kalerkantho

শুক্রবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৭ নভেম্বর ২০২০। ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

তাড়াশে মসজিদের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

তাড়াশ-রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি   

২২ অক্টোবর, ২০২০ ২১:৫১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তাড়াশে মসজিদের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিবদমান দুটি পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ওই গ্রামে উভয় পক্ষের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় ঘটতে পারে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ।

জানা যায়, উপজেলার তালম ইউনিয়নের পাড়িল গ্রামে প্রায় ৩০ বছর পূর্বে পাড়িল জামে মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। সেই থেকে গ্রামের মুসুল্লিরা ওই মসজিদে নামাজ আদায় করে আসছেন। মসজিদের নিজ নামে ও সরকারি খাস খতিয়ানভূক্ত দুটি প্রায় ২২ বিঘা জলায়তনের পুকুর ও তিন বিঘা ফসলি জমি রয়েছে। যা থেকে আসা অর্থ দিয়ে মসজিদের উন্নয়ন কাজ করা হয়ে থাকে। কিন্তু সম্প্রতি সময়ে গ্রামবাসীরা দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পরস্পরের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

মোহাম্মদ আলীর অভিযোগ থেকে জানা যায়, মো. আব্দুল লতিফ, দশের আলী, আসাদ আলী ও খলিলুর রহমান পূর্বে মসজিদ কমিটিতে থাকা অবস্থায় প্রায় ৮০ লাখ টাকা আত্মসাত করেন। মসজিদের দুটি পুকুর ইজারার জন্য প্রকাশ্য চার লাখ ৭৩ হাজার টাকা দর ওঠার পরও বিবাদীরা যোগসাজসে তিন লাখ টাকায় ইজারা দেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও থানায় অভিযোগ দিয়েও তারা কোনো প্রতিকার পাননি।

অপরদিকে মো. আব্দুল লতিফের অভিযোগ থেকে জানা যায়, পাড়িল গ্রামের প্রভাবশালী  মোহাম্মদ আলী মোতা, খলিলুর রহমান, আব্দুস সালাম ভুট্ট, মোহাম্মদ আলী সরকার, আমির হোসেন, আবুল কালাম সরদার, আবু তাহের, আব্দুর রশিদ ফকির ও জামাল উদ্দিন নিজেদের ক্ষমতা খাটিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ পুকুর ও জমি থেকে আসা আয় যোগসাজশে আত্মসাত করে আসছেন। এ ছাড়া ২০১১-২০২০ পর্যন্ত ২টি পুকুরের লিজমানি প্রায় ৫০-৬০ লাখ, জমি থেকে আয়  তিন লাখ টাকা, পাড়িল গ্রামের কবরস্থান ও ঈদগাহ মাঠ থেকে গাছ বিক্রি আরো  দুই লাখ টাকা  আত্মসাত করেছেন। ফলে গ্রামবাসী এর প্রতিকার চেয়ে গণ স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর দাখিল করেছেন।

মসজিদেও অর্থ নিয়ে রশি টানাটানিতে মূল সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মুসুল্লিরা। পারিল গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক, হযরত আলী ও আশরাফুল ইসলাম বলেন, মসজিদেও দেয়ালে ফাটল ধরেছে। মুসল্লিরা ধসে পরার আতঙ্ক নিয়ে নামাজ আদায় করেন। উভয় পক্ষের রশি টানাটানিতে মসজিদেও  উন্নয়ন থমকে গেছে।

এ প্রসঙ্গে আব্দুর রশিদ ফকির বলেন, মসজিদের টাকা আছে তা দিয়ে মসজিদের পুরাতন ঘর ভেঙে নতুন করে পরিকল্পনা অনুযায়ী মসজিদ নির্মাণ করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

মো. আব্দুল লতিফ বলেন, মসজিদের কে সভাপতি, কে সেক্রেটারি তা গ্রামবাসীর অজানা। মূলত দলীয় প্রভাব খাটিয়ে মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে একটি চক্র হিসেব না দিয়ে লুটপাট করে খাচ্ছে।

অপরদিকে মোহাম্মদ আলী বলেন, গ্রামের একটি পক্ষ সুপরিকল্পিতভাবে মসজিদের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে নানাভাবে চক্রান্ত করে যাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেজবাউল করিম বলেন, উভয় পক্ষের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা