kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

বেনাপোলবাসীর ভরসা 'পল্লী চিকিৎসকরা'

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি   

২১ অক্টোবর, ২০২০ ১৫:৫৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বেনাপোলবাসীর ভরসা 'পল্লী চিকিৎসকরা'

করোনা মহামরির এই সময়ে বেনাপোল পৌরসভা তথা গোটা বেনাপোল পোর্ট থানার সকল ইউনিয়ন গ্রামের সাধারণ মানুষ সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই মহামারির সময়ে এই অঞ্চলে কোনো সরকারি হাসপাতাল যেমন নেই তেমনি সরকারিভাবে এই অঞ্চলে করোনা পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। এই চরম দুঃসময়ে এই অঞ্চলে করোনাসহ অন্যান্য নানাবিধ জটিল রোগে আক্রান্তদের একমাত্র ভারসা উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার এবং পল্লী চিকিৎসকরা।

করোনার এই সময়ে বড় বড় ক্লিনিক, হাসপাতাল এর বড় নামকরা ডাক্তাররা করোনার ভয়ে চিকিৎসা পেশা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন তখন পাড়া প্রতিবেশী, গ্রামবাসী, এলাকাবাসীদের ছেড়ে এই উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার ও পল্লী চিকিৎসকরা কোথাও পালিয়ে যায়নি। বরং তারাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনার প্রথমদিকের চরম পর্যায়ে রোগীদের পাশে থেকেছেন, এখনো আছেন। 

করোনা আক্রান্তদের শ্বাসকষ্টে পৌরসভা থেকে দেওয়া অক্সিজেন দিয়ে বাঁচিয়ে দেওয়া হচ্ছে অসংখ্য রোগীদের। এসব ডাক্তারদের সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি কোনো প্রণোদনা বা সরকারি সহযোগিতা।

জানা গেছে, বেনাপোল পৌর এলাকা তথা বেনাপোল ইউনিয়নভুক্ত গ্রামগুলোতে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার ও পল্লী চিকিৎসকগণ তাদের সেবামূলক কর্মকাণ্ডকে আরো বেশী গতিশীল করার জন্য তাদের একমাত্র সংগঠন 'বেনাপোল ডাক্তার এ্যাসোসিয়েশন' এর মাধ্যমে আরো সক্রিয় হয়েছেন। সংগঠনের অধীনে বর্তমানে প্রায় ৮০ জনের মত চিকিৎসক জনসাধারনের সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন।

বেনাপোলের গ্রাম্যডাক্তার মনিরুল ইসলাম বলেন, আমি নিজে একজন দরিদ্র গ্রাম্য চিকিৎসক হিসাবে অনেক রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দিয়েছি। নিজের পকেট থেকে ৩০ হাজার টাকার মূল্যের ওষুধ রোগীদের বিনা মূল্যে দিয়েছি। আরো ২০ হাজার টাকা অনুদান যোগাড় করে তাও দরিদ্রদের জন্যে ওষুধ সংগ্রহ করে বিতরণ করেছি।

বেনাপোলের গাজিপুর গ্রামের গ্রাম্যডাক্তার রুবেল হোসেন বলেন, করোনার শুরু থেকেই আমি এলাকার দরিদ্র রোগীদের শুধু করোনা নয, সকল ধরনের রোগের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিরলস চিকিৎসা দিয়ে আসছি। 

বেনাপোল পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটন বলেন, উচ্চবর্ণের ব্যবসায়ী চিকিৎসক আমাদের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার ও পল্লী চিকিৎসকদের ব্যঙ্গ করে হাতুড়ে ডাক্তার বলেন। এমনকি রোগীদের কেউ কেউ এরকম বিরুপ মন্তব্য করেন যা দুর্ভাগ্যজনক। আজ প্রমাণিত হয়েছে সাধারন জনগণ তথা দরিদ্র মানুষের একমাত্র ভরসার জায়গা উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার ও পল্লী চিকিৎসকবৃন্দ। এদের প্রশিক্ষণের জন্য অত্র এলাকায় একটি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার দাবি করছি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা