kalerkantho

মঙ্গলবার । ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৪ নভেম্বর ২০২০। ৮ রবিউস সানি ১৪৪২

'বাড়ি লেইখা না দিলে গলা টিপ্পা মাইরা ফালামু, 'পুলিশ বাপ' কয়দিন বাঁচাইব'

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

২৩ অক্টোবর, ২০২০ ১৮:৫৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'বাড়ি লেইখা না দিলে গলা টিপ্পা মাইরা ফালামু, 'পুলিশ বাপ' কয়দিন বাঁচাইব'

ভূক্তভোগী বাবা জহিরুল হক

'বাড়ি লেইখা না দিলে গলা টিপ্পা মাইরা ফালামু। তোর পুলিশ বাপ কয়দিন বাঁচাইব' এসব বলে দুই ছেলে প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে। গালাগাল ও মারধর করছে। আমি তাদের অত্যাচার থেকে বাঁচতে চাই। বড় ছেলে প্রকৌশলী একরামুল হক সেলিম এবং ছোট ছেলে ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেন বৃদ্ধ পিতা গাজীপুর মহানগরের বোর্ডবাজারের কামারজুরি এলাকার মো. জহিরুল হক (৭০)।

বৃদ্ধ জহিরুল হক জানান, তিনি প্যান-প্যাসিফিক সোনারগাঁ হোটেলে চাকরি করতেন। ২০০৮ সালে কামারজুরি এলাকায় পাঁচ কাঠা জমি কিনে আধাপাকা বাড়ি তৈরি করে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। ২০০৮ সালে চাকরি থেকে অবসর গ্রহন করলে পেনশনের সমুদয় টাকা বড় ছেলে ব্যবসার কথা বলে কৌশলে আত্মসাৎ করে। এরপর থেকে শেষ সম্বল বাড়িটি লিখে নেওয়ার জন্য ছেলেরা তার এবং তার স্ত্রীর ওপর অত্যাচার শুরু করে।

অতিষ্ঠ হয়ে জহিরুল হকের স্ত্রী বাদী হয়ে ২০১৭ সালের ছেলেদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় বড় ছেলে জেল খাটেন। ২০১৮ সালে স্ত্রীর মৃত্যু পর থেকে বাড়ি লিখে না দেওয়ায় জহিরুল হকের উপর দুই ছেলেও তাদের স্ত্রীদের শারিরীক ও মানসিকভাবে নির্যাতন আরো বৃদ্ধি পায়। এক পর্যায়ে তিনি বাড়ি থেকে পালিয়ে ছোটো মেয়ে মর্জিনার গাজীপুর মহানগরীর গাছা এলাকার ভাড়া বাড়িতে আশ্রয় নেন। গত ২২ ফেব্রুয়ারি সেখানে গিয়েও ছেলেরা তাকে ও মেয়েকে মারধর করে। 

এ ঘটনায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গাছা থানায় একটি মামলা করেন। কিন্তু পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করেনি। কিছুদিন পর তিনি বাড়ি রেজিস্ট্রি করে দিয়েছেন এমন একটি জাল দলিল দেখিয়ে ছেলেরা তাকে মারধর বাড়ি থেকে বের করে দেন।

জহিরুল হক আরো জানান, তার দুরাবস্থার খবর কালের কণ্ঠসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তৎকালীন পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে থানা পুলিশ গত ২৪ জুলাই তাকে বাড়ি বুঝিয়ে দেয়। জাল দলিল সৃষ্টির অভিযোগে মামলা হয় দুই ছেলের নামে। এরপর ছোট ছেলে নিরব হয়ে গেলেও থেমে নেই বড় ছেলে প্রকৌশলী সেলিম।

তিনি বলেন, বড় কারখানায় বয়লার সরবরাহের ব্যবসা করে। কাঁচা টাকার মালিক। টাকা দিয়ে থানা কিনে নেওয়ায় পুলিশ তাকে ধরে না। জমি লিখে দিতে আমাকে ক্রমাগত হত্যার হুমকি দিচ্ছে। হুমকির ঘটনায় তিনি গত ১৭ অক্টোবর গাছা থানা একটি সাধারণ ডায়েরি করেছি। তবে পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। 

এ অবস্থায় ৭০ বছরের বৃদ্ধ অসহায় জহিরুল হক প্রসাশন ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে জীবনের এবং বসবাসের বাড়িটি ফেরত পেতে আবেদন করেছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা