kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

বয়স্ক ভাতা তালিকায় সমাজকর্মীর স্বজনদের নাম

কাশিয়ানী (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি   

২৪ অক্টোবর, ২০২০ ১৬:৪১ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বয়স্ক ভাতা তালিকায় সমাজকর্মীর স্বজনদের নাম

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে বয়স্ক ভাতার তালিকা তৈরিতে ইউনিয়ন সমাজকর্মীর বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার রাজপাট ও মাহমুদপুর ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা ইউনিয়ন সমাজকর্মী ও ভাতা যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য সচিব চঞ্চলা রানী বণিকের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে মাহদী হাসান নামে এক মানবাধিকারকর্মী গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চঞ্চলা রানী বণিক তথ্য গোপন করে ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তার আত্মীয়-স্বজনদের নামে বয়স্ক ভাতা কার্ড করে দিয়েছেন। এতে ওই ইউনিয়নের প্রকৃত প্রবীণ ব্যক্তিরা ভাতা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

ভাতা প্রাপ্তরা হলেন- ইউনিয়ন সমাজকর্মী চঞ্চলা রানী বণিকের শ্বশুর ৬৪ নম্বর মাহমুদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক প্রিয়নাথ দাস, চাচা শ্বশুর রামদিয়া সরকারি এস. কে কলেজের দর্শন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক সুশীল কুমার ও নিকটাত্মীয় সাবেক স্বাস্থ্য পরিদর্শক অখিল বিশ্বাস। ভাতাপ্রাপ্ত তিনজনই একই বাড়ির বাসিন্দা ও আর্থিকভাবে অত্যন্ত স্বচ্ছল এবং তাদের স্ত্রী ও ছেলেরা সরকারি চাকরি করেন। ২০১৮ সালের জুলাই মাস থেকে তারা সরকারি দুস্থ ভাতা ভোগ করে আসছেন। 

ইউপি চেয়ারম্যান ও ভাতা কমিটির সভাপতি মো. মাসুদ রানা বলেন, 'আমরা যাচাই-বাছাইয়ের সময় ইউনিয়নব্যাপী মাইকিং করেছিলাম। তবে অফিসের লোকেরা কি করেছে, সেটা আমার জানা নেই।'

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই এলাকার একজন প্রবীণ ব্যক্তি বলেন, 'চঞ্চলা রানী বণিক স্বজনপ্রীতি ও ভাতার নীতিমালা লঙ্ঘন করে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবিদের ভাতা প্রদান করেছেন। তার সাথে কথা বললে সে হুমকি দিয়ে বলে এটা আমার অফিসিয়াল ব্যপার। আমি সরকারি চাকরি করি আমাকে কেউ কিছু করতে পাবে না।'

এ ব্যাপারে চঞ্চলা রানী বণিকের সাথে কথা হলে তিনি সাংবাদিকদের কাছে তার দোষ স্বীকার করেন। তিনি এ সব ভাতা বন্ধ করে বই অফিসে ক্লোজ করবেন বলে জানিয়েছেন।

কাশিয়ানী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এম এম ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা