kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

দাখিল পাস বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, এক মেশিনেই নির্ণয় করতেন ৪২ রোগ!

অনলাইন ডেস্ক   

২৩ অক্টোবর, ২০২০ ০৮:৪৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দাখিল পাস বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, এক মেশিনেই নির্ণয় করতেন ৪২ রোগ!

ছবি: পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর প্রতারক আকবর হোসেন।

নিজেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলে পরিচয় দিতেন মাদরাসা থেকে দাখিল পাস করা প্রতারক আকবর হোসেন। পাবনা শহরের প্রাণকেন্দ্র থানাপাড়ায় একটি বহুতল ভবনে গড়ে তুলেছিলেন কথিত চিকিৎসাকেন্দ্র। তার প্রতিষ্ঠানের একযন্ত্রে রোগীর হাত রেখেই ৪২ রোগ শনাক্ত করতেন, দিতেন ব্যবস্থাপত্র। এভাবে নিরীহ জনসাধারণকে প্রতারিত করা আকবরকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার রাত ১০টার দিকে পাবনা সদর থানার কাছে আটতলা ভবনের চারতলায় ইউনি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে তার বিরুদ্ধে পাবনা সদর থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।

প্রতারক আকবর পাবনা পৌর সদরের নয়নামতি মহল্লার মৃত শমসের আলীর ছেলে। তিনি পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়া দাখিল মাদরাসা থেকে দাখিল পাস করেন। গত একবছর ধরে এ প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন আকবর।

পুলিশ ও এ প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আকবর হোসেন একটি বহুতল ভবনের তিনটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিলেন। সেখানে তিনি ছিলেন কথিত সর্বরোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। নিজেকে এলোপ্যাথিক ও আয়ুর্বেদ চিকিৎসক বলে পরিচয় দিতেন। তিনি তার অফিসে কম্পিউটারের মাধ্যমে কথিত চিকিৎসা দিতেন। তার যন্ত্রে (স্ক্যানিং মেশিন) রোগীদের হাত রাখতে বলতেন। তিনি রোগীদের বলতেন- তিনি অন্তত ৪২টি রোগ তাৎক্ষণিক শনাক্ত করে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। সাধারণ রোগীদের সরলতার সুযোগ নিয়ে তিনি চিকিৎসা ও ওষুধবাবদ হাতিয়ে নিতেন রোগীপ্রতি আট থেকে ১০ হাজার টাকা।

এদিকে আকবর হোসেন তার ব্যবসা চালু করার জন্য আকর্ষণীয় বেতনের লোভ দেখিয়ে জামানত নিয়ে প্রায় অর্ধশত নারী-পুরুষকে নিয়োগ দেন তার প্রতিষ্ঠানে। তার নিয়োগ করা স্বাস্থ্যকর্মীদের বেতন ছাড়াও রোগী নিয়ে আসতে পারলে কমিশন দিতেন।

ছবি: প্রতারক আকবরের সেই ৪২ রোগ নির্ণয়ের মেশিন।

ইউনি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের স্বাস্থ্যকর্মী ফারজানা লাবণী জানান, প্রতিষ্ঠান মালিকের কথায় বিশ্বাস করে তিনি তার বেশ কয়েকজন স্বজন ও প্রতিবেশীকে চিকিৎসা গ্রহণের জন্য রাজি করিয়ে এই চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে আসেন। হাতের স্ক্যান করার জন্য এক হাজার টাকা ও পরে প্যাকেজ হিসেবে রোগনির্ণয় এবং ওষুধবাবদ আট থেকে ১০ হাজার টাকা করে নেয়া হয় তাদের কাছ থেকে।

ওষুধের কোর্স সম্পন্নের পরও কোনো রোগীই সুস্থ না হওয়ায় রোগীরা তাকে নানা প্রশ্ন করেন। তখন এ বিষয়ে তার মনে সন্দেহ হয় বলে তিনি জানান। একই ধরনের বাজে অভিজ্ঞতার কথা জানান প্রতিষ্ঠানটির স্বাস্থ্যকর্মী আবু তালেব, নাদিরা, আফরিন, শারমিন, সালমা, নাজমুল, আজিজুলসহ বেশ কয়েকজন।

প্রতিষ্ঠানটির সাবেক স্বাস্থ্যকর্মী মনিরা পারভীন বলেন, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকের ডাক্তারিবিদ্যা নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় চাকরি ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে নিয়োগ পাওয়া সবাই বিষয়টি বুঝতে পেরে তাদের বকেয়া বেতনও দাবি করেন। এতে আকবর হোসেন নানা টালবাহানা শুরু করেন। বিষয়টি তারা কয়েকজন সংবাদকর্মীকেও জানান।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কমকর্তা (ওসি) নাসিম আহমেদ জানান, ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ বুধবার রাতে ইউনি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের অফিসে অভিযান চালায়। প্রতিষ্ঠানের মালিক ও পরিচালক আকবর হোসেন চিকিৎসাবিষয়ক কোনো ডিগ্রির সনদ দেখাতে পারেননি। তার প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনের এমনকি স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার কোনো অনুমতিপত্রও দেখাতে পারেননি। তিনি মাদরাসা থেকে দাখিল পাস করেছেন বলে জানান। তাহলে তিনি নামের আগে কীভাবে ডাক্তার লিখে চিকিৎসা দিচ্ছেন তারও সদুত্তর দিতে পারেননি।

ওসি আরও জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে এ ঘটনায় সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জহুরুল ইসলাম বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে এবং ওই প্রতিষ্ঠানের সাবেক স্বাস্থ্যকর্মী জাকির হোসেন বাদী হয়ে সদর থানায় প্রতারণা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় আকবর হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা