kalerkantho

সোমবার । ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৩০ নভেম্বর ২০২০। ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২

পালপাড়াগুলো এবার 'নিষ্প্রাণ'

'শরীরে করোনা নেই, তার পরও আমরা করোনাতে পঙ্গু'

গাইবান্ধা প্রতিনিধি   

২১ অক্টোবর, ২০২০ ১৮:৪১ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



'শরীরে করোনা নেই, তার পরও আমরা করোনাতে পঙ্গু'

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস এবার সংকুচিত করেছে দুর্গাপূজাকে। এবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আনুষ্ঠানিকতায় পূজা করতে হচ্ছে। কোনো উৎসব-আড়ম্বর নেই। দুর্গাপূজার মণ্ডপসংলগ্ন স্থানে বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠিত মেলার স্থানগুলোতেও এবার কোথাও কোনো মেলা বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে তার প্রভাব পড়ছে জেলার পালপাড়াগুলোতে। সারা বছরের অপেক্ষা এই মেলাগুলোকে কেন্দ্র করেই। কিন্তু ওই সিদ্ধান্তের কারণে প্রায় বেকার হয়ে পড়েছেন গাইবান্ধার মৃৎশিল্পীরা। বাইরে ঢাকের আবাহন। কিন্তু পূজামণ্ডপে তাদের যাওয়ার আগ্রহ নেই। কেউ কেউ তাদের বাড়িতে গিয়ে খেলনা কিনবেন এই আশায় ছোটখাটো কিছু খেলনা বানাচ্ছেন।

এ ছাড়া আগেই যারা দুর্গাপূজার মেলা উপলক্ষে বিভিন্ন মাটির খেলনা, তৈজসপত্র ও মেলার বর্ণালি নানা সামগ্রী তৈরি করে রেখেছিলেন, তাদেরও কপালে চিন্তার ভাঁজ। তাই এ বছর দুর্গোৎসবে ঝলমল করে ওঠা গাইবান্ধার রঙিন কুমারপাড়া বা পালপাড়াগুলো নিষ্প্রাণ ও বর্ণহীন হয়ে পড়েছে।

পাল কারিগররা জানান, এ বছর করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরু থেকেই গাইবান্ধার কুমোরপাড়াগুলো ঝিমিয়ে পড়ে। সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন বন্ধ রয়েছে। এজন্য কোথাও বৈশাখী মেলার আযোজন করা হয়নি। এই কারণে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে মেলার আয়োজনও নেই।

জেলার বড় পালপাড়া হিসেবে পরিচিত গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালি ও খোলাহাটি, গোবিন্দগঞ্জের মহিমাগঞ্জ পালপাড়াসহ বিভিন্ন পালপাড়ায় গিয়ে মৃৎশিল্পীদের মধ্যে  হতাশার ছাপ দেখা গেছে। 

মহিমাগঞ্জের পালপাড়ার সুকৃতি রাণী বলেন, 'শরীরে করোনাভাইরাস নেই। তারপরও আমরা সেই করোনাতেই একেবারে পঙ্গু। মেলা বসবে না। তাই কাজ বন্ধ করে বসে আছি। বড়দের না হোক, বাচ্চাদের নতুন কাপড় দিতে পারিনি। এই দুঃখ কই রাখি।'

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সম্পাদক দীপক পাল বলেন, গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ও খোলাহাটী ইউনিয়নে সাড়ে ৭০০ পরিবার মৃৎশিল্প ও নানা খেলনা তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। এবারের দুর্গা পূজা তাদের জন্য খুশির বার্তা আনছে না। তিনি বেকার মৃৎশিল্পীদের জন্য সরকারি প্রণোদণা দাবী করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা