kalerkantho

শনিবার। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৫ ডিসেম্বর ২০২০। ১৯ রবিউস সানি ১৪৪২

কেরানীগঞ্জে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ছাদ বাগান

আলতাফ হোসেন মিন্টু, কেরানীগঞ্জ   

২৪ অক্টোবর, ২০২০ ০৫:০২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কেরানীগঞ্জে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ছাদ বাগান

ঢাকার কেরানীগঞ্জে দিনে দিনে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ছাদ বাগান। শুরুর দিকে সৌখিনভাবে বাগান করলেও এখন অনেকেই বিভিন্ন ফল ও সবজির বাগান করছে ছাদে। পরিবারের ফল ও শাক-সবজির চাহিদা মেটাতে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে শখের ছাদবাগান। বিশেষ করে করোনা কালীন সময়ে কেরানীগঞ্জের তরুণ তরুণীরা যার যার বাসার ছাদে অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে গড়ে তুলেছে ছাদ বাগান। শুধু ফল বা শাক সবজির চাহিদা মেটাতে নয়, কেরানীগঞ্জের সৌন্দর্যও বাড়ছে এই ছাদ বাগানে।

আধুনিকায়নের ফলে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে কেরানীগঞ্জের সবুজের সমারহ। তবে সেই সমারহ চোখে পড়ে এখন বিভিন্ন বাড়ির ছাদে ছাদে। হারিয়ে যাওয়া সবুজ কেরানীগঞ্জ এখন চোখে পড়ে ছাদ বাগানে।

অপরিকল্পিত স্থাপনা ও রাস্তাঘাট নির্মাণের ফলে কমে যাচ্ছে উন্মুক্ত স্থান ও গাছ পালা। এতে দিন দিন চারপাশের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। উন্মুক্ত স্থান কমে যাওয়ার কারণে গাছপালা লাগানোর সুযোগ কম। এ অবস্থায় ছাদ বাগানের মাধ্যমে পরিবেশকে পাল্টে দেওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা।

চুনকুটিয়ার বাসিন্দা সালমা ফেরদৌসী জানান, প্রায় ২ বছর আগে শখের বসে তিনি শুরু করেন ছাদ বাগান। একটি একটি করে গাছের চারা সংগ্রহ করতে করতে ফুল, ফল ও সবজি মিলিয়ে তার ছাদ বাগানে প্রায় ২০০টির মতো গাছ রয়েছে। কোনো ধরনের রাসায়নিক কীটনাশক ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে তার বাগানে নানান জাতের মৌসুমী ফল ও সবজি হয়। বাগানের ফল সবজি তিনি নিজেও খান পাশাপশি আত্মীয়-স্বজনদের উপহার দেন। এতে তার পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা মিটছে। তার ছাদ বাগান দেখে আশে পাশের অনেকেই নতুন করে ছাদ বাগান করছে। এতে করে পরিবেশে অক্সিজেনের পরিমাণও বাড়ছে।

তিনি আরো জানান, ছাদ বাগান তৈরিতে তিনি উপজেলা কৃষি বিভাগ অথবা অন্য কারো সহযোগীতা নেননি। উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে যদি সহযোগীতা করা হতো তাহলে তার বাগানের পরিচর্যা আরো ভালো হতো বলে জানান এ গৃহিণী। 

শুভাঢ্যার বাসিন্দা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তরুণ রাহাত উল্লাহ। বাড়ির ছাদে গড়ে তুলেছেন বিশাল শাক-সবজির বাগান। রাহাত উল্লার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ছাদ বাগানের আইডিয়াটা আসে গত মার্চ মাসে লক ডাউন চলাকালীন সময়। করোনার সময় দীর্ঘ ছুটি থাকায় অবসর সময়টা গাছের চরিত্র, রাসায়নিক সারের বিকল্পসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করি এবং আমার বাসার ছাদে অল্প খরচে ছাদ বাগান করি, সেই সঙ্গে বন্ধু-বান্ধব ও পরিচিতজনদের ছাদ বাগান করার জন্য পরামর্শ দেই। বর্তমানে আমার ছাদে প্রায় ৩০ রকমের সবজি গাছ আছে যেগুলো থেকে নিয়মিত সবজিও পাচ্ছি। এখন আমি মূল ফোকাস দিচ্ছি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়। প্রচার প্রচারনায় যেসব ব্যানার ফেস্টুন ব্যবহৃত হয় তা অপচনশীল ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এই সব বর্জ্য দিয়ে ফুলের টব গাছের ড্রাম ও সবজির বেড তৈরি করছি। এর ফলে ছাদ বাগানের খরচ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

রাহাতের ন্যায় আরো অনেক তরুণ-তরুণী করোনাকালীন সময়ে ঘরে বসে না থেকে ছাদ বাগানের দিকে ঝুকছে। তবে শখের বসে বাগান করলেও ছাদ বাগান সম্পর্কে অনভিজ্ঞতা, সঠিক পরিচর্যা সম্পর্কে ধারণা না থাকায় অনেকেই সফল হচ্ছে না। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে সহযোগীতা পেলেই সফল হওয়া যাবে বলে অভিমত দিয়েছে পরিবেশবীদরা।

এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মো. শহিদুল আমীন জানান, কেরানীগঞ্জে যাদের ছাদ বাগান রয়েছে তারা আমাদের কাছে আসলে কিভাবে গাছের পরিচর্যা করতে হবে সেই বিষয়ে সহযোগীতা করি। কেউ যদি নতুন ছাদ বাগান করতে চায় তাকে কিভাবে বেড নির্মাণ করতে হবে। কিভাবে গাছের পরিচর্যা করতে হবে সেই বিষয়ে সর্বাত্তক সহযোগীতা করা হবে। ছাদ বাগান শুধু আমাদের চারপাশের পরিবেশ ও আবহাওয়াকে অনেক সুন্দর করে তোলে না এটি পুষ্টির চাহিদাও পূরন করে। তাই প্রতিটি বাড়ির ছাদে অবশ্যই গাছ থাকা উচিত।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা