kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

দুই সন্তানের সামনেই ধর্ষণ করা হয় ওই নারীকে

অস্ত্র ঠেকিয়ে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ, ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি গ্রেপ্তার

জরুরি সভা ডেকে দল থেকে বহিষ্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক, নোয়াখালী   

২১ অক্টোবর, ২০২০ ১৭:৪৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অস্ত্র ঠেকিয়ে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ, ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি গ্রেপ্তার

নোয়াখালীর চাটখিলে ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি মুজিবুর রহমান শরীফকে (৩০) কে বুধবার দুপুরে প্রবাসীর স্ত্রীকে (২৩) ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে চাটখিল থানা পুলিশ। বুধবার দুপুরে তাকে স্থানীয় ইয়াছিন হাজির বাজারসংলগ্ন এলাকা থেকে আটক করা হয়। এর আগে বুধবার ভোরে তিনি উপজেলার নোয়াখলা গ্রামের প্রবাসী নুর আলমের স্ত্রীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দুই শিশুসন্তানের সামনে ধর্ষণ করেন। তিনি নোয়াখোলা গ্রামের ওয়াছির বাড়ির রফিক উল্যার ছেলে এবং উপজেলার ৮ নম্বর নোয়াখোলা ইউনিয়ন (পশ্চিম) যুবলীগের সভাপতি। তার এ অনৈতিক কর্মকাণ্ডের খবর পেয়ে উপজেলা যুবলীগ বুধবার বিকেলে জরুরি সভা ডেকে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে।

চাটখিল থানায় ধর্ষিতার দায়ের করা অভিযোগ থেকে জানা যায়, বুধবার ভোর ৫টার সময় সন্ত্রাসী শরিফ একই বাড়ির প্রবাসী নুর আলমের ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়েন। ঘরের ভেতরে প্রবাসীর স্ত্রীর শয়নকক্ষে গিয়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে জিম্মি করে তাকে বিবস্ত্র করে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। ধর্ষিতার দুই শিশুসন্তান জেগে থাকলেও তাদের সামনেই তাদের মাকে ধর্ষণ করা হয়। এ সময় শরিফ বাহিনীর কয়েকজন সশস্ত্র ক্যাডার ঘরের চারপাশে পাহারা দিতে থাকে। তাদের ভয়ে বাড়ির লোকজন কেউ এগিয়ে আসেনি। পরে বিষয়টি তিনি বাড়ির লোকজনকে অবহিত করে চাটখিল থানায় নারী নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের হয়।

এলাকাবাসী জানায়, শরিফের বিরুদ্ধে থানায় ও কোর্টে ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, টেন্ডারবাজিসহ অনেক মামলা থাকলেও পুলিশ রহস্যজনক কারণে তাকে এত দিন গ্রেপ্তার করেনি। এর আগে তার বিরুদ্ধে থানায় ধর্ষণের অভিযোগ হলেও উপজেলা যুবলীগের একাংশ তার পক্ষ নিয়ে চাটখিলে মানববন্ধন করে এর প্রতিবাদ জানায়। নোয়াখোলা ইউনিয়নসহ চাটখিল দক্ষিণ অঞ্চলের শরিফ ও তার বাহিনীর সদস্যদের কাছে জিম্মি এলাকাবাসী। এদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না।

থানায় ধর্ষিতা সাংবাদিকদের জানান, তাঁর ঘরের দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে তাঁর দুই শিশুসন্তানের সামনে তাঁকে বিবস্ত্র করে ধর্ষণ করে শরিফ পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে থানায় মামলা হলে পুলিশ দুপুরেই তাকে গ্রেপ্তার করে। 

চাটখিল উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও চাটখিল পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ উল্লাহ জানান, খবর পেয়ে চাটখিল উপজেলা যুবলীগ বিকেলে জরুরি বৈঠক ডেকে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে। তিনি আরো জানান, দলে কোনো নীতিবিবর্জিত নেতার স্থান নেই, আমরাও এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। 

চাটখিল থানার ওসি আনোয়ারুল ইসলাম জানান, ধর্ষিতার অভিযোগের ভিত্তিতে দুপুরে অভিযান চালিয়ে শরিফকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধর্ষিতাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। শরিফের সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তার বিরুদ্ধে থানায় বিভিন্ন অপরাধে আটটি মামলা রয়েছে।

নোয়াখালীর চাটখিলের সংসদ সদস্য এ এইছ এম ইব্রাহিম জানান, ধর্ষকের কোনো দলীয় পরিচয় থাকতে পারে না। তিনি এই লোহমর্ষক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। একই সঙ্গে তাদের গডফাদারদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা