kalerkantho

শুক্রবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৭ নভেম্বর ২০২০। ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

প্রতিবন্ধী বাবুল চন্দ্র বর্মণের সংগ্রামী জীবন

রোকনুজ্জামান মানু, উলিপুর (কুড়িগ্রাম)   

২২ অক্টোবর, ২০২০ ২১:৫৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রতিবন্ধী বাবুল চন্দ্র বর্মণের সংগ্রামী জীবন

জীবন সংগ্রামী অদম্য প্রতিবন্ধী বাবুল চন্দ্র বর্মণ (৫১)। স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে পৌরসভার কাচারীপাড়ার গোবিন্দ জীঁউ মন্দিরের দেড় শতক জায়গায় আশ্রয় হয়েছে তার। বাবা মৃত দীনু চন্দ্র চর্মণ, পেশায় কাঠমিস্ত্রি ছিলেন। ৮ ভাই-বোনের মধ্যে বাবুল তৃতীয়। অভাবের কারণে খুব বেশিদুর লেখাপড়া করতে পারেননি। কিশোর বয়সে হাল ধরেন সংসারের। ১৪ বছর বয়সে মাসে মাত্র ৩০০ টাকা বেতনে কাজ শুরু করেন একটি ছাপাখানায়। তৎকালীন ছাপাখানায় লেটারবক্স মেশিনে কাজ করলেও ১৯৯০ সালে মুদ্রণে আধুনিকায়ন হলে বেকার হয়ে পড়েন তিনি। উপায়ান্তর পেয়ে জীবন বাঁচার তাগিদে বাড়িতে বসে শুরু করেন বই বাঁধাই ও বিভিন্ন মিষ্টির দোকানের প্যাকেট তৈরির কাজ। সে সময় ছাপাখানার লেটাবক্সে কাজ করতে গিয়ে ডান পায়ের তলে ক্ষত সৃষ্টি হয়। কিন্তু পায়ের ক্ষত দিন দিন গভীরে চলে যায়। অনেক চিকিৎসা নেয়ার পরও কোনো কাজ না হওয়ায় ২০০৫ সালে তার ডান পা কেটে ফেলতে হয়।

স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে সংসার তার। চিকিৎসার খরচ মেটাতে ধার-দেনার টাকা আর স্ত্রী-সন্তানদের মুখে দুবেলা খাবার জোটাতে হিমশিম খান বাবুল চন্দ্র বর্মণ। জীবনে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। কিন্তু নানা প্রতিবন্ধকতাও তাকে হার মানাতে পারেনি। এক পা নিয়ে শত প্রতিকূলতা পেরিয়ে অদম্য শক্তিতে এগিয়ে চলছেন।  বই বাঁধাই আর প্যাকেট তৈরির সামান্য আয় দিয়েই জীবিকা নিবার্হ করছেন তিনি।

সরেজমিনে জেলার উলিপুর উপজেলার কাচারীপাড়াস্থ তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ঘরে বসেই বিভিন্ন মিষ্টির দোকানের প্যাকেট তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তিনি। তার কাজে সহযোগিতা করছেন স্ত্রী লতা রাণী। এ সময় কথা হয় বাবুল চন্দ্র বর্মণের সাথে।

তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, অভাবের সংসার, দুবেলা ঠিকভাবে খেতে পারি না। চলাচলের জন্য কিছুদিন আগে একটি এনজিও গাড়ির ব্যবস্থা করে দেন। সেটাতে করে বিভিন্ন মিষ্টির দোকানে গিয়ে প্যাকেট তেরির কাজ নিয়ে আসি। পরে বাড়িতে বসে সেগুলো তৈরি করি। সারাদিনে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা আয় হয়। যা দিয়ে কোন রকমে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে খেয়ে পড়ে বেঁচে আছি।

তিনি আরো বলেন, মেয়েটা এইচএসসিতে আর ছেলেটা পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। ছেলে-মেয়ের পড়ার খরচ ও ভরণপোষণ জোটাতে পারছি না।  আগামী দিনগুলো কিভাবে কাটবে এই চিন্তায় দিন কাটে তার।

পাবনা বনফুল সুইটসের ম্যানেজার মোসলেম উদ্দিন বলেন, বাবুল শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় যেহেতু তিনি অন্য কোনো কাজ করতে পারেন না, সে জন্য আমরা তাকে সব সময় প্যাকেট তৈরির কাজ দেই। 

উলিপুর পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল কাশেম বলেন, বাবুল চন্দ্র বর্মণ এত কষ্টের মাঝেও ছেলে-মেয়েদের পড়াশুনা করাচ্ছেন। সম্প্রতি তাকে প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ডের আওতাভূক্ত করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা