kalerkantho

বুধবার । ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৫ নভেম্বর ২০২০। ৯ রবিউস সানি ১৪৪২

ভারি বৃষ্টিতে আমতলী-তালতলীর জনজীবন বিপর্যস্ত, কৃষকের মাথায় হাত

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি   

২৩ অক্টোবর, ২০২০ ১৮:১০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ভারি বৃষ্টিতে আমতলী-তালতলীর জনজীবন বিপর্যস্ত, কৃষকের মাথায় হাত

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ও তিন দিনের ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে বরগুনার আমতলী ও তালতলী উপজেলাসহ গোটা উপকূলীয় এলাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। স্লুইজগেট ও ড্রেনগুলো দিয়ে পর্যাপ্ত পানি নিস্কাশন না হওয়ায় জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে পৌরশহরসহ দু’উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। সর্বত্র পানিতে থৈ-থৈ করছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন শহর ও গ্রামে বসবাসরত ভূক্তভোগী হাজার হাজার মানুষ। বিশেষ করে বেড়িবাঁধের বাহিরে নদী তীরবর্তী এলাকাসমূহে বসবাসরতরা বেশী দুর্ভোগে পড়েছেন। তলিয়ে গেছে রোপা আমন ধানের ক্ষেতসহ মাছের ঘের, পুকুর ও পানের বরজ। ভারি বর্ষণ ও হালকা দমকা হাওয়ায় দুই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গাছ উপড়ে পড়ে ও লাইনের তার ছিঁড়ে বন্ধ রয়েছে দুই উপজেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ।

গত বুধবার থেকে ভারি বর্ষণ শুরু হয়ে তা আজ শুক্রবার পর্যন্ত অব্যহত রয়েছে। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করছে। বৃষ্টিতে কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন দু’উপজেলার অনেক শ্রমজীবী মানুষ। 

শুক্রবার আমতলী পৌর শহরসহ দু’উপজেলার কয়েকটি এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ও পানি নিস্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতায় পৌর শহরের ৩, ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের বেশ কয়েকটি স্থানের বাসিন্ধাদের বসতঘরগুলো তলিয়ে গেছে। পানিতে তলিয়ে রয়েছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে মফিজ উদ্দিন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সরকারি কলেজ, মফিজ উদ্দিন বালক মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বন্দর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুকুর ও খেলার মাঠ।

আমতলী পৌর শহরের ৩নং ওয়ার্ড মাজার রোড এলাকার বাসিন্ধা আ. সালাম বলেন, আমাদের বসত ঘরের চারদিকে বৃষ্টির পানি জমে থই-থই করছে। রাস্তায় উঠতে হলে ভিজে ও  জুতা হাতে নিয়ে উঠতে হয়।

দু’উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানিয়েছে, স্লুইজ ও কালভার্ট দিয়ে জমে যাওয়া বৃষ্টির পানি তেমন একটা নিস্কাশন না হওয়ায় দু’উপজেলার অধিকাংশ রোপা আমন ধান পানিতে প্লাবিত হয়েছে। রোপা আমনের মৌসুমে অনেক স্থানে ধানে শীষ ধরেছে। এমন ভারি বর্ষণে উপজেলার আবাদি আমনের ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়াও পানিতে তলিয়ে থাকায় শীতের আগাম রবি মৌসুমের চাষকৃত সবজি ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

হলদিয়ার টেপুরা গ্রামের কৃষব আবু সালেহ বলেন, ৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে পানের বরজটি আজ ৩ দিন ধরে ৩/৪ ফুট পানিতে তলিয়ে রয়েছে। তিনি আরো বলেন, এই ইউনিয়নের অধিকাংশ রোপা আমন ধানের ক্ষেত পানিতে তলিয়ে রয়েছে।

আমতলী উপজেলা কৃষি অফিসার সিএম রেজাউল করিম বলেন, রোপা আমনের মৌসুমে অনেক স্থানে ধানে শীষ ধরেছে। ২/১ দিনের দিনের মধ্যে পানি নেমে গেছে আমনের তেমন একটা ক্ষতি হবে না। তবে অতিবর্ষণে পানের বরজ ও ক্ষেতে থাকা রবি মৌসুমের সবজির ব্যাপক ক্ষতি হবে। এ বছর উপজেলায় প্রায় ৩০০ হেক্টর জমিতে রবি মৌসুমের সবজি আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫০ হেক্টর সবজি নষ্ঠ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দু’উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, অতিবর্ষণে উপজেলার অধিকাংশ মাছের ঘের ও পুকুর পানিতে তলিয়ে গেছে।  জলাবদ্ধতায় মাছের ঘের ও পুকুর অনেক ক্ষতি হবে। বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়ে প্রায় ৫ শতাধিক মাছের ঘের ও পুকুর থেকে মাছ বের হয়ে গেছে বলে ভূক্তভোগী মালিকরা তাদের জানিয়েছেন। বাধ্য হয়ে তারা মাছের ঘের ও পুকুরের চারদিকে নেটজাল দিয়ে মাছ আটকে রাখার চেষ্টা করতেছেন বলে জানা গেছে।

আমতলীর তারিকাটা গ্রামের মাছের ঘের মালিক আ. হাই তালুকদার ও তালতলীর কড়াইবাড়িয়া গ্রামের আজিজুল হক শিকদার জানান, অতিবর্ষণে ঘেরের পানি বৃদ্ধি পেয়ে তার ৪/৫টি মাছের ঘের থেকে অনেক মাছ বের হয়ে গেছে। তারা ঘেরের চারদিকে নেটজাল দিয়ে আছ আটকানোর চেষ্টা করছেন। এত তাদের লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষতি হবে।

আমতলী পৌরশহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও গত ৩ দিন ধরে ভারি বর্ষণ ও হালকা দমকা হাওয়ায় দু’উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ নেই বললেই চলে। বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনের উপড়ে গাছ উপড়ে পড়ে ও লাইনের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে বলে জানায় আমতলী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি’র সাব জোনাল অফিসের একটি সূত্র। 

তালতলী উপজেলার কড়াইবাড়িয়া বাজারের ব্যবসায়ী আবুল হোসেন তালুকদার ও হলদিয়ার লিমন হাওলাদার বলেন, গত ৩ দিন ধরে আমাদের বাজারসহ গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

এ বিষয়ে আমতলী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাব জোনাল অফিসের সহকারী প্রকৌশলী মো. জিয়া উদ্দিন তরফদার মুঠোফোনে বলেন, আমতলী পৌর শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও আমতলী ও তালতলী উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যাচ্ছে না। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনে গাছ পড়ে থাকা ও তার ছিঁড়ে যাওয়ার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে এ সমস্যা আর থাকবে না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা