kalerkantho

সোমবার । ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৩ নভেম্বর ২০২০। ৭ রবিউস সানি ১৪৪২

পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু

‘রায়হানের শরীরে ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতই বেশি’

সিলেটের কমিশনার গোলাম কিবরিয়াকে বদলি

সিলেট অফিস    

২৩ অক্টোবর, ২০২০ ০২:১৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘রায়হানের শরীরে ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতই বেশি’

সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হান নিহত হওয়ার ঘটনায় দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রতিনিধিদলের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. মো. শামসুল ইসলাম প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করেন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘নিহত রায়হানের শরীরে ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতই বেশি রয়েছে।’

রায়হান হত্যার ঘটনায় সমালোচনার মুখে গতকাল সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়াকে বদলি করা হয়েছে। তিনি আসছেন স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়নের (এসপিবিএন) উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) হয়ে। তাঁর স্থলে সিলেট মহানগর পুলিশের নতুন কমিশনার করা হয়েছে এসপিবিএনের ডিআইজি নিশারুল আরিফকে।

রায়হানের দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত : ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. মো. শামসুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে জানান, দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের সঙ্গে প্রথম প্রতিবেদনের সামঞ্জস্যহ পেয়েছে ফরেনসিক মেডিক্যাল বোর্ড। অতিরিক্ত আঘাতের কারণে রায়হানের মৃত্যু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতের জখমই তার শরীরে বেশি ছিল।’ তবে এর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি ফরেনসিক বিভাগের এই কর্মকর্তা।

গত ১১ অক্টোবর ভোরে পুলিশের নির্যাতনে রায়হান উদ্দিন (৩৩) নামের এক যুবক নিহত হন বলে অভিযোগ তোলেন তাঁর স্বজনরা। নিহত ওই যুবক সিলেটের আখালিয়ার নেহারিপাড়ার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। পুলিশের পক্ষ থেকে প্রথমে দাবি করা হয়, ছিনতাইকালে গণপিটুনিতে মারা গেছেন রায়হান। তবে তাঁর পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, পুলিশ ধরে নিয়ে নির্যাতন করে রায়হানকে হত্যা করেছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি করে সিলেট মহানগর পুলিশ। তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা পায়। এ ঘটনায় এরপর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একই সঙ্গে তিন পুলিশ সদস্যকে ফাঁড়ি থেকে প্রত্যাহার করা হয়। ঘটনার পর থেকে এসআই আকবর পলাতক রয়েছেন।

এদিকে রায়হান হত্যার ঘটনার রাতেই নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে সিলেট কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। পরবর্তী সময়ে মামলাটির তদন্তভার পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। গত ১৪ অক্টোবর মঙ্গলবার থেকে তদন্ত শুরু করে পিবিআই। পরদিন বৃহস্পতিবার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়ে রায়হানের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদন্ত করা হয়। এর এক সপ্তাহ পর গতকাল প্রতিবেদন দেওয়া হলো।

কমিশনার গোলাম কিবরিয়াকে বদলি : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার গোলাম কিবরিয়াকে বদলি করা হয়। একই প্রজ্ঞাপনে পুলিশের আরো ১৮ কর্মকর্তাকে বদলি/পদায়নের আদেশ দেওয়া হয়েছে। বদলির কারণ হিসেবে প্রজ্ঞাপনে ‘জনস্বার্থ’ উল্লেখ করে তা অবিলম্বে কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২০১৬ সালের ২৮ নভেম্বর এসএমপির কমিশনার হিসেবে গোলাম কিবরিয়াকে পদায়ন করা হয়।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব (পুলিশ-১) ধনঞ্জয় কুমার দাস। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নিয়মিত বদলির অংশ হিসেবে এসএমপির পুলিশ কমিশনারকে বদলি করা হয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা