kalerkantho

বুধবার । ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৫ নভেম্বর ২০২০। ৯ রবিউস সানি ১৪৪২

পাওনা টাকা চাওয়ায় বিকাশ এজেন্টকে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২৪ অক্টোবর, ২০২০ ১৯:১৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাওনা টাকা চাওয়ায় বিকাশ এজেন্টকে হত্যা

চট্টগ্রাম মহানগরীর পাহাড়তলী থানা এলাকা থেকে গত ১৫ অক্টোবর বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধারকৃত বিকাশ এজেন্ট বিজয় কুমার বিশ্বাস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উম্মোচন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ ঘটনায় আবদুল রহমান (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃত আবদুর রহমান গোপালগঞ্জ জেলার গোলাবাড়িয়া গ্রামের আবদুল গফুরের ছেলে। ব্যবসায়িক সূত্র তিনি চট্টগ্রাম নগরীতে বাস করেন।

তিনি শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম সারোয়ার জাহানের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে হত্যা দায় স্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে তিনি হত্যাকাণ্ডের কারণ ও হত্যার পর মরদেহ বস্তাবন্দি করে পাহাড়তলী থানা এলাকায় ফেলার বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন। জবানবন্দি দেওয়ার পর আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

হত্যারহস্য উম্মোচনের বিষয়টি নিশ্চিত করে সিআইডি চট্টগ্রাম জেলার বিশেষ পুলিশ সুপার শাহনেওয়াজ খালেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, বিকাশ এজেন্ট ব্যবসায়ী বিজয় হত্যা মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এই মামলার অন্য একজন আসামিকে গ্রেপ্তারে সিআইডির অভিযান অব্যাহত আছে।

আবদুর রহমানকে গ্রেপ্তার এবং মামলার তদন্ত প্রসঙ্গে তদন্তকারী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ধৃত আবদুর রহমান ইপিজেড থানার নেভী ওয়েল ফেয়ার মার্কেটে ব্যবসা করেন। তিনি ঠিকাদারী ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। আবদুর রহমান যে ভবনে ব্যবসা করেন, সেই ভবনের নিচ তলায় বিকাশ এজেন্টের ব্যবসা করতেন বিজয়। তিনি কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলার সন্তোষ কুমার বিশ্বাসের ছেলে। মৃত্যুর আগে পরিবার নিয়ে খুলশী থানার হাইলেবেল রোডের একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন।

ঘটনার সূত্রপাত বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, প্রায় ৮-৯ মাস আগে বিজয়ের কাছ থেকে দেড় লাখ ঋণ গ্রহণ করেন আসামি আবদুর রহমান। মাসে সাত হাজার টাকা মুনাফা দেওয়ার কথা বলে এই ঋণ গ্রহণ করার পর কয়েক মাস ধরে রহমান ঠিকমতো মুনাফার টাকা পরিশোধ করছিলেন না। এই কারণে বিজয় টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য রহমানকে চাপ দেন। গত ১৪ অক্টোবর টাকা দেওয়ার নাম করে বিজয়কে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ডেকে নেন রহমান। এরপর সেখানে দুজনের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে বিজকে ধাক্কা দিলে তিনি পড়ে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তখন ইন্টারনেটের তার গলায় প্যাঁচিয়ে বিজয়কে হত্যা করেন রহমান।

হত্যাকাণ্ডের পর রাতে মরদেহ রহমানের অফিসেই ছিল। পরদিন সকালে বিজয়ের মরদেহ স্কচটেপ ও ককসিট মুড়িয়ে বস্তাবন্দি করে। এরপর রহমান তাঁর প্রতিষ্ঠানের কর্মী নাছিরকে নিয়ে একটি রিকশায় তোলে বস্তাবন্দি মরদেহ। কিছুদূর গিয়ে অটোরিকশায় তোলা হয় মরদেহ। শেষে সুযোগ বুঝে মরদেহটি পাহাড়তলী থানার অলংকার আলিফ গলিতে ফেলে আসে।

ওইদিনই বিজয়ের মরদেহ উদ্ধার করে পাহাড়তলী থানা পুলিশ। অবশ্য, আগের রাতে বাসায় না ফেরায় বিজয়কে আত্মীয় স্বজনের বাসায় খোঁজ নেয় পরিবার। না পেয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করে। আর মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পরই পাহাড়তলী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলাটি পরবর্তীতে তদন্তের জন্য অধিগ্রহণ করে সিআইডি। ঘটনার ১০ দিনের মধ্যেই হত্যারহস্য উম্মোচন করে সিআইডি আসামিকে আদালতে সোপর্দ করে। 

হত্যাকাণ্ডের পর আসামি রহমান আত্মগোপনে গিয়ে 'অপহরণ' নাটক সাজিয়েছিল। পরে বাসায় নিজে নিজে ফিরে আসে এবং শুক্রবার সিআইডির হাতে গ্রেপ্তার হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা