kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

৭০ বছরেও মালামার ভাগ্যে জোটেনি কোনো ভাতা

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি    

২৪ অক্টোবর, ২০২০ ১৯:৩৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৭০ বছরেও মালামার ভাগ্যে জোটেনি কোনো ভাতা

ছোট্ট একটি জীর্ণশীর্ণ ঘর। সেখানে নিথর শরীর নিয়ে বিছানায় পড়ে রয়েছেন মালামা অলমিক নামে ৭০ বছর বয়সের (অবসর) এক নারী চা-শ্রমিক। না পারেন উঠতে, না পারেন বসতে। দুটো চোখের পাতা এক করে ঘুমাতেও পারেন না তিনি। বয়সের ভারে নানা অসুখের মাঝে এখন পক্ষাঘাতগ্রস্থত হয়ে মৃত্যুর দিন গোনা ছাড়া তার আর কোনো উপায়ও নেই।

না বলা কথা আর জমানো দীর্ঘশ্বাস নিয়ে অসুস্থ মালামা অলমিকের দুটি চোখ ভিজে গিয়ে হয়তো বলে ওঠে, 'জন্মই আমার আজন্ম পাপ।' ৭০ বছর হয়ে গেলেও তার ভাগ্য জোটেনি এখনো সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা। বঞ্চিত রয়েছেন বয়স্ক ভাতা, স্বামী পরিত্যাক্তা ভাতাসহ অন্যান্য সকল সুযোগ-সুবিধা থেকে।

মালামা অলমিক এক সময় দাপিয়ে কাজ করেছেন কুলাউড়ার কর্মধা ইউনিয়নের কালিটিতে অবস্থিত চা গবেষণা উপকেন্দ্রের স্থায়ী শ্রমিক হয়ে। স্বামী ও এক ছেলে সন্তান নিয়ে জীবন-সংগ্রামে কঠোর শ্রমের বিনিময়ে চলছিলো তার সংসার। আচমকা একটা ঝড় এসে সব তছনছ করে দিয়ে গেলো মালামার সংসার। বিয়ের একযুগ পর স্বামী লাতানা অলমিক ঘর থেকে বের হয়ে চলে যায়, সেইসাথে ছেলেও। আর তাদের খোঁজ মেলেনি। তারা জীবিত না মৃত আছেন সেটা তিনি জানেন না। বুঝে উঠতে পারেননি কি করবেন তখন, ভাগ্যের কাছে আত্মসমর্পণ করে একাই বাঁচার লড়াই চালিয়ে গেলেন। ভবিষ্যত তহবিলের টাকা (এক লাখ) উত্তোলন করে গত বছর অবসর নেন। কালিটি চা বাগানের জংলী লাইনে ভাতিজা শংকর অলমিকের ঘরে এখন মালামা অলমিকের অবস্থান। তারও মা-বাবা নেই। মানসিক অসুস্থতা নিয়ে ৫-৬ মাস ধরে শংকর সেবা করে যাচ্ছেন মালামা অলমিকের। 

সারাজীবন খেঁটেখুঁটে পাওয়া ভবিষ্যতের সামান্য টাকাও শেষ। আত্মীয়-স্বজন সবাই ছিলো, এখন ভাতিজা শংকরই তার একমাত্র ভরসা। বয়স্ক ভাতা, স্বামী পরিত্যাক্তা ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত মালামা অলমিকের এই দুঃসহ বেদনার সাক্ষী যাপিত সময়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য লসমি নারায়ন অলমিক বলেন, মালামা অলমিক আমার নিকট আত্মীয় হন। আর্থিক সমস্যা থাকার কারণে তার যথাযথ চিকিৎসা করানো যায়নি। তবে মাঝেমধ্যে আমরা বাগানের অনেকে সাহায্য-সহযোগিতা করেছি। আশা করছি, আর্থিক সহযোগিতা মিললে উন্নত চিকিৎসা করলে হয়তো মালামা অলমিক আবারো সুস্থ হয়ে উঠবেন। তার এই সমস্যার বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু এখনো মালামা সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এটিএম ফরহাদ চৌধুরী বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তবে এখন যেহেতু আপনাদের মাধ্যমে জেনেছি ওই মহিলার বিষয়ে আমরা খোঁজখবর নেব। তাকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় এনে সরকারি ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা