kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

সেন্টমার্টিনে বেড়াতে গিয়ে আটকা পাঁচ শতাধিক পর্যটক, সমুদ্র উত্তাল

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার    

২৩ অক্টোবর, ২০২০ ০১:৪৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সেন্টমার্টিনে বেড়াতে গিয়ে আটকা পাঁচ শতাধিক পর্যটক, সমুদ্র উত্তাল

বৃহস্পতিবার  সকাল থেকে সেন্টমার্টিনে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়েছে। সাগর রয়েছে উত্তাল। আবহাওয়া অফিসের হুঁশিয়ারি সংকেত দেওয়ার পর বুধবার থেকে কক্সবাজার টেকনাফ সেন্টমার্টিন সমুদ্র পথে সকল ধরনের ট্রলার ও জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। এর ফলে কক্সবাজারের সাথে সেন্টমার্টিন দ্বীপের যোগাযোগ হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে বুধবার বা তার আগের দিন সেন্টমার্টিনে বেড়াতে যাওয়া প্রায় পাঁচ শতাধিক পর্যটক আটকে পড়েছেন।

এদিকে, বৃহস্পতিবার হুঁশিয়ারি সংকেত জারির পর সেন্টমার্টিন দ্বীপে অবস্থান করা পর্যটকদের কক্সবাজার ফিরে যেতে মাইকিং করা হয়েছিল। কিন্তু অধিকাংশ পর্যটক স্বেচ্ছায় সেন্টমার্টিন দ্বীপে রয়ে যান। 

সেন্টমার্টিন দ্বীপে বেড়াতে যাওয়া পর্যটকেরা অনেকেই বৃহস্পতিবার ফিরে আসার কথা ছিল। ৪ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত বলবৎ থাকায় আজ কক্সবাজার থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ কর্ণফুলী সেন্টমার্টিন যায়নি। টেকনাফ বন্দর থেকে এখনো পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়নি। তবে কক্সবাজার শহরের বিআইডব্লিউটিএর ঘাট থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ এমভি কর্ণফুলী এখন প্রতিদিন সেন্টমার্টিন দ্বীপে আসা যাওয়া করছে। এই জাহাজে সর্বোচ্চ ছয় শত যাত্রীর ধারণ ক্ষমতা রয়েছে। এ ছাড়া টেকনাফ থেকেও প্রতিদিন কিছু ট্রলার দিয়ে সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটক আসা যাওয়া করছে। বৃহস্পতিবার সমুদ্র বন্দরে  হুঁশিয়ারি সংকেত দেওয়ায় আজ থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকবাহী জাহাজ কিংবা ট্রলার চলাচল বন্ধ করে দেয় প্রশাসন।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান হাবিব খান জানিয়েছেন, বুধবার দুপুরে আবহাওয়া অফিস থেকে সমুদ্র উপকুলকে ৩ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হলে সেন্টমার্টিন দ্বীপে যারা বেড়াতে আসে তাদের জাহাজে করে কক্সবাজারে চলে যেতে মাইকিং করা হয়। কিন্তু অনেকেই সংকেত উপেক্ষা করে সেন্টমার্টিন দ্বীপে থেকে যায়। তিনি জানান, বর্তমানে দ্বীপে প্রায় পাঁচ শতাধিক পর্যটক বিভিন্ন রিসোর্টে রয়েছে। তারা নিরাপদে রয়েছে। তাদের কোনো সমস্যা হচ্ছে না। সাগরের পরিস্থিতি ভালো হলে তারা নিরাপদে কক্সবাজারে ফিরে যেতে পারবে। 

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, হুঁশিয়ারি সংকেত উপেক্ষা করে সেন্টমার্টিন দ্বীপে যে সব পর্যটক রয়ে গেছে তারা যাতে কোনো সমস্যায় না পড়ে সে ব্যপারে সেন্টমার্টিন পুলিশ বিজিবি কোস্টগার্ড ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আটকে পড়া পর্যটকদের সাশ্রয় মূল্যে থাকা এবং খাওয়ার ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। 

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ আব্দর রহমান জানিয়েছেন, ৪ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত জারি থাকায় জেলার সকল নৌ ও সেন্টমার্টিন সমুদ্র পথে ট্রলার ও জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কক্সবাজারে ৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের রেকর্ড করা হয়েছে। আজ শুক্রবারও নিম্নচাপের প্রভাবে কক্সবাজার জেলায় বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস থেকে বলা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা