ষের গাফিলাতির কারণে ওই ব্যক্তির লাশ তিন দিন পড়ে থাকে। কেননা, হাসপাতালে কেউ মৃত্যুর পর ময়নাতদন্তের প্রয়োজন হলে প্রয়োজনীয় যে কাগজ মর্গে পাঠাতে হয় সেটি সময়মতো পাঠানো হয়নি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংবাদকর্মী ইসহাক সুমন জানান, স্টেশন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ওই বৃদ্ধ পড়ে থাকার খবর পাই। পরে স্থানীয় একটি সংগঠনের মাধ্যমে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি মারা গেলে কাগজ নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হলে লাশ পড়ে থাকে।

ময়নাতদন্তের দায়িত্বে থাকা মো. সুমন জানান, মৃত্যুর পরই লাশ মর্গে আনা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের স্বাক্ষর না থাকায় ময়নাতদন্ত করা সম্ভব হয়নি। শনিবার স্বাক্ষরসহ কাগজ এসে পৌঁছার পর রবিবার দুপুরে ওই ব্যক্তির লাশ দাফন করা হয়।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো শওকত হোসেন বলেন, রোগী যে ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন সেখানকার সেবিকা (নার্স) পারুল আক্তার চিকিৎসকের স্বাক্ষর সময়মতো নিতে পারেননি। এ ঘটনায় ওই সেবিকাকে শোকজ করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে ওই ব্যক্তির লাশ দাফনেরও প্রক্রিয়া চলছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা